Home » বিপর্যস্ত সিকিমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬, নিখোঁজ বহু

বিপর্যস্ত সিকিমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬, নিখোঁজ বহু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ অক্টোবরঃ লাগাতার বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যের লাচেন উপত্যকায় চুংথাং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে তিস্তায় তৈরি হয়েছে হরপা বান। লোনার লেকের প্রাচীর ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে গ্রামে। বিপর্যস্ত সিকিমে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তিস্তা। এই হরপা বানের জেরে তুলিয়ে গেছে একাধিক সেনার গাড়ি। উত্তর সিকিমের সিংতামের কাছে তিস্তার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে সেনা ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর তিন দিন কেটে গেলেও বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। তিস্তা নদীর জলের স্রোতে ভেসে আসছে একের পর এক মৃতদেহ। সেনা জওয়ান সহ নিখোঁজ ১৪২ জন। সিকিমে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় পুরোদমে চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিকিম থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৬ জনের দেহ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩০ জনের দেহ। হড়পা বানে রাজ্যের মোট ১৩টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। শুধুমাত্র মঙ্গন জেলাতেই ৮টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। গ্যাংটকে ৩টি সেতু ও নামচিতে ২টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও অবধি ২৪১১ জনকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। উত্তর সিকিমের লাচুং-লাচেনে এখনও পর্যন্ত আটকে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। রয়েছেন বাঙালি পর্যটকও। ফের ধস নামতে শুরু করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশে। এটি সিকিমের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে চুংথাম বাঁধ। এই বাঁধ ভাঙার কারণেই আরও প্লাবিত হয়েছে তিস্তা পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে লাচেন ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন   ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

সিকিম প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও এই মুহূর্তে সিকিমে আসতে বারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর সিকিমের বিশেষ কয়েকটি স্থানে যাওয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিকিম সরকার। সিকিমের প্রায় ২২ হাজার মানুষ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুংথামই। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশই জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। সিকিমের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে রাজ্যের বিপর্যয় খাতে আগাম ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুমোদন করল মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে রাজ্যের বরাদ্দ টাকা আগাম মঞ্জুর করেছেন। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম সাহায্য করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যাতে যথাযথ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায় সেদিকে নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সিকিমের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানোর জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করেছে।

About Post Author