Home » বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের পর্যবেক্ষণকে সঠিক প্রমাণ করলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের পর্যবেক্ষণকে সঠিক প্রমাণ করলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সময় কলকাতা, ৮ নভেম্বর: “ক্রিকেট অনিশ্চয়তার একটি গৌরবময় খেলা। কেউ এটিকে পূর্বাভাসযোগ্য করে অনিশ্চয়তার আকর্ষণকে মলিন করতে পারবে না।” ৫ বছর আগে একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ করেছিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। দুই বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও দীপক মিশ্রের বেঞ্চের সেদিনের পর্যবেক্ষণকে ন্যায্যতা দিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। প্রায় একক দক্ষতায় দলকে জেতালেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার।  মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তানের। চলতি বিশ্বকাপ অভিযান হার দিয়ে শুরু করেছিল দুটি দল। তবে সময় যত গড়িয়েছে ততই নিজেদের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছে তারা।

আরও পড়ুন     AFC CUP: এএফসি কাপে ধাক্কা, বসুন্ধরার বিরুদ্ধে হার মোহনবাগানের

বিশ্বকাপের শেষ চারে নিজেদের জায়গা পাকা করার জন্য এই ম্যাচটি দুটি দলের কাছেই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিধান্ত নিয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৯১ রান তুলেছিল আফগানরা। সৌজন্যে ইব্রাহিম জার্দানের অপরাজিত ১৪৩ বলে ১২৯ রানের ইনিংস। ৮ টি চার ও ৩ টি ছয় দিয়ে নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন আফগান ওপেনার। একদিনের বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনও আফগান ক্রিকেটারের এই প্রথম শতরান। তাঁকে বিভিন্ন সময় যোগ্য সঙ্গ দেন রহমত শাহ, হাসমাতুল্লাহ শহীদি ও রশিদ খান। সাত নম্বরে নেমে ১৮ বলে ৩৫ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেন রশিদ। ২ টি চার ও ৩ টি ছয় আসে তাঁর ব্যাট থেকে। অজি শিবিরের হয়ে ২ টি উইকেট নেন জস হ্যাজেলউড। ১ টি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যাডাম জেম্পা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৮.৩ ওভারে মাত্র ৯৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার।

আরও পড়ুন   পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটিয়ে শহরজুড়ে উত্তুরে হাওয়ার আমেজ

এই পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জেতা তো দূরে থাক, শতরানের গণ্ডি পেরোনো নিয়ে তৈরি হয় সংশয়। নবীন উল হক, আজমাতুল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খানরা বল হাতে দাপট দেখাতে থাকেন। সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও প্যাট কামিন্স। দুজনে মিলে ২০২ রানের জুটি খেললেন। ব্যাট হাতে একদিকে যখন তাণ্ডব করলেন ম্যাক্সওয়েল। অপরদিকে উইকেট বাঁচিয়ে রাখার খেলা খেলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স। যদিও এদিন ম্যাক্সওয়েলকে জীবন দান করেন মুজিব উর রহমান। ব্যক্তিগত ৩৩ রানের মাথায় ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচ ফস্কান তিনি। তিনি যে ক্যাচ না ম্যাচটাকে ফস্কালেন তখনও বুঝতে পারেননি। ম্যাক্সওয়েলের ইনিংস থামল ব্যক্তিগত ২০১ রানে। আফগান বোলারদের নিয়ে ছেলে খেলা করলেন আইপিএলে বিরাট কোহলির এই সতীর্থ। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হলেন আফগান ক্রিকেটারেরা। মাত্র ৭৬ বলে শতরান করেন ম্যাক্সওয়েল।

যদিও এদিন পুরো সুস্থ ছিলেন না অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। পায়ে ক্র্যাম্প হওয়ায় মাঝে মধ্যেই খোঁড়াতে দেখা গেল তাঁকে। তবু অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে এগিয়ে নিয়ে গেলেন ইনিংসকে। ৪১ তম ওভারে মাঠেই শুয়ে পড়েন। পায়ের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। তবু হাল ছাড়েননি ম্যাক্সি। এই হাল না ছাড়া মনোভাবের জন্যই বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ অস্ট্রেলিয়া। একটা সময় দৌড়ে রান নিতে পারছিলেন না। বড় শট মেরেই ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান ম্যাক্সওয়েল। মাঠের এমন কোনও দিকেনেই শট মারতে বাকি রাখেননি তিনি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও যে ক্রিকেটে ছয় মারা যায় এদিন দেখালেন এই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার। আবার তাঁর সুইচ হিট থার্ড ম্যানের উপর দিয়ে বাউন্ডারিতে গিয়ে পড়ল। খুব প্রয়োজন হেঁটে হেঁটে রান নিচ্ছিলেন। নবীন, রশিদ বা নূর কারুর কাছে ম্যাক্সওয়েলকে ফেরানোর কোনও অস্ত্র ছিল না। শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ম্যাক্সওয়েল। তাঁর ১২৮ বলে ২০১ রানে অপরাজিত ইনিংস লেখা থাকবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায়। অপরদিকে ৬৮ বল খেলে ১২ রান করেন কামিন্স। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর তৃতীয় দল হিসেবে সেমিতে পৌঁছল ব্যাগি গ্রিনরা। অপরদিকে খাতায় কলমে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে না গেলেও সহজ অঙ্কটা আরও জটিল করে ফেলল আফগানরা।

About Post Author