সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর : বাঙালির আনন্দের উৎসব দুর্গাপুজো।প্রতিটি মানুষ পুজোয় স্বপ্ন দেখেন পুজোর চারটে দিন আনন্দে উদযাপনের। নিজেদের সামর্থ্য ও সাধ্যমত এই পুজোয় খরচ করে থাকেন মানুষ। অথচ যাদের ঘরে শরৎকালে পুজোর মরশুমে অর্থাগম হওয়ার কথা সেই মৃৎশিল্পীদের মুখে আষাড়ের কালো মেঘ। অন্য জেলার মত নদিয়ায় মৃৎশিল্পীদের রোজগার কমছে, স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো নেই নদিয়ার মৃৎশিল্পীদের।
দুর্গাপুজোর সংখ্যা বাড়লেও আয় বাড়ছে না মৃৎশিল্পীদের। সেই সঙ্গে আংশিক সময়ের শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাতে গিয়ে বাড়ছে আরও সমস্যা। জেলায় জেলায় কুমোরটুলীতে রং তুলির টানে শিল্পীর সৃষ্টির আনন্দ ফুটে উঠলেও তাঁরা সংকটে। নদিয়ার মৃৎশিল্পীদের সুখ-দুঃখের বারোমাস্যা আর কাটছে না।
নদিয়ার রাণাঘাটের কুমোরটুলি পাড়া।বর্ষার শেষ লগ্নে কর্মব্যস্ততা এই পাড়াতে। বর্তমানে দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সকলেই।প্রতিবারের মতই অসংখ্য প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে এখানে। মৃৎ শিল্পীদের দাবি, আগের মত লাভ হচ্ছে না তাঁদের। শিল্পীদের মতে, দক্ষ শ্রমিকের অভাবে দিন দিন দৈন্যদশা বাড়ছে কুমোরপাড়ার।তাঁদের দাবি প্রতিমার মাটি থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিষের দাম বেড়ে গিয়েছে । ফলে প্রথাগত প্রতিমার দিকেই ঝুঁকছে পুজো কমিটিগুলি।
পুজার সঙ্গে যুক্ত এক আয়োজক, রানাঘাট কুমোরটুলিতে এসেছিলেন প্রতিমার খোঁজে । তাঁর দাবি, প্রতিমার মূল্য বেশী।সেই সঙ্গে মানুষের চাঁদা দেওয়ার ইচ্ছার অভাবে পুজো করা বেশ সমস্যার।আর তার ফলে দৃষ্টিনন্দন কোনও প্রতিমা নিতে গেলে তাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
প্রভাব পড়ছে প্রতিমা নির্মাণের গুণগত দিকে। সেরা মানের প্রতিমা গড়ার মূল্য না পেয়ে হতাশাও গ্রাস করছে। বাধ্য হয়ে অন্য পেশার সঙ্গে তুলনা টানছেন মৃৎশিল্পীরা। কুমোরটুলিতে আংশিক সময় কাজ করতে আসা শ্রমিকদের দাবি অন্য পেশা তে পারিশ্রমিক বেশী ।তবু দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকা পেশায় পুজোর কাজের চাপ বেশী থাকায় এবারও কাজে লেগে আছেন তাঁরা। তবুও পেশায় টাকা না থাকলে মনের খোরাকও যে গৌণ হয়ে যায় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তাঁরা। রোজগার কমায় মন ভালো নেই তাঁদের।
তবুও মন্ডপে মণ্ডপে সৃজনশীলতার ছোঁয়াও হয়তো থাকবে। তবুও আলোর তলায় অন্ধকারের মতই নেপথ্যের শিল্পী যারা – সেই মৃৎশিল্পীদের ঘরে হয়তো থাকবে আঁধার। ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট আশা কে রাখে খবর তার?


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও