Home » ভারী যান ওঠায় গুজরাটে ভেঙে পড়ল সেতু, জলের স্রোতে ভেসে গেল ১০ জন

ভারী যান ওঠায় গুজরাটে ভেঙে পড়ল সেতু, জলের স্রোতে ভেসে গেল ১০ জন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: ফের উস্কে দিল গুজরাটের মোরবিতে ভয়াবহ সেতু বিপর্যয়ের স্মৃতি। মোরবিতে সেতু বিপর্যয়ের ঘটনার একবছরও কাটেনি। তারই মধ্যে রবিবার ফের বড়সড় দুর্ঘটনা গুজরাটে। প্রায় ৪০ বছরের পুরনো একটি ব্রিজ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নদীতে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর এলাকার ভোগাভো নদীর উপরে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় জলের স্রোতে ১০ জন ভেসে গিয়েছে। যার মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ জনের খোঁজে এখনও নদীতে তল্লাশি চলছে। উদ্ধার হওয়া ৪ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ভোগাভো নদীর উপর এই ব্রিজটি জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী সেতু ছিল। এই ব্রিজে দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত ভারী গাড়ি। রবিবার সন্ধ্যায় আচমকা ব্রিজটি ভেঙে পড়তেই তলিয়ে যায় বেশ কয়েকটি মোটরবাইক এবং ডাম্পার। যার কারণে কমপক্ষে ১০ জন তলিয়ে যান ভোগাভো নদীতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্রিজটি নতুন করে সংস্কারের পরিকল্পনা চলছিল, সেই কারণেই ভারী গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এসবের মাঝেই এদিন সন্ধ্যায় একটি ডাম্পার যাওয়ার সময়ই ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে কেন এত দিনের পুরনো ব্রিজ সংস্কার করা হয়নি।

আরও পড়ুন     বিদেশ সফরে পায়ে চোট মুখ্যমন্ত্রীর, ১০ দিন বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের

প্রসঙ্গত, গত বছর ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যাবেলায় ছট পুজোর প্রার্থনা চলাকালীন হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গুজরাটের মোরবি জেলার মাচ্ছু নদীর উপরের শতাব্দী প্রাচীন ঝুলন্ত সেতু। মেরামতির কাজের জন্য গত সাত মাস বন্ধ ছিল সেতুটি। প্রায় ২ কোটি টাকা দিয়ে মেরামতির পর গুজরাটি নববর্ষে, অর্থাৎ গত বছর ২৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। কিন্তু ছট পুজো উপলক্ষে ব্রিজটির উপর প্রায় ৫০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের চাপ নিতে না পেরেই ভেঙে পড়ে সেতুটি। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলে পড়ে যান সেতুর উপরে থাকা সমস্ত মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। যদিও ওই সেতু বিপর্যয়ের ঘটনার পরই নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে উঠে এসেছিল একের পর এক গাফিলতির অভিযোগ। প্রশাসন সূত্রে খবর,গত সাত মাস ধরে এই সেতুটি সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কারের জন্য অতি নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। ১৪৩ বছরের পুরনো এই সেতুটি সংস্থারের আগে কোনও পরিকাঠামোগত অডিট করা হয়নি বলেও আদালতে জানায় পুলিশ। এমনকী লোকধারণের ক্ষমতা বিবেচনা না করেই সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছিল।

About Post Author