Home » রাজা রবি বর্মা : তাঁর চিত্রশিল্প, তাঁর প্রেস

রাজা রবি বর্মা : তাঁর চিত্রশিল্প, তাঁর প্রেস

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ২ অক্টোবর : ভারতীয় ইতিহাস ধরে রেখে ইউরোপীয় ধাঁচে ছবি একে ভারতীয় চিত্র জগতে এক বিরাট পরিবর্তন এনেছিলেন রাজা রবি বর্মা। ভারতের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চিত্রকরদের মধ্যে তিনি অন্যতম। উনবিংশ শতকের শেষভাগ থেকে বিংশ শতকের প্রথম দশকে তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর চিত্রকলা ও লিথোগ্রাফি তাঁকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যায়। চিত্রশিল্পে তাঁর অবদান মাথায় রেখেও বলা যায়  শিল্পী রাজা রবি বর্মা ও তার শিল্পের খ্যাতির পেছনে ত্রাভাঙ্কোরের রাজপরিবার তথা তৎকালীন  রাজা আইলিয়াম থিরুনাল রামা বর্মার (১৮৩২-১৮৮০) পৃষ্ঠপোষকতা। ২ অক্টোবর রাজা রবি বর্মার মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯০৬ সালে প্রয়াত হন তিনি।

রাজপরিবারের  শাসক আইলিয়াম থিরুনাল রামা বর্মা ১৮৬০খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত  রাজপদে ছিলেন আর এই সময়  “ভারতের মডেল রাজ্য” হিসেবে স্বীকৃতি পায় ত্রাভাঙ্কোর।আয়িলিয়াম থিরুনালের কথা রাজা রবি বর্মার  শিল্পকর্মের কথা বলতে গিয়ে  একযোগে উচ্চারণ করতে হয়।  ১৮৭৩ সালে ভিয়েনার শিল্প প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্র প্রদর্শিত হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠার আগে রাজা থিরুনাল তার এতটাই পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন যে প্রাথমিকভাবে রাজা রবি বর্মার শিল্পের অন্তরায় হয়ে ওঠেনি কিছুই।

রাজা রবি বর্মার চিত্রের মূল বিষয় ছিল হিন্দু দেব-দেবী বা ভারতীয় রমণীরা। রবি বর্মা দুষ্মন্ত শকুন্তলার কাহিনী  চিত্রে তুলে ধরার  জন্য তিনি প্রভুত সুনাম অর্জন করেন। ১৮৯৩ সালে চিকাগো শহরে  চিত্র প্রদর্শনীতে  তিনটি স্বর্ণপদক জয় করেন রাজা রবিবর্মা। খুব দীর্ঘজীবী ছিলেন না  রাজা রবি বর্মা। তবুও আজও তার চিত্রশিল্প অমর।

তবে চিত্রশিল্পের পাশাপাশি যে কারণে রাজা রবি বর্মা বিখ্যাত হয়ে থাকবেন তা মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে তাঁর মুদ্রন প্রেস বা ছাপাখানার জন্য। হাজার ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পাঁচ বছর পরে  এই প্রেস মহারাষ্ট্রের লোনাওয়ালার কাছে নিয়ে যান। এখানে মূলত মহাভারত, রামায়ণ এবং পুরাণের দৃশ্যেগুলি এবং বেশিরভাগ হিন্দু দেব-দেবীর চিত্র মুদ্রিত করা হত।  তাঁর প্রেস আর্থিক সুফল না দেখে দেনার দায়ে পড়েছিল যার ফলে তাঁকে প্রেসটি বিক্রি করে দিতে হয়। জার্মানির ইঞ্জিনিয়ার স্নেইচার প্রেসটির বাণিজ্যিক দিকের যথেষ্ট প্রসার ঘটালেও আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে, ১৯৭২ সালে, এক অগ্নিকাণ্ডে মুদ্রণ কারখানার  প্রচুর ক্ষতি হয়।  রবি বর্মার অনেক মূল মিথোগ্রাফিক প্রিন্ট ও ধ্বংস হয়ে যায়। তবুও চিত্রশিল্প ও ভারতে মুদ্রণ ব্যবস্থার কথা উঠলে রাজা রবি বর্মার উল্লেখ করতেই হবে।

About Post Author