সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ অগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। এহেন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জরুরী বৈঠক ডাকলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিনের এই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ সহ সমস্ত বিভাগের অধ্যাপকরাও। এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায়ও। এর আগে রাজভবনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। সে সময় অ্যান্টি-রাগিং কমিটি ও গঠন করা হয়। যা শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এছাড়াও যাদবপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি নিয়োগ করেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
আরও পড়ুন কোচবিহার মার্জার এগ্রিমেন্টকে হাতিয়ার করে আন্দোলনে গতি আনতে চাইছেন জীবন সিংহ?
উল্লেখ্য,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজ্য সরকারের ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যকে অবশ্যই মানতে হবে হাইকোর্টের নির্দেশ। কোনও ছাত্রের ব়্যাগিং করার অধিকার কারোর নেই।’ যদিও যাদবপুরে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। এই ঘটনার পরই রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয় জোর চর্চা। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। এরকম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্রেরই ব়্যাগিং করার অধিকার নেই। র্যা গিং রুখতে আর.কে রাঘবন কমিটি, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, ইউজিসি কারও নির্দেশই মানেনি রাজ্য। রাজ্য সরকারের অবশ্যই হাইকোর্টের নির্দেশ মানা উচিত। এটা ওদের দায়িত্ব।’

এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী সায়ন বন্দোপাধ্যায়। আইনজীবীর সেই আবেদনেই কার্যত সায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। র্যাগিংয়ের বিরোধিতায় জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জমও পড়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, র্যাগিংয়ের বিরোধিতায় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে আর.কে রাঘবন কমিটি যে গাইডলাইন তৈরি করেছে, তা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে গাইডলাইন কার্যকরের কথাও জানানো হয়েছে। মামলাকারীর মতে, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সুপারিশ হলে কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের দাপট কমবে।


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
বিজেপি ইতিহাস জানে না, ভারতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে : কাকলি ঘোষ দস্তিদার
জাল লটারির ব্যবসা, অভিযোগ দায়ের