Home » সচিন,লারা,পন্টিং, সেহওয়াগদের সঙ্গে এক আসনে কনওয়ে; কি রেকর্ড গড়লেন কিউয়ি তারকা? দেখে নিন

সচিন,লারা,পন্টিং, সেহওয়াগদের সঙ্গে এক আসনে কনওয়ে; কি রেকর্ড গড়লেন কিউয়ি তারকা? দেখে নিন

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ অক্টোবর: ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতীক্ষার অবসান। শুরু হল আইসিসির একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। গতবার এই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা হয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই জোড়া সেঞ্চুরি সাক্ষী থাকলো আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। দুটি সেঞ্চুরি এসেছে নিউজিল্যান্ডের দুই বেটারের ব্যাট থেকে। প্রথম সেঞ্চুরিটি করেছেন ব্ল্যাক ক্যাপ ওপেনার ডেভন কনওয়ে। আর দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রচীন রবীন্দ্র। আইসিসি একদিনের বিশ্বকাপের ১৩ তম সংস্করণে প্রথম সেঞ্চুরি করে নজির গড়েছেন দেবেন কনওয়ে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গতবারটি সংস্করণে প্রথম সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটারদের নাম…

ডেনিস অ্যামিস (ইংল্যান্ড, ১৯৭৫): আইসিসির ক্রিকেট বিশ্বকাপের এটাই ছিল উদ্বোধনী বছর। আয়োজক দেশ ছিল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ৭ জুন। উদ্বোধনী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত বনাম ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে শতরান করেন ডেনিস অ্যামিস। ১৪৭ বলে ১৩৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন অ্যামিস। তাঁর ওই ইনিংসের সৌজন্যে ভারতকে ২০২ রানে হারায় ইংল্যান্ড।

গর্ডন গ্রীনিচ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৭৯): দ্বিতীয় বারেও আয়োজক দেশ ছিল ইংল্যান্ড। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ৯ জুন। প্রথম দিনে বি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করে১৯১ রানের ভারতের লক্ষ্যমাত্রা দেয় ভারত। রান তাড়া করতে নেমে ৫১.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭৩ বল খেলে ১০৬ রানে অপরাজিত ছিলেন গর্ডন গ্রীনিচ। ওটাই সেবারের বিশ্বকাপের প্রথম শতরান।

অ্যালেন ল্যাম্ব (ইংল্যান্ড, ১৯৮৩): বিশ্বকাপের এই সংস্করণের আয়োজক দেশ ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলস। প্রটিহমযোগিতা শুরু হয়েছিল ৯ জুন। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে শতরান করেছিলেন অ্যালেন ল্যাম্ব। তাঁর সৌজন্যে প্রথমে ব্যাট করে ৩২২ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড।

জাভেদ মিয়াঁদাদ (পাকিস্তান, ১৯৮৭): প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা হল ইংল্যান্ডের বাইরে। যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ ভারত ও পাকিস্তান। ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১০৩ রান করেছিলেন পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ। সেটিই বিশ্বকাপের ওই সংস্করণের প্রথম শতরান।

মার্টিন ক্রো (নিউজিল্যান্ড, ১৯৯২): সেই বছর বিশ্বকাপ আয়োজনের যৌথ দায়িত্ব পেল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ২২ ফেবুরারি থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে অস্টেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো। ১৩৪ বল খেলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেন এই কিউয়ি ব্যাটার।

ন্যাথান অ্যাসলে (নিউজিল্যান্ড, ১৯৯৬): ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল ভারত, পাকিস্তান। এবার আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্ত হল শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপের ষষ্ঠ সংস্করণের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের ন্যাথান অ্যাশলে। ১৩২ বলে ১০১ রান করেছিলেন ন্যাথান। তাঁর সেঞ্চুরির সৌজন্যে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপরা।

সচিন তেন্ডুলকর (ভারত, ১৯৯৯): ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল ইংল্যান্ড। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ১৪ মে। তবে এই বছর উদ্বোধনী দিনে কোনও সেঞ্চুরি হয়নি। উদ্বোধনের বেশ কিছুদিন পর ২৩ মে ভারত মুখোমুখি হয় কেনিয়ার। ওই ম্যাচে ১০১ বলে ১৪০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন সচিন তেন্ডুলকর। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের সপ্তম সংস্করণের প্রথম শতরান।

ব্রায়ান লারা, (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০০৩): প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল আফ্রিকার কোনও দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও কেনিয়া এই তিন দেশে হয়েছিল বিশ্বকাপ। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ৯ ফেব্রুয়ারি। বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্রায়ান লারা। ১৩৪ বলে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন ক্যারিবিয়ান তারকা। তিনি ছিলেন ওই বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার।

রিকি পন্টিং (অস্টেলিয়া, ২০০৭): ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। ১৩ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল সেই বারের প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিন অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ডের। বিশ্বকাপের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন রিকি পন্টিং। ৯৩ বলে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক।

বীরেন্দ্র সেহওয়াগ (ভারত, ২০১১): ফের এশিয়া মহাদেশে বসেছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ১৯ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের। উদ্বোধনী ম্যাচেই ১৪০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ভারতের বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আর সেহওয়াগই সেই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটার।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে দিনের দ্বিতীয় সোনা ভারতের, স্কোয়াশে সোনা জিতলেন দীপিকা-হরিন্দর জুটি

অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া, ২০১৫): আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ১৪ ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ। উদ্বোধনের দিন দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ। যা ছিল সেবারের টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি। ১২৮ বলে ১৩৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

জো রুট (ইংল্যান্ড, ২০১৯): গতবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলস। টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল ৩০ মে থেকে। তবে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিটি আসে ৩ জুন। যেদিন মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৪ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন জো রুট। যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।

ডেভন কনওয়ে (নিউজিল্যান্ড, ২০২৩): চলতি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ একক ভাবে ভারত। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের চতুর্দশ সংস্করণ। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই অনবদ্য শতরান করলেন কিউবি ওপেনার ডেভন কনওয়ে। তাঁর ১২১ বলে ১৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসের সৌজন্যে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

About Post Author