Home » পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নেট জিরো প্রস্তাবনা ও ইস্টার্ন জোনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার্সের উদ্যোগ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নেট জিরো প্রস্তাবনা ও ইস্টার্ন জোনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার্সের উদ্যোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর :আজ থেকে ঠিক দু বছর আগের কথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন ৮ ডিসেম্বর টুইট করে বলেছিলেন , ‘আজ আমি ২০৫০ সালের মধ্যে শূণ্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের নির্দেশ দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছি।’ ২০৫০ সালের মধ্যে শূণ্য কার্বন নিঃসরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০% কার্বন দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০০% শূণ্য কার্বন নিঃসরণকারী যানবাহন চালনা প্রভৃতির নির্দেশমূলক একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিল। আর এখানেই নেট জিরো নির্গমন বা নেট জিরো এমিশন (net zero emission ) নিয়ে চৰ্চা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই লক্ষ্যেই ইস্টার্ন জোনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার্সের উদ্যোগে রবিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুন্দরবনে বৃক্ষ রোপন সহ বিভিন্ন পরিবেশের উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের মজ্জাগত করে ফেলেছে । কারণ, তাদের লক্ষ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। এবার ২৫ বছরে পড়ল এই অনুষ্ঠান, প্রতিবছর সমুদ্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষরা স্থলের মানুষের যাপনে উত্তরণ ঘটান । এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবেশের উন্নয়নজনিত ক্ষেত্রে স্বনামধন্য বক্তারা যোগ দিয়েছিলেন। মেরিন ইঞ্জিয়ানার্সদের পক্ষ থেকে নেট জিরো এমিশন বা নেট শূণ্য নির্গমনে পৌঁছনোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি কেবলমাত্র মেঠো প্রতিশ্রুতির জায়গায় না রেখে তা কার্যকর করার শপথের কথা বলেন ইস্টার্ন জোনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রেসিডেন্ট সৌমিত্র ঘোষ।

উল্লেখ্য, নেট-জিরো নির্গমন বা “নেট জিরো এমিশন ” অর্জন করা সম্ভব হবে যখন কার্বন অপসারণ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণের মাধ্যমে মানব ক্রিয়াকলাপের দ্বারা নির্গত সমস্ত নির্গমনকে ভারসাম্যহীন করা হয়। নেট জিরো অর্জনের জন্য একটি দ্বি-স্তরের পদ্ধতির প্রয়োজন হবে: সর্বাগ্রে, মানব-সৃষ্ট নির্গমন (যেমন জীবাশ্ম-জ্বালানিযুক্ত যানবাহন এবং কারখানা থেকে) যতটা সম্ভব শূণ্যের কাছাকাছি কমিয়ে আনতে হবে । অন্যদিকে,পরিবেশকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে , যা প্রাকৃতিক উপায়ে যেমন বন পুনরুদ্ধার বা সরাসরি বায়ু ক্যাপচার এবং স্টোরেজ (DACS) এর মত প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে , যা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি কার্বনকে অগ্নিভূত করে।

আরও পড়ুন ‘ জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত বৈধ’, সুপ্রিম রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্যারিস চুক্তির অধীনে, দেশগুলি উষ্ণতাবৃদ্ধিকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট), আদর্শভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) -এর নীচে সীমাবদ্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী বা গ্লোবাল জলবায়ুর প্রভাব যা ইতিমধ্যেই বর্তমান ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১.৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) উষ্ণায়নের সম্ভাবনা বা আশঙ্কা প্রকাশ করছে। বরফ গলানো থেকে বিধ্বংসী তাপ তরঙ্গ এবং আরও তীব্র ঝড় – প্রভৃতি ঘটনাবলী বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বৃদ্ধিকে কমানোর জন্য ক্রমশই বাধ্যতামূলক করে চলেছে। আর এখানেই গুরুত্ব নেট জিরো প্রোগ্রামের যার সঙ্গে নিজেদের অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ফেলেছেন সামুদ্রিক প্রযুক্তিবিদরা।

এছাড়াও সাম্প্রতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞান পরামর্শ দেয় যে উষ্ণতাকে সীমাবদ্ধ করা নির্ভর করে ২০৫০ এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন করার নেট জিরো অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেট জিরো প্রস্তাবনা সুপারিশ করে না যে সমস্ত দেশকে একই সময়ে নেট-জিরো নির্গমনে পৌঁছতে হবে।গুরুত্বপূর্ণভাবে, নেট জিরো নির্গমনে পৌঁছনোর সময়সীমা কার্বন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড এবং ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাসের মত অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য আলাদা। নন-CO2 নির্গমনের জন্য, কৃষি উৎস থেকে মিথেন – পর্যায়ক্রমে বের করা আরও কঠিন। আজ পর্যন্ত এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মাপকাঠি গুলির মধ্যে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া গেলেও , বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ধরে রাখার জন্য পরিবেশগত উদ্যোগের প্রয়োগ জনিত অগ্রগতি খুব ধীরে ধীরে ঘটছে। জাতিসংঘ লক্ষ্য করেছে যে বর্তমানে যে জলবায়ু নীতি রয়েছে, তা শতাব্দীর শেষের দিকে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির দিকে নির্দেশ করছে । নেট-জিরো লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য বিশ্বব্যাপী গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রধান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী দেশগুলি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৫ সালে ভুটানই প্রথম দেশ যারা নেট-শূণ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এখন ৯০টিরও বেশি দেশ, যা বিশ্বব্যাপী নির্গমনের প্রায় ৮০% প্রতিনিধিত্ব করে, নেট জিরো লক্ষ্যের আওতায় রয়েছে। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোচ্ছে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারসের ইস্টার্ন জোনাল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের পাখির চোখ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, যার অঙ্গ হিসাবে সুন্দরবনে বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভারসাম্যমূলক কার্যকলাপে এই সংস্থার শতাধিক সদস্য নিজেদের নিরন্তর ব্রতী রেখেছেন। তাঁরা ব্রতী রেখেছেন নিজেদেরকে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৃথিবীকে আরও সুন্দর এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে।।

#Netzero৩

আরও পড়ুন উপাচার্য নিয়োগের মামলা চালাতে খরচ দেবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, নির্দেশ আচার্য বোসের

About Post Author