Home » তিস্তার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সিকিম, ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

তিস্তার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সিকিম, ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ অক্টোবর: মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত সিকিম সহ গোটা উত্তরবঙ্গ। একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তার। লোনক হ্রদে ফাটল ধরতেই হড়পা বানের জেরে ভয়াবহ অবস্থা। বিপর্যস্ত সিকিমে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তিস্তা। এহেন পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-এর সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন তিনি। এবার সিকিমের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে রাজ্যের বিপর্যয় খাতে আগাম ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুমোদন করল মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে রাজ্যের বরাদ্দ টাকা আগাম মঞ্জুর করেছেন। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম সাহায্য করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যাতে যথাযথ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায় সেদিকে নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সিকিমের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানোর জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করেছে। সেই কমিটির সদস্যরা শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করবেন। তারপর তাঁদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই আরও কেন্দ্রীয় সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিকিম প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও এই মুহূর্তে সিকিমে আসতে বারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর সিকিমের বিশেষ কয়েকটি স্থানে যাওয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিকিম সরকার। সিকিমের প্রায় ২২ হাজার মানুষ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুংথামই। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশই জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কও। ভেঙে গিয়েছে চুংথাম বাঁধ। এই বাঁধ ভাঙার কারণেই আরও প্লাবিত হয়েছে তিস্তা পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে লাচেন ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন       হাওয়া বদল! দক্ষিণবঙ্গে ফের ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ 

এখনও পর্যন্ত হড়পা বানে ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ২২টি দেহ তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, হড়পা বানে রাজ্যের মোট ১৩টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। শুধুমাত্র মঙ্গন জেলাতেই ৮টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। গ্যাংটকে ৩টি সেতু ও নামচিতে ২টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও অবধি ২৪১১ জনকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। উত্তর সিকিমের লাচুং-লাচেনে এখনও পর্যন্ত আটকে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। রয়েছেন বাঙালি পর্যটকও। ফের ধস নামতে শুরু করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশে। এটি সিকিমের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে গিয়েছে।

About Post Author