Home » মোদি পদবী মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি রাহুল গান্ধির

মোদি পদবী মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি রাহুল গান্ধির

সময় কলকাতা ডেস্ক,৫ আগস্টঃ মোদি পদবী মামলায় অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন রাহুল গান্ধি। চলতি বছরের ২৩ মার্চ মোদি পদবী নিয়ে মানহানি মামলায় সুরাট আদালত রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেসময় দুই বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল গান্ধি। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আরএস গাভাই এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রের বেঞ্চে রাহুল গান্ধির মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের তরফে সেই রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এরপরই সাংসদ পদ ফেরাতে তৎপর হয়ে ওঠে রাহুল গান্ধি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপি নিয়ে সংসদে যাবেন রাহুল গান্ধী। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন অধীর চৌধুরী। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পরই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল ফোন করেন অধীর চৌধুরীকে। এরপরই তিনি স্পিকারের কাছে যান। কংগ্রেসের বাকি সদস্যরাও সংসদের গেটে ‘ভি ফর ভিকট্রি’ স্লোগান দেন। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসে নেতা কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘গোটা দেশ লোকসভার স্পিকারের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এবার স্পিকারকেই যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যত শীঘ্র সম্ভব, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদের তকমা ফিরিয়ে আনা উচিত।’

আরও পড়ুন      ভারত-বাংলাদেশ বসিরহাট সীমান্তে আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা চালু হওয়ার তোড়জোড়

উল্লেখ্য,২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটকের কোলারে নির্বাচনী প্রচারে মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি বলেছিলেন, “সমস্ত চোরদের পদবিই মোদী হয় কেন? তা সে নীরব মোদীই হোক বা ললিত মোদী কিংবা নরেন্দ্র মোদী”। রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সুরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী মানহানির মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ মার্চ গুজরাটের সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ২ বছর কারাদণ্ডের সাজা দেন। সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল সুরাতেরই দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন রাহুল। রাহুল বলেছিলেন, তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে।

আরও পড়ুন    শুভেন্দুর বিরুদ্ধে করা যাবে না এফআইআর: সুপ্রিম আদেশ

তবে রাহুলকে দোষী ঘোষণা করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচএইচ বর্মার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি দায়রা আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য ফের দায়রা আদালতেই আর্জি করেছিলেন রাহুল। এরপরেই গুজরাটের বিজেপির এক প্রাক্তন বিধায়ক, বর্তমান সাংসদ সুরাটের আদালতে মামলা করেন। তাঁরও পদবি মোদি। তিনি আদালতে বলেন, মোদি পদবীকে রাহুল গান্ধি অপমান করেছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে সেই মামলারই চূড়ান্ত রায় দান করে সুরাটের আদালত। বিচারক রাহুলকে দু’বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনান। পাল্টা রাহুল বলেন, তিনি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে। তাঁকে নির্দেশ দেয়, জেলযাত্রার এই সাজা আপাতত ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হল। এই সময়ের মধ্যে রাহুলকে উচ্চতর আদালতে পিটিশন দাখিল করতে হবে। তার পরেই গুজরাট আদালতে সাজা মকুবের পিটিশন দাখিল করেন রাহুল।

About Post Author