সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ নভেম্বর: ফলক বিতর্কে নাম জড়িয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এসবের মাঝেই এবার বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল শান্তিনিকেতন থানায়। বেআইনি কাজ করার অভিযোগে এবার বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। যদিও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের তরফে থানায় অভিযোগ জানানো প্রসঙ্গে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অভিযোগ, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি হওয়া সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়াই উপাসনাগৃহ, ছাতিমতলা, শান্তিনিকেতন গৃহ-সহ মূল আশ্রম এলাকায় হঠাৎ করে অ-রাবীন্দ্রিক ফলক লাগায়। যা শান্তিনিকেতনের মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে এবং উপাসনা গৃহের শান্তি বিঘ্নিত করছে।

জানা গিয়েছে, শনিবার শান্তিনিকেতন থানার দ্বারস্থ হয় শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহ,মূল আশ্রম প্রাঙ্গন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি। তাঁর দেখাশোনার দায়িত্বে বিশ্বভারতী এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে পুরাতত্ত্ব বিভাগ। সবমিলিয়ে ১৫ দশমিক ৩ একর জায়গা, যার খতিয়ান নম্বর ১১২২৭। ট্রাস্টের বক্তব্য, তাঁদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ এবং অনুমতি না নিয়েই শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের জায়গার ফলক বসায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ৮ নভেম্বর মেয়াদ শেষ হচ্ছে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এরই মাঝে ছুটিতে রয়েছেন তিনি। মেয়াদ কি বৃদ্ধি পাবে, জোর জল্পনা শুরু হয়েছে শান্তিনিকেতনে।
আরও পড়ুন ফের হাওয়া বদল! পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটিয়ে হালকা শীতের আমেজ
যদিও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের থানায় অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগেই ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় বিশ্বভারতী। এরপরই সেখানে বিশ্বভারতীর আচার্য, অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম দিয়ে ফলক বসানো হয়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আশ্রমিকরা। আর সেই ফলকে নেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম! বিতর্ক অবস্থান প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে শান্তিনিকেতনে। অভিযোগও জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকেও। ফলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকায় প্রতিবাদে শান্তিনিকেতনের কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেটে মঞ্চ বাঁধে অবস্থান শুরু করেছে তৃণমূল।


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?