Home » বিপর্যস্ত সিকিমে ফের লেক বিস্ফোরণের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি সিকিম প্রশাসনের

বিপর্যস্ত সিকিমে ফের লেক বিস্ফোরণের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি সিকিম প্রশাসনের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ অক্টোবর: রাতভর একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তার। লোনক হ্রদে ফাটল ধরতেই হড়পা বানের জেরে ভয়াবহ অবস্থা। বিপর্যস্ত সিকিমে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তিস্তা। তারই মধ্যে লাচেনের কাছে অবস্থিত সাকো চো লেকের বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেকোনও সময়ে এই হ্রদে ফাটল ধরতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিকিম প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও এই মুহূর্তে সিকিমে আসতে বারণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গন, পাকিয়ং ও গ্যাংটক সিকিমের এই তিন জেলা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেঙে গিয়েছে চুংথাম বাঁধ। এই বাঁধ ভাঙার কারণেই আরও প্লাবিত হয়েছে তিস্তা পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ।

সিকিমের প্রায় ২২ হাজার মানুষ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুংথামই। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশই জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কও। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে লাচেন ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হড়পা বানে ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ২২টি দেহ তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, হড়পা বানে রাজ্যের মোট ১৩টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। শুধুমাত্র মঙ্গন জেলাতেই ৮টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। গ্যাংটকে ৩টি সেতু ও নামচিতে ২টি সেতু ভেঙে গিয়েছে।

আরও পড়ুন    সোনা জয়ের এক কদম দূরে ভারত, বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে রুতুরাজরা

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও অবধি ২৪১১ জনকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। উত্তর সিকিমের লাচুং-লাচেনে এখনও পর্যন্ত আটকে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। রয়েছেন বাঙালি পর্যটকও। তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চালু করা হয়েছে হেল্প লাইন নাম্বার। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি হলে চপার নামানো হবে। ইতিমধ্যেই হেল্প লাইনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কোন কোন জেলার পর্যটকেরা আটকে রয়েছেন, তারও তথ্য তুলে ধরেছেন পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ট্যুর অপারেটরেরা।

এদিকে, বুধবার রাত থেকে ফের ধস নামতে শুরু করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশে। এটি সিকিমের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে গিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে উত্তর সিকিমের লোনাক লেকের জল তিস্তায় ঢুকতে শুরু করেছে। সিংটামের কাছে ইন্দ্রাণী সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এই অবস্থায় সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গতদের সব ধরনের সাহায্য করা এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং।

About Post Author