সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারি : ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লির মেহরৌলির শ্রদ্ধা ওয়ালকার খুনের ঘটনা মনে পড়ে? প্রেমিকা শ্রদ্ধার দেহ ৩৫ টুকরো করে দেহের খণ্ডাংশগুলিকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত প্রেমিক আফতাব। দিল্লির শ্রদ্ধাকান্ডের ছায়া পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে।পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে দেহ বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। টুকরো টুকরো করে দেহের খন্ডাংশ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার পরে দেহের বেশ কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, স্বামী নুরউদ্দিন স্ত্রী সায়রা বানুকে খুন করে তার দেহ ছোট ছোট টুকরো করে মধ্যমগ্রামের মতিরখালে ভাসিয়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে স্বীকার করলেও সায়রা বানুর খন্ড খন্ড হওয়া সমগ্র দেহ এখনও উদ্ধার হয় নি।

সূত্রে প্রকাশ,সোমবার রাতে মতির খাল এলাকায় দক্ষিণ জোজরা গ্রামে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। দেহ সম্পূর্ণ সনাক্তকরণ না হলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চয়তা মিলেছে যে মৃতার নাম সায়রা বানু(৪৫)। বেশ কিছুদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন সায়রা বানু।

মধ্যমগ্রাম থানার উত্তর জোজরা এলাকায় ঘটনায় সোমবার রহস্যর যবনিকা পাত হওয়ার আগেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী চেষ্টা করে স্বামী নুরুউদ্দিন মণ্ডলের। বর্তমানে বারাসত জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। গত সোমবার থেকে স্ত্রী সায়রা বানু নিখোঁজ বলে দাবি করে চলেছিলেন স্বামী নুরুউদ্দিন ।জানা যায়, সোমবার রাতে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে নুরুদ্দিন জানান স্ত্রী সায়রা বানু বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। এরপরে সন্দেহর বাসা বাদে সায়রা বানুর মেয়ের। অতঃপর মধ্যমগ্রাম থানার মতির পোল ফাঁড়িতে নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে নুরউদ্দিন ও তার মেয়ে। এরপর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন ভাবে খোঁজখবর চালাতে থাকে। তদন্ত আরও গতি পেতেই চাপে পড়ে নুরউদ্দিন।ধরা পড়ে যাওয়ার মানসিক চাপের শিকার হয়ে নুরুউদ্দিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে । তাতেই সন্দেহ বেড়ে যায় সায়রা বানুর মেয়ের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের।
স্ত্রীকে তার প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে স্বেচ্ছায় প্রাক্তন হলেন স্বামী
পুলিশের তদন্ত আরও গতি পায় ঘটনা পরম্পরায়। নুরউদ্দিনকে হাসপাতলে ভর্তি করে তাকে জেরা করতেই সে সমস্ত ঘটনা স্বীকার করে। তবে নুরউদ্দিন মৃতদেহ কোথায় ফেলেছে তা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে থাকে। ভুল তথ্য দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের। এরপরে নুরুউদ্দিন তার ছোট ছেলেকে ডেকে আইনজীবীর কাছে সমস্ত কথা স্বীকার করলে পরিবারের সদস্যরা মতিরখাল সেখানে নৌকা নিয়ে খোঁজ শুরু করলে বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার হয় সায়রা বেনুর। ৬ টুকরো করে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর শুধুমাত্র গলা থেকে কোমর পর্যন্ত দেহাংশ পাওয়া গেল মাথা হাত পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনটাই জানা যাচ্ছে পরিবারের। ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যরা উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানিয়েছে। দিল্লির শ্রদ্ধাকান্ডের ঘটনা চাপা থাকে নি। মধ্যমগ্রামের ঘটনাতেও পুলিশ তদন্তের জাল দ্রুত গুটিয়ে আনছে।।
দেহ পঞ্চভূতে বিলীন, রহস্য রয়ে গেল সিআরপিএফ জওয়ান বিশ্বজিৎ অধিকারীর মৃত্যু ঘিরে


More Stories
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক