সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অবশেষে শনিবার থেকেই শুরু হল যাদবপুরে সিসিটিভি বসানোর কাজ। ওয়েবেল টেকনোলজি লিমিটেড থেকে সদস্যদের ১০ জনের টিম এসে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ৩ ধরণের মোট ২৯টি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনেশন ক্যামেরা। এই ক্যামেরা বসছে মোট ৬টি। এই ক্যামেরা দিয়ে ক্যাম্পাসে যে সমস্ত গাড়ি আসবে ও বেরোবে সেগুলির নম্বর প্লেট ক্যাপচার হবে,মানুষ জন কে ক্যাপচার করবে। ক্যামেরার মধ্যে থাকা সফটওয়্যার ওই নম্বরটি পাঠিয়ে দেবে ডেটাবেসে। সেখানে নম্বরটি সেভ হবে। এছাড়াও বসছে বুলেট ক্যামেরা। এই ক্যামেরা বসছে মোট ২১টি। এগুলি বসবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের সমস্ত গেটে। আর একটি ক্যামেরা থাকবে সার্ভার রুমে। যেখানে ক্যামেরাগুলি পরিচালিত হবে। দুর্গাপুজোর আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এমনকী র্যাগিং-এর অভিযোগও উঠেছে। কার্যত সেকারণেই গত ১৫ সেপ্টেম্বর যাদবপুরে নয়া অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি গঠন করা হল। জানা গিয়েছে, এই কমিটিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য থেকে শুরু করে আরও অনেকে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টি র্যাগিং কমিটিতে মোট ৩৩ জন সদস্য থাকছেন। সেইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টস-সহ প্রত্যেক সদস্যের ই-মেইল আইডি ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নতুন অ্যান্টি র্যাগিং হেল্পলাইন নম্বর, ইউজিসির হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইনে অভিযোগ জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত, শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় গত মাসেই অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবী সায়ন বন্দোপাধ্যায়। আইনজীবীর সেই আবেদনেই কার্যত সায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। র্যাগিংয়ের বিরোধিতায় জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জমাও পড়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সূত্রের খবর, র্যাগিংয়ের বিরোধিতায় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে আর.কে রাঘবন কমিটি যে গাইডলাইন তৈরি করেছে, তা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রাক্তন কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে গাইডলাইন কার্যকরের কথাও জানানো হয়েছে। মামলাকারীর মতে, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সুপারিশ হলে কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের দাপট কমবে।


More Stories
প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা
তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে ববি হাকিমের গ্রেফতারের দাবি