সুজয় ভট্টাচার্য ও অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সময় কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: প্রতিবছর শহর বর্ধমান শহরের সূর্যনগর মালির মাঠে অনুষ্ঠিত হয় রাজনন্দিনী কাপ। এই রাজনন্দিনী কাপ নিয়ে বর্ধমান বাসীর মধ্যে থাকে উদ্দীপনা। কারণ প্রতিবছর শুধুমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটাররা নয়, বিদেশের অনেক কিংবদন্তী ক্রিকেটারদেরও এই মাঠে হাজির হতে দেখা গিয়েছে। কপিল দেব, গৌতম গম্ভীর, ব্রায়ান লারা, ক্রিস গেইলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররাও এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে উপস্থিত হয়েছিলেন।

এবছরও বর্ধমান শহরবাসীর জন্য চমক ছিল। এদিন খেলার মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। এ দিন মাঠে নেমে ক্রিকেটও খেলতে দেখা গেল ইরফান পাঠানকে ৷ টেনিস বলে ক্রিকেট খেললেন তিনি৷ আর প্রায় সব বলই মাঠের বাইরে পাঠালেন ইরফান পাঠান৷ তাকে এক ঝলক দেখার জন্য বহু ক্রিকেটপ্রেমী উপস্থিত হয়েছিলেন মালির মাঠে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরফান পাঠান বলেন, “ক্রিকেটের যে কোনও ফরম্যাটেই একজন অলরাউন্ডারদের বাড়তি সুবিধা থাকে৷ কারণ তিনি এক সঙ্গে দুটি কাজ করতে পারেন। তাই একজন অলরাউন্ডারের দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই বেশি থাকে৷” পাশাপাশি, বর্ধমান শহরে আয়োজিত টেনিস বলে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়েও উচ্ছ্বসিত দেখাল প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডারকে। ইরফান জানান, “এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। বর্ধমান বাসীর প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকে ভবিষ্যতের প্রতিভাদের উঠে আসার সম্ভাবনা থাকে ৷ তাঁরা নিজেদের প্রতিভাকে তুলে ধরার সুযোগ পান৷ তাই আমি চাই এই ভাবেই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলতে থাকুক। যাতে ভবিষ্যতে আরও ভালো ভালো ক্রিকেটার ভারত জাতে উপহার পায়।”

আরও পড়ুন: লালহলুদের কলিঙ্গ বিজয় ,ওড়িশায় লোবেরা বধ,১২ বছর পরে ট্রফি এল ঘরে
একটা সময়ে দেশের সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডারদের মধ্যে ইরফান পাঠান ছিলেন অন্যতম। ২০০৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধে অভিষেক সফরেই নজর কাড়েন বরোদার এই ক্রিকেটার। তাঁর স্যুইং সামাল দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছিল তারকাখচিত অজি ব্যাটিং লাইন আপকে। স্যুইংয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে তাঁর হ্যাটট্রিকের স্মৃতি এখনও টাটকা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। ৯ বছরের পেশাদারী ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোট ২৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ইরফান পাঠান। গড় ৩২.২৬। ঝুলিতে রয়েছে ১০০ উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ১১০৫ রান। ব্যাটিং গড় ৩১.৮৯। পাশাপাশি ১২০টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। বোলিং গড় ২৯.৭২। শিকার করেছেন ১৭৩টি উইকেট। এছাড়া ২৪টি টি-২০ ম্যাচে ২৮টি উইকেট নিয়েছেন এই দাপুটে অলরাউন্ডার। ২০১২ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ইরফান পাঠান। বর্তমানে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকর হিসেবে তাঁকে দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে অংশ নেন ইরফান।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার