- সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ অক্টোবরঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই প্রথমবার রুজিরাকে তলব করেছিল ইডি। তবে, রুজিরা হাজিরা দেবেন কিনা তা নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। অবশেষে ইডির তলবে সাড়া দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথমবার হাজিরা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রায় সাড়ে ৮ ঘন্টা ম্যারাথন জেরার পর সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ ইডি দফতর থেকে বের হলেন অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, বুধবার ইডির তলবে সাড়া দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই একটি সাদা গাড়িতে চেপে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে গিয়েছিলেন রুজিরা। সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্স চত্বর।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নথিপত্র সম্পর্কেই রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করকর জন্যই সমন পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর। সেইসঙ্গে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করেন ইডি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ অক্টোবর লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেককে তলব করেছিল ইডি। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির দিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এসবের মাঝেই গত শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক জানিয়ে দেয়, ৩ অক্টোবর তিনি ইডির তলবে হাজিরা দিতে পারবেন না। কারণ, সেসময় তিনি দিল্লিতে ধরনার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। এসবের মাঝেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডিকে তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের মাঝেই এবার ইডির নজরে রেশন দুর্নীতি

গত বৃহস্পতিবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সৌমেন সেন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে এই মামলা। ইডির তদন্তের গতি নিয়েও এদিন বিচারপতি আদালতে প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অভিষেককে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। যদিও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা এবং অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী বিচারপতি সিনহা নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসার মিথিলেশ কুমার মিশ্রকে অবিলম্বে এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, মিথিলেশ মিশ্রকে বাংলায় কোনও তদন্তে নিয়োগ করা যাবে না। এসবের মাঝেই এবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ইডিকে বেঁধে দিল তদন্তের সময়সীমা। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ