Home » সার্কাসের দিন, উৎসবের দিন, রুচিশীল বিনোদনের দিন বারাসাতে

সার্কাসের দিন, উৎসবের দিন, রুচিশীল বিনোদনের দিন বারাসাতে

পুরন্দর চক্রবর্তী ও সুদীপ ঘোষ , সময় কলকাতা ,২৫ ডিসেম্বর : বড়দিন থেকে শুরু করে নতুন বছর শুরু হওয়া পর্যন্ত – উৎসবমুখর দিন কাটে বাঙালির। এরই ফাঁকে কেক,চার্চ প্রভৃতি অধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গে সার্কাস বাঙালি জীবনের অঙ্গীভূত হয়ে উঠেছিল দীর্ঘদিন ধরেই। শীত পড়লেই তাঁবু পড়ত সার্কাসের। চতুর্দশ শতকে  ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল সার্কাস। আধুনিক সার্কাসের দিন ভারতে শুরু ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে। বিগত দেড়শ বছর ধরে সার্কাসের পথ চলার মধ্যে এসেছে অনেক পরিবর্তন । বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় পড়ে এখনো কিছুটা ফিকে হয়েছে আকর্ষণ। সার্কাস এখন মূলত শারীরিক কসরতের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তারমধ্যেও পূর্ণ বিনোদনের ডালি সাজিয়ে হাজির হচ্ছে বেশ কিছু সার্কাস।

পথকুকুরদের একটু উষ্ণতার জন্য

বলা হয়, সার্কাস শিল্প কার্যত বিলুপ্তির পথে। একথাও বলা হয়  অনেকেই গল্প শুনেছেন সার্কাসের  । কিন্তু, দীর্ঘ প্রায় কয়েক বছর পর বাঙালির হারিয়ে যাওয়া বিনোদন ‘সার্কাস’ এর জমজমাট আসর  বারাসতে। বিভিন্ন পশুর রকমারি খেলা থেকে শুরু করে জীবন বাজি রাখা স্টান্ট। স্বাভাবিকভাবে পশুপাখির উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রযুক্তি ও মুঠোফোনের রমরমায় কিছুটা হলেও অস্তিত্ব সংকটে সার্কাসওয়ালাদের । কিন্তু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘুরে দাঁড়াতেও চেষ্টা করে। আর বিনোদনের নতুন মোড়কে নিজেদের ঢেকে নস্টালজিয়ার স্বাদ নিয়ে আমজনতাকে আনন্দ দিতে বারাসাতের দশ নম্বর ওয়ার্ডে পাইওনিয়ার পার্কের ময়দানে বসেছে গৌরী সার্কাস।  এক মাস চলবে গৌরী সার্কাস।সমস্ত ধরনের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তিনটি শোয়ের সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে টিকিটের দিকে। টিকিটের মূল্য যথাক্রমে ১০০ ,২০০ এবং ৩০০ টাকা।বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জোকার এবং রিং গার্লদের বিশেষ খেলা। যদিও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় পড়ে নিয়মের ঘেরাটোপে পশু-পাখি থাকছে না। তথাপি  দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখার  বিভিন্ন নিত্য নতুন খেলা  এবার থাকছে গৌরী সার্কাসে।

বড়দিন আর নিউইয়ারে বাঙালির কেক ও অনামী বেকারি শিল্পের দুঃসময়

সার্কাস নামটুকুর মধ্যে রয়েছে আলাদা জাদু, ফলে দর্শকের ভিড় লেগেই রয়েছে। সংস্কৃতির পীঠস্থান হলেও  রুচিসম্পন্ন বিনোদনের  আঁতুরঘরও বারাসাত। আর এখানে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবব্রত পাল শীতের মরশুমে দর্শকদের মনে উৎসবের আমেজ এনে দিতে চাওয়ার পক্ষপাতী। বড়দিন পড়ার ঠিক আগেভাগে  তাই এখন উৎসবের দিন, রুচিশীল বিনোদনের দিন, সার্কাসের দিন -বারাসাতে।

আরও পড়ুন ২৫ ডিসেম্বরকে বড়দিন বলার নেপথ্যে

About Post Author