Home » নতুন মরশুমে পুরনো জ্বরে আক্রান্ত ইস্টবেঙ্গল, ড্র করেই ডুরান্ড অভিযান শুরু লাল-হলুদের

নতুন মরশুমে পুরনো জ্বরে আক্রান্ত ইস্টবেঙ্গল, ড্র করেই ডুরান্ড অভিযান শুরু লাল-হলুদের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৭ অগস্ট: নতুন  মরশুমে ফের পুরানো রোগে আক্রান্ত ইস্টবেঙ্গল। রবিবার যুবভারতীতে ডুরান্ড অভিযান শুরু করে লাল হলুদ শিবির। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ আর্মি। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এল কুয়াদ্রাতের ছেলেরা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের এই দলটিকে ৫-০ গোলে পর্যদুস্ত করেছে কলকাতার অপর প্রধান মোহনবাগান। তাও মোহনবাগান খেলছিল তাঁদের রিজার্ভ দল নিয়ে। অপরদিকে এদিন ইস্টবেঙ্গলের নতুন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামেন। প্রথম দলে ছিল দুই স্প্যানিশ ফুটবলার সল ক্রেস্পো ও জ্যাভিয়ার সিভেরিও।

নিজেদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে এদিন যুবভারতীতে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার লাল হলুদ সমর্থক। প্রত্যেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তুলনামূলক কম শক্তিশালীর দলকে অনায়াসে হারিয়ে মরশুম শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল। লাল হলুদের প্রথম দলে একমাত্র মহেশ সিং ছাড়া বাকিরা নতুন। ফলে এখনও নতুন দলের ফুটবলারদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব প্রথম থেকেই চোখে পড়তে থাকে। ম্যাচের শুরু থেকে নজরকাড়া ফুটবল খেলেন মহেশ নাওরেম সিং।  ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেই নাওরেমের ক্রস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নতুন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জ্যাভিয়ার। কিন্তু অফসাইডের কারণে ৯৯ নম্বর জার্সি পরিহিত ফুটবলারটির গোল বাতিল হয়।

তবে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩২ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন আর এক বিদেশি সল ক্রেস্পো। নিশু কুমারকে বক্সের মধ্যে পিছন থেকে বাঁধা দিলে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি ক্রেস্পো। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে লাল হলুদের হয়ে ব্যবধান বাড়ান জ্যাভিয়ের সিভেরিও। খাবরার ক্রস থেকে হেড করে বল জড়িয়ে দেন জালে। নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল।বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে কুয়াদ্রাতের ছেলেরা। তবে  দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইস্টবেঙ্গল। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নিশু কুমার। যদিও কি কারণে তিনি লালকার্ড দেখেছেন তা স্পষ্ট হয়নি।

আরও পড়ুন     জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

দ্বিতীয়ার্ধে জ্যাভিয়েরের পরিবর্তে বোরহা ও শনিবার শহরে পৌঁছনো নতুন বিদেশী জর্ডন এলসেকে মাঠে নামিয়ে দেন লাল হলুদ কোচ। শেষের পরিবর্তনটি বুমেরাং হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেন জর্ডন। সেই সুযোগে একটি গোল পরিশোধ করে বাংলাদেশ আর্মি। গোলদাতা সাহাদর ইমন। দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিট সংযুক্তি সময় দেন ম্যাচ রেফারি। সংযুক্তি সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে এবার বক্সের মধ্যে মারাত্মক ভুল করে বসেন খাবরা। ফের বল চলে যায় বিপক্ষের পায়ে। জোড়ালো শট বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান মেহরাজ প্রধান। ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও, যেভাবে রক্ষণের ভুলে শেষ মুহূর্তের গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। তাতে আগামীদিনে কার্লেসকে রক্ষণ নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে বলেই মত ফুটবল মহলের।

About Post Author