Home » ফের ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল শাবক সহ ৩ হাতির

ফের ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল শাবক সহ ৩ হাতির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ নভেম্বর: ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল শাবক সহ তিনটি হাতির। সোমবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের রাজাভাতখাওয়ায়। শিলিগুড়িগামী মালগাড়ির ধাক্কায় হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে বলেই খবর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে আলিপুরদুয়ারের বক্সা টাইগার রিজার্ভের গভীর জঙ্গলে রাজাভাতখাওয়ার শিকারী গেট এলাকায়। রাজাভাতখাওয়ার শিকারী গেট পেরিয়ে ট্রেনটি কালচিনির দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় রেল লাইন পারাপার করছিল একটি হাতি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও দুটি হাতির শাবক। মালগাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনটি হাতির।    

আরও পড়ুন    ডিভিশন বেঞ্চে ধাক্কা রাজ্যের, বুধবার ধর্মতলায় সভা অমিত শাহর

হাতি মৃত্যুর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন বনদপ্তরের ডিএফডি ওয়েস্ট পারভীন কাশোয়ান। আসেন রেলের আধিকারিকরাও। দুর্ঘটনার পর থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত ঘাতক ট্রেনটি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে বনদপ্তরে আধিকারিকরা রেলের চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি দ্রুত গতিতে চলছিল কিনা, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় দুটি হাতির মৃতদেহ রেল লাইনের দুদিকে পড়ে থাকলেও একটি বাচ্চা হাতির দেহ রেল ট্রাকেই থেকে যায়। ট্রেনের ধাক্কায় ফের হাতি মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন বনদপ্তর। যদিও ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। হাতি মৃত্যু কমাতে যেখানে বন দফতর এবং রেল আধিকারিকদের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তারপরেও কীভাবে ট্রেনের ধাক্কায় ফের হাতির মৃত্যু হল, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ডুয়ার্সে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় গর্ভবতী একটি হাতির। জঙ্গলের পথে মালবাহী ট্রেনের যথেষ্টই স্পিড ছিল। যার জেরে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে পেট থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে গর্ভস্থ সন্তান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তঃসত্ত্বা হাতিটির। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বন দফতরের আধিকারিকরা। এরপরই ময়নাতদন্তের জন্য অন্তঃসত্ত্বা হাতিটির দেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা হাতি মৃত্যুর ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু করে বন দপ্তর। এরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বন দপ্তর। বন দপ্তরের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, ‘ এটি সাধারন কোনও দুর্ঘটনা নয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতের দিকে জঙ্গলের রাস্তায় মালগাড়ি চালিয়েছে রেল। আর ট্রেনটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে থাকার কারণে পেট থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে গর্ভস্থ সন্তান। গতি কত ছিল, তা জানতে রেলের কাছ থেকে ব্ল্যাক বক্স এবং লগবুক ডেটা চাওয়া হয়।’

About Post Author