Home » কেন বাড়ছে ভুয়ো চিকিৎসকের সংখ্যা? সমীক্ষা কী বলছে?

কেন বাড়ছে ভুয়ো চিকিৎসকের সংখ্যা? সমীক্ষা কী বলছে?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ আগস্ট :রাজ্য জুড়ে কি সাম্রাজ্য বিস্তার করছে ভুয়ো চিকিৎসকরা? নাকি সারাদেশেই বাড়বাড়ন্ত ভুয়ো চিকিৎসকদের? দুটি প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে সাম্প্রতিক চিত্র ও সমীক্ষার ভিত্তিতে দুটি ক্ষেত্রেই প্রশ্নটিকে নাকচ করা যাবে না। উত্তর সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।জলপাইগুড়িতে নন্দগোপাল রায় নামে এক ভুয়ো চিকিৎসকের হাতে রোগী মৃত্যু,মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের ভুয়ো ডাক্তার- প্রভৃতি একের এক ঘটনা সামনে আসর ঘটনায় ফের মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অস্বাস্থ্যকর পরিমণ্ডলের প্রশ্ন । বানারহাটে ইনজেকশন দিতেই রোগী মৃত্যু হয় আর চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তাঁর কাছে চিকিৎসাবিদ্যার কোনও শংসাপত্রই নেই।গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। খড়গ্রামে এক অ- চিকিৎসক কোনও প্রথাগত বিদ্যা ছাড়াই বছরের পর করে চলেছেন শল্য চিকিৎসা । এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্ধমানে হদিস মিলেছিল এক ভুয়ো চিকিৎসকের। বর্ধমানের খোসবাগানে চেম্বারের বাইরে ফলকে লেখা ছিল বড়সড় লম্বা ডাক্তারের ডিগ্রি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় সেই ভুয়ো ডাক্তারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। ওই ভিডিওতে সেই ডাক্তারকে দেখা যায়, নিজের ভুল স্বীকার করে হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে।কেন বাড়ছে এই ভুয়ো চিকিৎসকের  সংখ্যা?  দেশের পরিস্থিতি-ই বা কী? কী বলছে সমীক্ষা?

সমীক্ষা বলছে ভুয়ো ডাক্তারের সংখ্যাটি যে শুধু রাজ্যেই বাড়ছে, এমনটা নয়। দেশ জুড়ে বিস্তার লাভ করছে এই কোয়্যাক ডাক্তার বা ভুয়ো ডাক্তাররা। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু- এর একটি রিপোর্ট চমকে দিয়েছিল গোটা দেশবাসীকে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকের মোট ৫৭.৩ শতাংশ ভুয়ো। তাঁরা কোনও মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশুনাই করেননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর দেশ জুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এই রিপোর্টকে প্রাথমিকভাবে ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিলেও, পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই রিপোর্টকে মান্যতা দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা এর জন্য দায়ী আমাদের দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা। ২০২১-২২ সালে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত গ্রামীন স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতে মোট স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৮২৯ টি। এগুলির মধ্যে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯৩৫ টি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গ্রামীন এলাকায় অবস্থিত। এছাড়াও ৩১ মার্চ ২০২২ এর তথ্যানুসারে, দেশে মোট কার্যকরী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫৩ টি। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৯৩৫ টি প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র অবস্থিত গ্রামীন এলাকায়। শহরাঞ্চলে অবস্থিত ৬১১৮ টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র কেন্দ্র। ওই রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে, দেশে মোট কার্যকরী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৪ টি। যার মধ্যে ৫ হাজার ৪৮০ টি অবস্থিত গ্রামীন এলাকায় ও ৫৮৪ টি অবস্থিত শহরাঞ্চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রত্যেক এলাকায় জনসংখ্যা ও চিকিৎসকের অনুপাত হাওয়া উচিৎ ১:১০০০। কিন্তু বেশির ভাগ সময় দেখা যায় গ্রামের দিকে এই অনুপাতের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে না। কারণ, বর্তমান বাজারে ক্রমশ বাড়তে থাকা মেডিক্যাল কলেজগুলির খরচ। এরফলে চিকিৎসক হতে গেলে একজন ব্যক্তিকে খরচ করতে হয় প্রায় কয়েক কোটি টাকা। ফলে গ্রামে গিয়ে স্বল্প পারিশ্রমিকে সেবা করতে সিংহভাগ ডাক্তারের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। আর যদিও বা কোনও চিকিৎসক গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা করেন তাঁর পারিশ্রমিক হয় অনেকটা বেশি। সেই ব্যয় ভার গ্রামের গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষ বহন করতে পারেননা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাথাচাড়া দিচ্ছে কিছু অসাধু চক্র। ফলে, ভগবানরূপী এই ঠগেদের নিত্যদিনের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।।

About Post Author