সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ অগস্ট: যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এবার যাদবপুরে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে নামল যুবমোর্চা ও এবিভিপি। যাদবপুর কান্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি। এদিন দুপুর দুটো নাগাদ মিছিল শুরু হয় গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে থেকে। তবে, এদিনের এই মিছিলে পুলিশের অনুমতি না থাকায় মিছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পৌঁছানোর আগেই যাদবপুর থানার পুলিশ এই মিছিলে বাঁধা দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এবিভিপির বেশ কিছু কর্মী সমর্থক রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর যাদবপুর থানার পুলিশ তাদেরকে বাসে তোলেন। এই ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় যান চলাচল। চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় জরুরী বৈঠক রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের
এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবারই হস্টেলে থাকা আরও ৫ পড়ুয়াকে তলব করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ৯ আগস্ট রাতে হস্টেলে যখন মৃত ওই ছাত্রের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করা হয়, সেসময় এই পাঁচ পড়ুয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ৫ জনকে তলব করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই দুই আবাসিকের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ৯ তারিখ হস্টেলের বারান্দা থেকে খুব চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এতকিছুর পরও হস্টেল কতৃপক্ষ কেন কিছুই জানতে পারেননি,তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সবটা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এদিকে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বুধবার তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। জানা গিয়েছে, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল সৌরভ চৌধুরীই। গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের এ২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা ক্যাম্পাস। মৃতের পরিবার, থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই ঘটনার পিছনে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।

আরও পড়ুন যাদবপুরের পরে দুর্গাপুর, হোস্টেলে কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রের রহস্য মৃত্যু
জানা গিয়েছিল, মৃত্যুর আগে ওই পড়ুয়াকে র্যাগিং করা হয়। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারও করা হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রথমেই সৌরভ চৌধুরী নামে এক প্রাক্তনীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর একেএকে মনোতোষ ঘোষ, দীপশেখর দত্ত সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে সৌরভ, মনোতোষ, দীপশেখরকে পুলিশি হেফাজত শেষে আদালতে তোলা হয়। এরপরই আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী বলেন, এই ঘটনায় কিংপিন সৌরভই। এদিন আদালতের পুলিশ, ধৃতদের ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। ধৃতদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাঁদের মক্কেলদের পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁরা নির্দোষ। তাঁদের জামিন দেওয়া হোক। যদিও বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আলিপুর আদালত।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা