Home » ২০২৩ : বাংলা জুড়ে বছর ঘুরে সেরা তেইশ

২০২৩ : বাংলা জুড়ে বছর ঘুরে সেরা তেইশ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ জানুয়ারি : শেষ আরও একটা বছর। চলতি বছরের একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনা ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ কেটেছে। কেউ রাজ্য রাজনীতির মঞ্চে রাজা হয়েছেন তো কেউ হয়েছেন ফকির।  বাংলা জুড়ে ২০২৩ সালকে ঘুরে দেখার ফাঁকে আর পুরনো ক্যালেন্ডার বদলে ফেলার আগে একঝলকে দেখে নেওয়া যাক বছরভর কী কী ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য।

১ নিয়োগে জুড়ল অভিষেকের লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস !

প্রভাবশালী যোগে অনুঘটকের ভূমিকায় কারা?

ঘটনা অনেক। অনুঘটক আরও বেশি। কয়লা থেকে গরু পাচার, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী থেকে পুরনিয়োগ হয়ে আপাতত রাজ্য রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে খাদ্যবণ্টন দুর্নীতি নিয়ে। কয়লা পাচারের তদন্ত সূত্রে তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ইডি-র জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁর স্ত্রী রুজিরা নারুলাকেও। একটা সময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিষেকের সঙ্গে বিনয়ের ‘সখ্য’ নিয়ে নানা কথা বলতেন। কিন্তু কয়লা পাচার মামলায় কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার পর অভিষেক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, বিনয়ের সঙ্গে শুভেন্দুর কথোপকথনের ‘অডিয়ো ক্লিপ’ তাঁর কাছে রয়েছে। ‌দরকারে তিনি সেটি আদালতে জমা দিতে পারেন। অভিষেকের সেই হুঁশিয়ারির পরে শুভেন্দুকেও আর সে ভাবে বিনয়ের নাম নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায় না। এবার কয়লা পাচারের বদলে ২০২২ সালের জুলাই থেকে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি। এই দুর্নীতিতেও অনেক ‘অনুঘটক’-এর ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় হুগলির বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা কুন্তলকে। তার তিন মাসের মধ্যেই মার্চ মাসে গ্রেফতার করা হয় আর এক যুব নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তলের সূত্রেই উঠে আসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। চলতি বছরে ধর্মতলায় শহিদ মিনারে একটি সভা থেকে অভিষেক বলেছিলেন যে, হেফাজতে থাকাকালীন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষদের তাঁর নাম বলতে ‘চাপ’ দেওয়া হয়েছিল। এর পর পরই কুন্তল দাবি করেন যে, অভিষেকের নাম বলানোর জন্য তাঁকে ‘চাপ’ দিচ্ছে ইডি-সিবিআই। এই নিয়ে কলকাতার হেস্টিংস থানা এবং নিম্ন আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান কুন্তল। যার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। পরে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে গ্রেফতার করা হয় ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে। তাঁকে গ্রেফতারের পরই তদন্তে উঠে আসে অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস্‌অ্যান্ড বাউন্ডসে’র নাম। ওই সংস্থায় এক সময় কাজ করতেন সুজয়। সেই সূত্রে এই মামলায় অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি এবং সিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অভিষেক-পত্নী রুজিরাকেও। তলব করা হলেও হাজিরা দেননি অভিষেকের বাবা, মা। অভিষেককে হিসেব দিতে হয় সম্পত্তির ! অনুঘটক অনেক, লিঙ্ক কোথা থেকে কোথায় !

২ সাগরদিঘি আবার সবুজ !

অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি কংগ্রেস ও সিপিএম। সাগরদিঘির পরিস্থিতি দেখে অন্তত তাই মনে হয়। তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার প্রয়াণে বছরের শুরুতেই সাগরদিঘিতে ফের নির্বাচন হয়। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বাম, কংগ্রেস জোট গড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের বিরুদ্ধে এক হয়ে সংঘবদ্ধ লড়াইয়ে নামে। মুর্শিদাবাদে বাম কংগ্রেসের লড়াই দীর্ঘদিনের। অনেক রক্তাক্ত ইতিহাস রয়েছে। সিপিএমের বিরুদ্ধে যেমন কংগ্রেসের লোকজনকে খুন করার ইতিহাস রয়েছে, তেমনই তার উল্টোটাও রয়েছে। তবে এসবের মাঝেই উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের আঁতাতে এসেছিল সাগরদিঘি মডেলের সাফল্য। আর এই সাফল্যকে সামনে রেখেই বিরোধীদের সামনে গোটা রাজ্যেই ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছিল সাগরদিঘি। বিরোধীরা দাবি করে যে একজোট হয়ে লড়াই করলে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করা সম্ভব৷ যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। মডেলের সাফল্যকে তিন মাসও ধরে রাখতে পারেনি বিরোধীরা। যাকে ঘিরে এই মডেল গড়ে উঠেছিল, সেই কংগ্রেস বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসই এখন তৃণমূলে। কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বায়রন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন৷ ফলে বাম-কংগ্রেসের সাগরদিঘি মডেলে পূর্ণচ্ছেদ পড়ে যায় তখনই। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিপুল গরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল।

৩ ‘অভিষেকের নবজোয়ার যাত্রা’

কতটা জোয়ার আনতে পারলেন দলে?

৫১ দিনের যাত্রা। সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথচলা। ১৩৫টি জনসভা, ৬০টি বিশেষ অনুষ্ঠান, ১২৫টি রোড শো, ৩৩টি রাতের অধিবেশন। ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ যাত্রা শুধু এই তথ্যের ওজন দেখানোর জন্য অভিষেক করতে নামেননি। বরং তৃণমূল বা বিরোধী সব পক্ষই এই কর্মসূচির দিকে নজর রেখেছিল একটা জিনিসই দেখতে, কাজের কাজ কতটা হল? ২৫ এপ্রিল অভিষেকের যাত্রা শুরু হয় উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে। শুরুর আগে থেকেই বিরোধীরা কখনও খোঁচা দিয়ে, কখনও অবজ্ঞার সুরে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সব শুনে অভিষেক বলেছিলেন, ‘‘এমন কর্মসূচি কেউ আগে কখনও করেনি। কেউ এমন কর্মসূচি করুক, তার পরে বাকি কথা শোনা যাবে।’’ ১৬ জুন কর্মসূচি শেষ হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে। ৫১ দিনের কর্মসূচি শেষে অভিষেক ফেসবুকে লেখেন, ”আমার এই রাজ্য গোটা দেশে একদিন প্রাগ্রসরের ভূমিকা পালন করবে— এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।” শৈশবে রাজনীতি করা বা করানো নিয়ে তর্কের অবকাশ যথেষ্ট। কিন্তু সব রাজনীতিবিদদেরই একটা রাজনৈতিক শৈশব থাকে। আর সব জীবনের মতোই এখানেও ক্রমশ পরিণত হওয়ার, আরও পরিণত হওয়ার চর্চা থেকেই যায়। অবিরাম চর্চা। এরই মধ্যে বিশেষ বিশেষ ঘটনা, বিশেষ বিশেষ সন্ধিক্ষণ এই পরিণতিবোধকে এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। অভিষেকের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ যাত্রা, গ্রামের পর গ্রাম চষে ফেলা কি তেমন কিছু ঘটিয়েছে? যদি ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তার স্বরূপ কোথায়? এর উত্তর দিয়ে গিয়েছে দিল্লির বুকে রাজ্যের বকেয়ার দাবিতে আন্দোলন, রাজভবনের গেটের সামনে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ধর্ণা, দলের মধ্যেই নবীন-প্রবীণদের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠা।

৪ গ্রাম-বাংলার ভোট: এবারে ‘মেরেছে’ কিন্তু ‘মারও খেয়েছে’

পঞ্চায়েত ভোট মানেই ছাপ্পা, বুথদখল, খুনোখুনি এই অভিযোগগুলো আসা সাধারণ ব্যাপার। তবে, এবারের পঞ্চায়েত ভোটটা বাকি পঞ্চায়েত ভোটগুলি থেকে খানিকটা আলাদা। হিংসা, খুনোখুনির ঘটনা ঘটে দিনভর। বাংলার ভোটের ‘রীতি’ মেনেই বিরোধীদের তরফে ওঠে বুথদখল, ছাপ্পা, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ। এমনকি, ভোটের আগেই ‘ভোট’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও। এবারের ভোট দেখে দুই অঙ্কে মৃতের সংখ্যা আর বহুমানুষের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। যে ভোটের পরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে তালা ঝোলান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চায়েত ভোটে ‘রাক্ষসতন্ত্রের’ উদ্‌যাপন চলছে বলে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদলের ‘দখলদারি’ হবে একপেশে। কিন্তু তেইশের পঞ্চায়েত ভোটের ময়দানে দেখা যায়, বহু জায়গায় পাল্টা মার খেয়ে পিছু হটে শাসক তৃণমূল। রাজ্যের অন্তত দু’টি এলাকায় তৃণমূলের লোককে ল্যাম্প পোস্টে বেঁধে প্রকাশ্যে পেটানো হয়। যা সাম্প্রতিক অতীতে অভাবনীয়! মৃত্যুর তালিকা তো দীর্ঘতর হয়ই। যুযুধান রাজনৈতিক পক্ষের পাশাপাশি হামলার শিকার হন ভোটকর্মীরাও। গণতন্ত্রের সৈনিক হওয়ার ‘লড়াইয়ে’ তাঁদের অনেকেই আহত হন। রাজ্য নির্বাচন কমিশন শনিবার ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ ভোটকর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানায়। তবে বাংলায় এমন ঘটনা নজিরবিহীন নয়। পঞ্চায়েত নির্বাচনের তথ্য এবং ইতিহাস বলছে, ২০০৩ সালে নিহত হয়েছিলেন ৭৬ জন, তার মধ্যে শুধু মুর্শিদাবাদেই ৪৫ জন। ২০০৮ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৬। দু’টি ভোটই হয়েছিল বামফ্রন্টের রাজত্বে। তৃণমূল জমানায় ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার বলি হয়েছিলেন ৩৯ জন এবং ২০১৮ সালে ২৯ জন। তার মধ্যে ভোটের দিনেই ১৩ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে নতুন কোনও নজির তৈরি করেনি এ বারের পঞ্চায়েত ভোট। বুথদখল, ছাপ্পা, বোমা বা গুলির মতো পরিচিত ছবির পাশাপাশি এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকের নতুন কৌশল দেখে বাংলা। অভিযোগ, ভোটদান শুরু হওয়ার আগেই ভোট হয়ে গিয়েছিল বুথে বুথে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সূর্য ওঠার আগেই। গভীর রাতে গিয়েই বিভিন্ন বুথের প্রিসাইডিং অফিসার এবং ভোটকর্মীদের বাগে এনেছে শাসকদলের বিশেষ বাহিনী। যাঁদের বড় অংশ ছিল বহিরাগত। খানিকটা ‘পরিযায়ী’ শ্রমিকদের মতোই। হাই কোর্ট ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেয়। জানায়, সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য রাখতে হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা। এটাও একটা কারণ ভোটে কারচুপির। মৃতরা কোন দলের, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রের উৎসবে এত রক্ত ঝরবে কেন! এর শেষ কোথায় এবং কবে, তা সকলের অজানা।

৫ এগরা বিস্ফোরণ

ছিমছাম বাড়ি। বিস্ফোরণের আগে পর্যন্ত বাড়িটিকে এক কথায় বলা যেত ‘সুন্দর’। বিস্ফোরণের অবশ্য সেটা আর বাড়ি নেই। ধ্বংসাবশেষ! উড়ে গিয়েছে জানালার কাচ। ঘরের খাট, আলমারি, চেয়ার-টেবিল— সব ভেঙেচুরে ছড়িয়ে গিয়েছে যত্রতত্র। পাশের বাড়ির অবস্থা আরও করুণ। রান্নাঘরে হাড়ি-বাসন পর্যন্ত বেঁকে একসা। কী হল? কী ভাবে হল? ভূমিকম্প না কি? এ সব বুঝতে ওই বাড়িগুলির বাসিন্দাদের বেশ কিছুটা সময় লাগে। বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ। গ্রেফতার কারখানার মালিক। কিছু দিনের মধ্যেই জামিন। বাইরে এসেই আবারও বাজির ব্যবসা। ফের বিস্ফোরণ, গ্রেফতারি, জামিন। ফের বাজির ব্যবসা! অভিযোগ, বেআইনি বাজির ব্যবসায়ীদের কাছে গোটা ব্যাপারটাই কার্যত জলভাত। আর সেই কারণেই একের পর এক বিস্ফোরণ এবং মৃত্যুর ঘটনার পরেও বদলায় না চিত্রটা। অগ্নিদগ্ধ মালিকের কিছুদিন পরেই মৃত্যু হয়। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তোলেন, কবে বদলাবে পরিস্থিতি? এগরায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের পরেও উঠেছে এই প্রশ্ন। জানা যায়, কয়েক বছর আগে গ্রেফতার হব কারখানার মালিক। কিন্তু ব্যবসা বন্ধ করেননি। এমন উদাহরণ কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও রয়েছে প্রচুর। কাছে এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলাদা গুরুত্ব থাকার কথা।

৬ ১ বছরে অন্তত দশ বার বিস্ফোরণ দত্তপুকুরে

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার চার মাসের মধ্যে আবারও এক বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এ বার ঘটনাস্থল কলকাতার অদূরে বারাসত লাগোয়া দত্তপুকুরে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাজি কারখানাটি তো বটেই আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মৃতের সংখ্যা নিয়ে সুনিশ্চিত ভাবে কিছু জানা না গেলেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বেশ কিছু দেহাংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আশপাশে। বিস্ফোরণকাণ্ডের নেপথ্য বাজি না বোমা কী ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। গ্রামের মানুষ জানিয়েছিলেন, দত্তপুকুরের মোচপোলে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জনের প্রাণ যাওয়ার পরে বেআইনি এই কারবার নিয়ে হইচই হয়। কিন্তু এর আগে একাধিক ছোটখাট বিস্ফোরণ ঘটেছে গ্রামে। জখম হয়েছেন কয়েক জন। বছরখানেকের মধ্যে বিস্ফোরণের সংখ্যাটা কম করে দশ। পঞ্চায়েত ভোটের আগে মোচপোল পশ্চিমপাড়ায় বিস্ফোরণ হয়েছিল বাজি তৈরির সময়ে। মুর্শিদাবাদ থেকে আসা এক শ্রমিক ঝলসে যান। ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের মানুষ জানায়, ওই শ্রমিক ভাড়া থাকতেন স্থানীয় আইএসএফ নেতা রমজান আলির বাড়িতে। কী ভাবে ঘটেছিল বিস্ফোরণ? জানা যায়, মোচপোল পশ্চিমপাড়ার পাশে বেরুনানপুকুরিয়া, নারায়ণপুর, কাঠোর, জালশুখা ও নীলগঞ্জের পাড়ায় পাড়ায়, বাগানে মতৈরি হয় বাজি। সেখানেও বিস্ফোরণ ঘটেছে এর আগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, সচরাচর বিস্ফোরণে জখম কাউকে নার্সিংহোম-হাসপাতালে পাঠানো হয় না। তা হলেই ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয় থাকে। গ্রামে যে চিকিৎসকদের আনা হয়, তাঁরা মূলত পল্লি চিকিৎসক। হাতে কিছু বেশি টাকা গুঁজে দিলে তাঁরাও এ সব কথা পাঁচকান করেন না। এগরার ঘটনার পর বেআইনি বাজির কারবার বন্ধে পদক্ষেপ করতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার পরেও কী ভাবে বিস্ফোরণে কাঁপল দত্তপুকুরের মোচপোল? প্রশ্ন ওঠে। দত্তপুকুরের মোচপোলে বিস্ফোরণের অভিঘাতের আঁচ এসে পরে রাজনীতির ময়দানেও। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, দক্ষিণ ২৪ পরগনের বজবজের পর উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর। আবারও বড় প্রাণঘাতি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে রাজ্যে। এই তিন জায়গার বিস্ফোরণস্থল বাজি কারখানা। তিন জায়গারই স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, ওই কারখানাগুলি বেআইনি তো বটেই, পাশাপাশি সেখানে আতসবাজির আড়ালে বিস্ফোরকও বানানো হত। যদিও তা তদন্তসাপেক্ষ।

৭ স্বপ্নমৃত্যুর বিনিময়ে কি চোখ খুলবে?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেল থেকে ‘পড়ে গিয়ে’ ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে র্যা গিংয়ের অভিযোগ তোলে পরিবার। সেই ঘটনা নিয়ে বেশ চর্চা হয় গোটা দেশেই। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নামে। একের পর এক প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়াকে গ্রেফতারও করা হয়। সেই তদন্ত এখনও চলছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেল থেকে ‘পড়ে গিয়ে’ ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে র্যা গিংয়ের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। এই গোটা ঘটনায় আরও একটি বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। আঙুল উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে ‘বেআইনি ভাবে’ থেকে যাওয়া প্রাক্তনীদের দিকে। ছাত্রদের একাংশের দাবি, হোস্টেলে ‘র্যা গিং’-এর নেপথ্যে রয়েছেন মূলত তাঁরাই।প্রশ্ন অনেক। উত্তরও অজানা নয়। কিন্তু সমাধানের সাহস কোথায়? কোথায় কর্তৃপক্ষের সেই সক্রিয়তা? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রর অস্বাভাবিক মৃত্যু নতুন করে সেই মূল প্রশ্নেই দাঁড় করাচ্ছে। যার সদুত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই। এই ঘটনার পরে মেন হস্টেলে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের নানা ঘটনা তুলে ধরেন বর্তমান ও প্রাক্তনদের অনেকে। সামনে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢিলেঢালা প্রশাসনিক অবস্থা। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব স্টুডেন্টস এবং মেন হস্টেলের সুপারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু কেন তাঁরা সক্রিয় হননি, সদুত্তর নেই। যাদবপুরে কোনও হস্টেলে সিসি-ক্যামেরা ছিল না। অথচ ইউজিসি র্যা গিং বিরোধী নির্দেশিকায় হস্টেলে তা বসানোর কথা বলা রয়েছে। অনেকের বক্তব্য, মেন হস্টেলে সিসি-ক্যামেরা থাকলে পড়ুয়ার মৃত্যু রহস্য অনেকটা পরিষ্কার হত।ক্যাম্পাসের অনেকের ব্যাখ্যা, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ হস্টেল-সহ ক্যাম্পাসে একটি ছোট ছাত্রগোষ্ঠী সব সময় সরব। কর্তৃপক্ষের একক সিদ্ধান্ত এখানে খাটে না।

৮ বারবার ঘোষিত কর্মসূচিতে তলব !

অভিষেককে আরও বেশি প্রচারে এনেছে ইডি-সিবিআই

যত বার তৃণমূলের ঘোষিত কর্মসূচি, তত বারই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব। যতবার হাজিরা দিয়েছেন, প্রতি বার দীর্ঘ এবং টানা জেরা। প্রতিবারই হাজিরা শেষে বেরিয়ে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র কড়া ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আক্রমণ। গত বেশ কয়েক মাস ধরে এটাই রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি জেরার পরেই ‘রাজনৈতিক গুরুত্ব’ বেড়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। বারবার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র তত্ত্ব। ‘দুশ্চিন্তাগ্রস্ত’ বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে অন্য কথা বললেও দলের অন্দরে আলোচনায় মেনে নিয়েছেন, এই ভাবে অভিষেককে আরও বেশি করে প্রচারে নিয়ে এসেছে ইডি-সিবিআই। প্রতি বারই অভিষেকের জন্য প্রচারের ‘মঞ্চ’ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। অনেকের মতে, তলবের দিন বাছাই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি কি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতারা বুঝতে পারছেন না? নবজোয়ার যাত্রায় বাঁকুড়ায় থাকাকালীন ১৯ মে অভিষেককে সমন পাঠায় সিবিআই। কর্মসূচি থামিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন অভিষেক। হাজিরাও দেন। ৮ জুন যখন অভিষেকের ‘নবজোয়ার’ নদিয়ায়, তখন ফের তাঁকে সমন পাঠায় ইডি। কিন্তু মে মাসের মতো জুনে কর্মসূচি থামিয়ে কলকাতায় ফেরেননি তিনি। সেপ্টেম্বরে ফের তাঁকে তলব করে ইডি। যে দিন দিল্লিতে শরদ পওয়ারের বাড়িতে ছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমন্বয় কমিটির বৈঠক। যে কমিটির অন্যতম সদস্য অভিষেক। দিল্লির সেই বৈঠকে না-গিয়ে অভিষেক সিজিও কমপ্লেক্সে জেরার মুখোমুখি হন। অক্টোবরে দিল্লিতে আন্দোলনের সময় তলব, রাজভবনে ধর্ণা চলাকালীন তলব। গত কয়েকমাসে বহুবার কেন্দ্রীয় এজেন্সি সমন পাঠায় তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে কখনো হাজিরা, আবার কখনও প্রত্যাখ্যান। হাজিরা দেওয়া-না দেওয়ার দাঁড়িপাল্লার কাঁটা সমান রেখেই এগিয়েছেন পরিণত অভিষেক।

৯ এসএসকেএম-এ ভুল চিকিৎসার শিকার খোদ মুখ্যমন্ত্রী!

একুশের বিধানসভা নির্বাচন। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই পায়ে চোট পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে প্লাস্টার ও পরে ব্যান্ডেজ নিয়েই ভোটের প্রচার পর্ব সেরেছিলেন। সেই ছবি এখনও চোখে ভাসে। তারপর এবছর জুন মাস। পঞ্চায়েত ভোটের আগে জলপাইগুড়ির মালবাজারে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার শেষে কলকাতা ফেরার কথা ছিল মমতার। খারাপ আবহাওয়ার দরুন জরুরি অবতরণ করতে হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারকে। ওই ঘটনার জেরে পা এবং কোমরে চোট পান মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা ফিরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষার পর সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, মমতার বাঁ পা এবং বাঁ দিকের হিপ জয়েন্টের লিগামেন্টে চোট রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি হাসপাতালে থাকতে চাননি। বরং চিকিৎসকদের পরামর্শ বাড়িতে থেকেই চলে তার চিকিত্সা। তারপর সেপ্টেম্বরে স্পেন সফর। সফর সেরে ফেরার পর জানা যায় বাঁ পায়ের হাঁটুতে চোট পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতায় ফিরে এসএসকেএমে শুরু হয় চিকিত্সা। তবে, এবারও বাড়িতে থেকেই পায়ের চিকিত্সা করান মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেসময়ই প্রায় বিরোধীরা রব তুলেছিল ৫৫ দিন নাকি তিনি নবান্নে যাননি৷ বিরোধীদের এ হেন অভিযোগ শুনে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর মূল দফতরে না এলেও এই সময় তাঁর যাবতীয় প্রশাসিনক দায়িত্ব তিনি সামলেছেন বলে জানান মমতা৷ জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কোনও বেতন নেন না তিনি। তাই রোজ রোজ নবান্নে আসার দায়ও নেই তাঁর। ৫০ দিন পর মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ নবান্নে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এসএসকেএমে ভুল চিকিত্সা হয়েছিল, সাংবাদিক বৈঠক করে সেকথা জানানে সংকোচ বোধ করেননি মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তাঁকে আক্রমণ শানাতে দেরি করেননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল সাইটে তিনি লেখেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের শিকার হয়ে ভুয়ো কাগজপত্র তৈরিতে বেশি মনোনিবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা। এসএসকেএম হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এসএসকেএম-এ রেফার কেস, ভুল চিকিত্সা, চিকিত্সায় গাফলতির অভিযোগ অনেক আছে। কিন্তু, ভুল চিকিত্সার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনায় তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। ছেড়ে কথা বলেননি বিরোধীরা।

১০ সমন, হাজিরা, প্রত্যাখ্যান, দলে নবীন-প্রবীণের সামঞ্জস্য

দাঁড়িপাল্লায় ভারসাম্য রেখে দিল্লির লড়াইয়ে অভিষেক

এবছর মার্চের শেষে কেন্দ্র বিরোধী বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধর্ণায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রথমে জানা গিয়েছিল তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ওই আন্দোলন করবেন ৷ পরে জানা যায় যে তৃণমূল নেত্রী হিসেবে কলকাতা রেড রোডে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে তিনি ধর্ণা দেবেন ৷ সেই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ডাক দেন। রাজধানীতে দুই দিনের প্রতিবাদ-ধর্ণা আন্দোলনের পরিকল্পনা করার সময় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদরা হয়তো আন্দাজ করতে পারেননি, তাঁদের পরিকল্পনার ফলাফল কতখানি বড় হতে চলেছে। শেষ অবধি যখন বলপূর্বক তাঁদের গ্রেফতারের সংবাদ শোনা যায়, বোঝা যায় সর্বভারতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসাবে তৃণমূল নেতৃবর্গের নম্বর খানিক বাড়ল। কৃষি ভবনের সামনে থেকে রাজধানীর পুলিশ টানাহেঁচড়া করে মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রমুখ প্রথম সারির নেতা-সহ ত্রিশ জনকে গাড়িতে তোলে। একে তো সরকার পক্ষ থেকে তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, নিয়মমাফিক এগোনোর পরও মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দাবি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারওপর তাঁরা শান্তিপূর্ণ ধর্ণায় বসার পর তাঁদের এ ভাবে বলপূর্বক সরানো। বিরোধী নেতাদের গৌরব এমন ঘটনায় বাড়ে বই কমে না। পশ্চিমবঙ্গে মহাত্মা গান্ধি গ্রামীণ কর্মসংস্থান যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ইত্যাদি প্রকল্পের প্রাপ্য বিরাট পরিমাণ টাকা আটকে আছে বলে রাজ্য সরকারের অভিযোগ। বারংবার অনুরোধ এবং দাবি জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্র থেকে টাকা আসেনি। রাজনীতির প্যাঁচে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের এই বঞ্চনার স্বরূপই মানুষের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন অভিষেক। হয়েছিলও তাই। বাংলার এই আন্দোলন দেখেছিল গোটা দেশ। অভিষেকের সঙ্গী ছিল বঞ্চিতরাও। অভিষেকের এই আন্দোলনের সময় দলনেত্রী ছিলেন অসুস্থ। কিন্তু বারবার অভিষেক জানিয়ে ছিলেন দলনেত্রীর নির্দেশে, তাঁর দেখানো পথেই এই আন্দোলন। অভিষেকের এই আন্দোলনে কালীঘাটের বাড়িতে বসে আড়ালে নজর রেখেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

১১ রূপান্তর এবং অভি-ঘাত !

দিল্লিতে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় দিল্লির বুকে দাঁড়িয়েই অভিষেক ঘোষণা করেছিলেন, দাবি আদায়ে বঞ্চিত মানুষকে নিয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের দুয়ারে যাবেন তিনি। রাজ্যে ফিরেই দিল্লির সেই আন্দোলনের আচঁ পৌঁছেছিল রাজভবনেও। রাজভবনে যান, কিন্তু দেখা পাননি রাজভবনের আবাসিকের। সিদ্ধান্ত নেন, দেখা না করে সেখান থেকে এক পাও নড়বেন না তিনি। যেমন কথা, তেমনই কাজ। দলের নবীন-প্রবীণ নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ধর্ণায় বসেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সাথ দিয়েছিলেন বঞ্চিতরাও। গত ৫ অক্টোবর থেকে রাজভবনের নর্থ গেটের অদূরে রেডক্রস প্লেসের উপর রাস্তায় মঞ্চ বেঁধে ধর্ণায় বসে তৃণমূল। সোমবার, ৯ অক্টোবর সন্ধ্যার কিছু পরে সেই ধর্ণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রাজ্যপালের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনার সাপেক্ষে। এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে। এই ধর্না-অবস্থান থেকে তৃণমূল কী পেল? উত্তর দেওয়া যায় দুটি শব্দেই, এক্সট্রিমলি ইমপ্যাক্টফুল! জোরালো অভিঘাত! ধর্ণা চলাকালীন মঞ্চের উপরে যা ঘটেছিল, তাকে একটি এবং একটিই শব্দে বর্ণনা করা যায়: রূপান্তর। ক্ষমতাসীন থেকে বিরোধীতে রূপান্তর। যুবনেতা থেকে নেতায় রূপান্তর। খানিক একান্তে, নিজ পরিবৃত্তে স্বচ্ছন্দ, খানিক দূরবর্তী এবং খানিক নির্লিপ্ত যুবকের ‘আমি তোমাদের লোক’-এ রূপান্তর। দলের বাইরে তো বটেই, ভিতরেও। মঞ্চে তৃণমূলের বড়-মেজো-সেজো নেতাদের ভিড়ে তিনি প্রায় ঢাকাই পড়ে থাকছিলেন অর্ধেক সময়। কিন্তু পাঁচ দিন পরে সেই দোহারা চেহারার যুবকই মঞ্চাসীন সকলের মাথা ছাড়িয়ে উঠলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রাপথের দিকে তাঁর হিতৈষী এবং তাঁর বিরোধী— সকলেই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন। অভিষেক নিজে ফ্ল্যাশব্যাকে দেখলে দিল্লির রাজঘাট থেকে কলকাতার রাজপথে তাঁর সাম্প্রতিকতম আন্দোলনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের মর্যাদা দেবেন বলেই মনে হয়। কারণ, গরিব মানুষের বকেয়া পাওনা আদায়ে এই আন্দোলনে নেমে তিনি রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে ঈপ্সিত অভিঘাতটি তৈরি করতে পেরেছেন। ওই সাতটা দিন নিশ্চয়ই তাঁর মনে থাকবে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে ফিরে এসে যখন তিনি বলছেন, ‘‘রাজ্যপাল আমাদের ওখানে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু আমরা এক ঢোক জলও খাইনি। উনি গরিব মানুষের পাওনা টাকাটা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমরা নিশ্চয়ই পরে গিয়ে চা-মিষ্টি খেয়ে আসব’’, তখন ভিড়ের মধ্য থেকে গর্জন উঠেছে। আর যখন তাঁর থেকে বয়সে প্রবীণ নেতারা মঞ্চে বক্তৃতা করতে উঠে তরুণ তথা যুবক নেতার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন, তখন সেই ভিড়ের চোখমুখ আরও চকচক করে।

১২ বালু গ্রেফতার !

২০২২ সালের ২২ জুলাই। সাতসকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সাড়ে ২৬ ঘণ্টা তল্লাশির পর গ্রেফতার করা হয়েছিল পার্থকে।২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সল্টলেকের জোড়া বাড়িতে সাতসকালেই তল্লাশি শুরু করে ইডি। প্রায় ২০ ঘণ্টা তল্লাশির পর গ্রেফতার করা হয় জ্যোতিপ্রিয়কে।দু’জনকেই যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন তাঁরা রাজ্যের একাধিক দফতরের মন্ত্রী। কিন্তু দু’জনেরই নাম জড়িয়েছে তাঁদের পূর্বতন দফতরের দুর্নীতিতে। দুজনের তৃণমূল সুপ্রিমোর পুরনো দিনের সৈনিক। পর পর দুজনেই এক এক করে শ্রীঘরে। বছরের শেষদিকে রেশন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাতে দলীয় সংগঠন দেখার দায়িত্ব কার্যত ছেড়ে রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময়ে মতুয়াদের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর সখ্য গড়ে তোলার পিছনেও জ্যোতিপ্রিয়ের ভূমিকা ছিল বলে দলের অন্দরে শোনা যায়।তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে এই জেলায় জ্যোতিপ্রিয়ই এক রকম দলের মুখ হয়ে ওঠেন। নেতা-কর্মী, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে তিনিই ছিলেন দলের তরফে শেষকথা। জেলার তৃণমূল নেতাদের মধ্যে এমনও শোনা যেত, দিদি বালুদার চোখ দিয়েই জেলাটা দেখেন। যে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার সমস্যা নিয়ে কথা হলে মুখ্যমন্ত্রীকে হামেশাই বলতে শোনা যেত, বালু ব্যাপারটা দেখে নিস। দীর্ঘ দিন ধরে দলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দাপটের সঙ্গেই সামলেছেন জ্যোতিপ্রিয়। এই পরিস্থিতিতে রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে তাঁর গ্রেফতারির ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধীরা লোকসভা ভোটে অক্সিজেন পায় বলে রাজনৈতিক মহলের মত। বালুর গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে জেলা সংগঠনে বড় ধাক্কা। বিভিন্ন সময়ে এই গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে দলনেত্রীকে। ইডির তল্লাশিকে ‘বিজেপির নোংরা খেলা’ বলে চিহ্নিত করেছেন মমতা।

১৩ রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত

পশ্চিমবঙ্গে জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধ চরমে উঠেছিল। টুইট, চিঠি, সর্বসমক্ষে সমালোচনা – সবই চলেছে তাল মিলিতে। তবে, বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ক্ষেত্রে তা হয়না ঠিকই। কিন্তু সংঘাত তো রয়েছেই। খানিকটা সময় লেগেছে, তবে বিরোধ বেঁধেছে। হাতেখড়ির অনুষ্ঠান থেকে সবকিছুতেই মমতা-বোসের সম্পর্ক ভালো মনে হলেও ধীরে ধীরে তা তলানিতে ঠেকেছে। কখনও উপাচার্য নিয়োগ আবার কখনও তাঁদের আচমকা অপসারণ, কখনও বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে দড়ি টানাটানি, কখনও বিল আটকে রাখা, কখনও সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ার হুঁশিয়ারি – এসব চলছে। রাজ্যপাল বোসের অ্যাকশনে নতুন সংযুক্তিকরণ হল বিভিন্ন ঘটনাস্থান নিজে গিয়ে পরিদর্শন করা, ঘটনার প্রকৃতি দেখে, স্বরূপ বুঝে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া। মানুষের মাঝে গিয়ে নিজেকে তাঁদেরই অংশ করে নেওয়া। প্রথম দিকে বিভিন্ন বিষয়ে নবান্নে-রাজভনের মধ্যে চাপা অসন্তোষ থাকলেও এখন তা বারবার প্রকাশ্যে আসে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে অপসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বৈধতা ঘিরে তরজা, পড়ুয়াদের ডিগ্রি অবৈধ বলা, আইনু পরামর্শ নেওয়া – সবটুকুই দেখছে বাংলা।

১৪ মহকুমা দিয়েই কি বাজিমাত?

অভিষেকের মাস্টারস্ট্রোক !

ধূপগুড়ি উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা উপনির্বাচনে জয় ও উত্তর খুঁজতে হলে খানিকটা পিছিয়ে জেটেড হবে। মহকুমা ঘোষণার দাবি দীর্ঘ দিনের। গত বিধানসভা ভোটের আগে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেই আশ্বাসও দিয়েছিলেন। গত সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে প্রাক-পর্বে ফের সেই দাবি ওঠায় অস্বস্তিতে পড়তে হবে না তো? এ নিয়ে খানিক চিন্তিতই ছিলেন শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব। উপনির্বাচনের প্রচারের শুরুতে বিজেপির পাল্লা ভারী থাকায় শঙ্কা বাড়ছিল দলের অন্দরে। এর পরেই গত ২ সেপ্টেম্বর ঠাকুরপাঠের জনসভা থেকে অভিষেক ধূপগুড়িকে মহকুমা ঘোষণা করার সময়সীমা বেঁধে দেন। জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধূপগুড়িকে মহকুমা ঘোষণা করা হবে। তার পর থেকেই তৃণমূলের প্রচারের পালে হাওয়া লাগে। শাসকদলের একাংশের দাবি, মানুষের মুখে-মুখে মহকুমার প্রচারে অনেকটাই লাভবান হয় দল। যার প্রতিফলন দেখা যায় ফলাফলে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি শহর এলাকায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল শাসক দল। এমনকি, উপনির্বাচনের প্রচারে শহরে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থাও খুব একটা সুবিধার ছিল না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ধূপগুড়ি শহর এলাকায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনের থেকে এই উপনির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। এই পরিস্থিতিতে শাসক থেকে বিরোধী—সকলেই মেনে নিয়েছে, মহকুমা ঘোষণাই তুরুপের তাস হয়েছে তৃণমূলের। বিজেপির হাত থেকে তৃণমূল ধূপগুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, দলের সেনাপতি হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল কার্যত মেঘনাদের মতো। এক দিন প্রকাশ্য সভা বাদ দিয়ে, গোটা উপনির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন নেপথ্যে। সময়ে সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সাংগঠনিক কৌশল ঠিক করেছেন। এক দিকে তিনি অঙ্ক কষে ছক বদলেছেন, অন্য দিকে তাঁর টিম মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছে। অনেকের মতে, এই দুইয়ের মিলিত ফলেই বিজেপির হাত থেকে ধূপগুড়ি তৃণমূলের দখলে আসে। অভিষেকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোন মমতা। নতুন মহকুমা হয় ধূপগুড়ি।

১৫ সিঙ্গুরের ইতি-কথা

সিঙ্গুর আন্দোলনকে একসময় সঙ্গী করে এ রাজ্যে বদলেছিল রাজনৈতিক ইতিহাস। বদলে গিয়েছিল সরকার। বাম জামানার পতন এবং ঘাসফুল জামানার সূচনা হয়েছিল যে সিংহ আন্দোলনের মাধ্যমে, সেই সিঙ্গুরই যেন বুমেরাং হয়ে ফিরল রাজ্য সরকারের কাছে। ২০০৬ সালের কথা, ক্ষমতায় ফিরে সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা তৈরির জন্য জমি দিয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। টাটাকে ১ হাজার একর জমি দেওয়া হয়। সম্মিলিত বিক্ষোভের মুখে সেই কারখানা শেষমেষ হয় না। তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরে টাটার কাছে জমি ফেরত চেয়ে পাঠায়। টাটা জমি দিতে রাজি হয় কিন্তু ক্ষতিপূরণ দাবি করে। সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি ছিল না। জল গড়ায় আদালতে। সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানার জন্য জমি দিয়েছিল বাম সরকার কিন্তু এই জমিতে কারখানা করতে না পারার মাশুল দিতে হবে তৃণমূল সরকারকে। এবছর ফের একবার উঠে আসে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। টাটা মোটরসকে ৭৫৬.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পোন্নয়ন নিগমকে এই নির্দেশ নির্দেশ সালিশি আদালত। এই পরিস্থিতিতে কী করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? কী হতে চলেছে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ?

১৬ মুখ্যমন্ত্রীর স্পেন সফর

টানা ১২ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের কালে তিনি একাধিক বার বিদেশসফরে গিয়েছেন লগ্নি আনতে। শেষ গিয়েছেন সাড়ে চার বছর আগে। তার পর এবছর সেপ্টেম্বরে আবার বিদেশসফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গী ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে স্বপ্ন পূর্ণ হতে চলেছে মহমেডানের, দুবাই থেকে আসছে লগ্নিকারী। লিগা কর্তারা কলকাতায় একটি অ্যাকাডেমি করতে সম্মত হন। কিশোর ভারতীতে সেই অ্যাকাডেমি হবে, এমন ঘোষণাও হয়। এদিকে, স্পেনে দাঁড়িয়েই এক অনুষ্ঠানে সৌরভ ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ-ছ’মাসের মধ্যে মেদিনীপুরে তাঁর দ্বিতীয় ইস্পাত কারখানাটি তৈরি হবে। স্পেন থেকে সৌরভের সেই ঘোষণার পর নিন্দকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বাংলার শিল্পের ঘোষণা কেন বিদেশ থেকে করা হল? কলকাতায় ফিরে নিন্দকদের কড়া জবাব দেন সৌরভও। এদিকে, তথ্যের অধিকার আইনে মুখ্যমন্ত্রীর স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের তথ্য চেয়ে শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ দফতরের কাছে চিঠি পাঠান শুভেন্দু। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীদের ‘সরকারি’ সফরের খরচও মানুষের কাছে প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়। অর্থসঙ্কটে ভোগা সরকারি কোষাগার থেকে কত টাকা সফর বাবদ খরচ হচ্ছে।

১৭ বিনিয়োগের প্রস্তাব যতটা, তার বাস্তবায়ন ততটাই?

বাণিজ্য সম্মেলনের ঘোষণার তুলনায় বাস্তবে লগ্নির পরিমাণ অবশ্য আরও নগণ্য। সদ্যসমাপ্ত চতুর্থ বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলনে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার লগ্নি প্রস্তাব এসেছে বলে সম্মেলন মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, গত তিন বছরে যে প্রস্তাব এসেছিল, তার ৫০% বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী রাজ্যে গত তিন বছরে লিখিত লগ্নি প্রস্তাব জমা পড়ে ২৬ হাজার ৬৩০ কোটি। বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হ ৬৯৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ লিখিত প্রস্তাবের ২৬.১০% লগ্নি বাস্তবায়িত হয়েছে।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে ‘পাখির চোখ’ করেই মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। নিউটাউনের বিশ্ব বঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্মেলনে থাকার কথা মুকেশ অম্বানী, নিরঞ্জন হীরানন্দানি, সজ্জন জিন্দল, হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা-সহ দেশের প্রথম সারির শিল্পপতিদের।এই বাণিজ্য সম্মেলনের আগে বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যেই গত সেপ্টেম্বরে স্পেন ও দুবাই সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। স্পেনীয় ও মরুদেশের বণিকমহলের সামনে বাংলায় বিনিয়োগের যে নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে গত এক দশকে, তা তুলে ধরা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। দেশের প্রথম সারির শিল্পপতিদের একটি দলও মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছিল। তারাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ ও নতুন পরিসরের কথা তুলে ধরেছিল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং দুবাইয়ে।যদিও বিরোধীদের সমালোচনা, রাজ্যে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় বড় কোনও শিল্প হয়নি এ রাজ্যে। এবং তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকারের ‘ভ্রান্ত’ জমিনীতির কারণেই তা সম্ভব হয়নি। পাল্টা তৃণমূলের বক্তব্য, তারা শিল্পের বিপক্ষে নয়। তবে জোর করে জমি কেড়ে নিয়ে শিল্পায়নের পক্ষে তারা নয়। এটা শাসক দল তথা মুখ্যমন্ত্রীর ‘নীতিগত অবস্থান’।

১৮ মমতার পথে বোস, বোসের পথে শুভেন্দু

মেলালেন রবি ঠাকুরই মেলালেন!

কোন জায়গার নাম অথবা রেল স্টেশনের নাম বদলে ফেলার চল গত ১০ বছর ধরে নজরে আসছে। হিন্দুত্বের ধ্বজা ব্যবহার করে ধর্মীয় মেরুকরণ বিজেপির এগোনোর অন্যতম উপাদান। পাশাপাশি নামের জাহির তো রয়েছেই। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটিতেও ঘটে ঠিক এমনই কিছু। শান্তিনিকেতন বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই উপলক্ষে যে ফলকটি বিশ্বভারতীতে বসে, তাতে ছিল না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। বরং ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম। এই নিয়ে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণা করার পর থেকেই অভিযোগ ওঠে, এই কাজের জন্য উপাচার্য নিজে কৃতিত্ব নিতে চান তো বটেই, আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাও তিনি সামনে আনতে চান। এই আবহে সম্প্রতি বিশ্বভারতীর তরফে উপাসনা গৃহ, ছাতিমতলা এবং রবীন্দ্রভবনের উত্তরায়ণের সামনে শ্বেত পাথরের ফলক বসানো হয়। গর্জে ওঠেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে নামের তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্ণায় বসার বাংলার শাসকদল। মমতার মতোই প্রতিবাদের পথেই হাঁটেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। সেই ফলক-বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সুরেই গলা মেলান শুভেন্দু। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে মাঠে নামে কেন্দ্র। উপায়ও আর ছিল না। শেষমেশ বিতর্কিত ফলক ভেঙে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। লাগানো হয় নতুন ফলক ৷ তাতে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম-সহ শান্তিনিকেতনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয় বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়৷

১৯ ইনসাফ যাত্রা সফল !

কিন্তু সংসদীয় সাফল্য আসবে কি?

দল সরকারে নেই নয়-নয় করে ১৩ বছর হতে চলল। বিভিন্ন জেলার সিপিএমে দীর্ঘ হচ্ছে অনটনের ছায়া। তার মধ্যেও ‘আকাশ ছোঁওয়া’র স্বপ্ন। সিপিএমের যুব সংগঠনের ইনসাফ যাত্রা শুরু করে। সমাপনী কর্মসূচিতে ভিড় হয়েছিল নজরকাড়া। তার চেয়েও বেশি চোখে পড়ছিল বামপন্থী যুবক-যুবতীদের তরতাজা ভাব। অনেকদিন পর এই রাজ্যের বামপন্থীরা এমন কর্মসূচি নেয়। তাও এটি সিপিএমের দলীয় কর্মসূচি ছিল না। যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই একক শক্তিতে কোচবিহার থেকে কলকাতা পর্যন্ত ইনসাফ যাত্রা সংগঠিত করে। এ কথা স্বীকার করতেই হবে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। কারণ দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে রাজ্যের অধিকাংশ জেলা ছুঁয়ে হাঁটলে আর কিছু না হোক দলীয় সংগঠনের শেষ প্রান্তটিকেও স্পর্শ করতে পারেন নেতৃত্ব। ইনসাফ যাত্রা চলাকালীন দেখা গিয়েছে, প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের বাম কর্মী সমর্থকদের অনেকেই ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বেরিয়ে এসেছেন, পদযাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন, যাঁরা একসময়ে সক্রিয় বাম সমর্থক থাকলেও এখন বসে গিয়েছেন। বিধানসভায় শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিএমের জন্য নিঃসন্দেহে এই বিষয়গুলি অক্সিজেনের মত। তাহলে ইনসাফ যাত্রা কি সফল? সাফল্যের ধারণা তো সর্বত্র এক নয়। বঙ্গ সিপিএম যদি সাফল্য বলতে বুথ স্তর পর্যন্ত সমর্থকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া বোঝে, তাহলে নিঃসন্দেহে ইনসাফ যাত্রা অনেকখানি সফল। মীনাক্ষী মুখার্জিরা হাতে কলমে দেখালেন, কেমন করে দলীয় সংগঠনের শেষতম বিন্দুটির কাছে পৌঁছতে হয়। একদিনের লড়াকু নবান্ন অভিযান বা ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে এ কাজ হয় না। মীনাক্ষী সহ ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব সেই মানুষগুলির কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছেন। এই জায়গায় বামপন্থীদের ঘাটতি ছিল।

২০ ‘লক্ষ’পূরণের তর্কেও নতুন রঙের ব্রিগেড

গীতাপাঠ শেষে ময়দানে মিশে গেল রাজনীতিও

একের পিঠে পাঁচটা শূন্য বসালে লক্ষ হয়। তবে অভিধানে ‘লক্ষ’ শব্দের আরও একটি অর্থ আছে, তা হল ‘অসংখ্য’। ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচির আয়োজকরা সেটাই বলতে পারতেন। কারণ, অসংখ্যের সঙ্গে কিছু যোগ বা বিয়োগ করলে সংখ্যাটা অসংখ্যই থেকে যায়। কিন্তু দাবি করা হয়েছিল রবিবার ব্রিগেড ময়দানে ১ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ সমবেত কণ্ঠে গীতাপাঠ করেছেন। তাতে বিশ্বরেকর্ড হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সে সব বাদ দিলে রবিবার আসলে এই প্রথম বার অন্য এক ব্রিগেড দেখল কলকাতায়। যেখানে রাজনৈতিক স্লোগান নেই, মঞ্চে প্রায় সকলেই গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী। বাংলায় বরাবর রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের ভূমি হয়েছে ব্রিগেড। সোভিয়েত রাশিয়ার তৎকালীন প্রধান নিকোলাই বুলগানিন ও রুশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিকিতা ক্রুশ্চেভকে নেহেরুর সংবর্ধনা এবং ইন্দিরা গান্ধি ও মুজিব রহমানের সমাবেশ। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বক্তৃতা জয়প্রকাশ নারায়ণের। শুধু তাই নয়, ১৯৬৯ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়ে ব্রিগেডে বিজয় উৎসব পালন করে যুক্তফ্রন্ট। বাম জমানার শেষে ২০১১ সালে ব্রিগেডেই তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এর সবক’টিতেই ছিল রাজনৈতিক দলের উদ্যোগ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি। সে সবের থেকে একেবারে আলাদা রবিবারের গীতাপাঠের ব্রিগেড। যেখানে স্লোগানের বদলে মন্ত্র-স্তোত্র, ধূপধুনোর গন্ধ। ঢাক, কাঁসর, শঙ্খ, উলুধ্বনিতে পুজোর আবহ। এমন এক সমাবেশে কথা দিয়েও কথা না রেখে অন্য ব্রিগেড তৈরিতে যেন সাহায্যই করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।সভায় ‘মোদি মোদি’ স্লোগানও উঠতে পারত। তার বদলে শুধুই ভক্তির পরিবেশ। ভগবানের নামই স্লোগান হয়েছে। ইতিহাস এটাকে ‘মোদির ব্রিগড’ নয়, ‘গীতার ব্রিগেড’ বলবে।তবে ভক্তির ব্রিগেড সঙ্গমে মিশেছে রাজনীতিও। তবে মঞ্চের নীচে। বিজেপির প্রায় সব সাংসদ, বিধায়ক, রাজ্য নেতানেত্রীরাই উপস্থিত ছিলেন। গীতাপাঠে অংশও নিয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে আরএসএস-এর প্রথম সারির রাজ্য নেতাদেরও দেখা গিয়েছে পাঠের আসনে। আড়ালে গোটা গেরুয়া শিবির থাকলেও আয়োজকদের দাবি ছিল রাজ্যের সাড়ে তিন হাজারের বেশি ধর্মীয় সংগঠন যুক্ত হয়।

২১ সুকান্তর হাতে তিন, দিলীপের এক

এবারের শাহি টার্গেট ‘৩৫’

লোকসভা নির্বাচনে ৩৫টি আসন জিততে হবে। ‘লক্ষ্য’ বেঁধে দিয়েছেন স্বয়ং অমিত শাহ। পাঁচ বছর আগে সর্বভারতীয় সভাপতি থাকার সময়েই বঙ্গ বিজেপিকে ২২টি আসন জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিলেন শাহ। তখন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি জিতেছিল ১৮টি আসন। এ বার লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় দলের নেতৃত্ব দেবেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কাছে দলের চাহিদা দিলীপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে কাজটা তুলনায় কঠিন। প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও একান্তে তা মানেন অনেক রাজ্য নেতা। কারণ, দিলীপের আমলে বিজেপির হারানোর কিছু ছিল না। দুই থেকে আসন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৮-য় পৌঁছেছিল পদ্মশিবির। কিন্তু এ বার ১৮-র উপরে যেতে হবে সুকান্তকে। কিন্তু মাঝের পাঁচ বছরে আগের জেতা আসনগুলির ‘পার্টিগণিত’ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির ‘স্বপ্ন-বেলুন’ চুপসে যাওয়া অনেকটাই কঠিন করে দিয়েছে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আশা। শাহকে সন্তুষ্ট করতে গেলে এখন থেকেই কোমর বাঁধতে হবে সুকান্ত-শুভেন্দুদের।

২২ ফের তৃণমূল-কংগ্রেস জোট?

লোকসভা ভোটের আগে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে ইতিমধ্যে সলতে পাকানো শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে সতর্ক আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস জোট করলে পরক্ষ জোটে কংগ্রেসের সঙ্গে যাবে না সিপিএম। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে লড়তে দেশের বিরোধীরা ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে যুক্ত হয়েছে। উদ্দেশ্য বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয়ে যায়। কিন্তু রাজ্য ভিত্তিক রাজনীতিতে সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। যেমন এই রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটে বামেদের পাশাপাশি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে। আবার শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে রয়েছে বাম ও কংগ্রেস। বামেদের সঙ্গে জোট করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটেও অংশ নেয় কংগ্রেস। রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে থাকবে দল তা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সিপিএম। এবার কী করবে কংগ্রেস? জাতীয় রাজনীতির দায়ে তৃণমূলের সঙ্গে যদি কংগ্রেস জোট করে তাহলে কী করবে সিপিএম? এই নিয়ে চর্চা চলছে বেশকিছু দিন ধরেই। প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরেও একাধিক মত উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য অপেক্ষা করতে চায় সিপিএম।

২৩ রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার

পুরনো আস্থাভাজনকে রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসালেন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ মমতা। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মমতার বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে ওঠে রাজীব। ২০১৩ সালে বিধাননগর কমিশনারেট তৈরি করেন মমতা। সেখানকার প্রথম কমিশনার হিসেবে রাজীবে দায়িত্ব দেন মমতা। পরবর্তীকালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদের মতো গুরুত্বপূ্র্ণ পদে রাজীবকে বসান মমতার। এরপরই সারদাকাণ্ডে নাম জড়ায় রাজীবের।তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীবের পার্ক স্ট্রিটের সরকারি বাসভবনে অভিযান চালায় সিবিআই। এই সিবিআই অভিযানের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীবের বাড়িতে সিবিআই অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্ণায় বসেন মমতা। এরপর সারদাকাণ্ডে রাজীবকে একাধিকবার জিজ্ঞাসবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার কিছুদিন পরই রাজীবকে তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের সচিব পদে বদলি করেন মমতা। আইএএস ক্যাডারের জন্য সংরক্ষিত পদে আইপিএস অফিসারকে বসানোয় তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।

About Post Author