Home » তৃণমূলের উপপ্রধান খুনের ঘটনায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি অশোকনগরে, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর স্থানীয়দের

তৃণমূলের উপপ্রধান খুনের ঘটনায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি অশোকনগরে, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর স্থানীয়দের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ মার্চঃ তৃণমূলের উপপ্রধান খুনের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল অশোকনগর।উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গুমা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি বলেই দাবি স্থানীয়দের একাংশের। কার্যত সেকারণেই এদিন রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। সকালে থেকেই এলাকার বাসিন্দারা দোকানপাট বন্ধ রেখে বনধ পালন করছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। অন্যদিকে, অশোকনগরে উপপ্রধান খুনে ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত পলাশ শর্মার বাড়ি থেকে বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন   ১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতব্যাপী রেল ধর্মঘটের ডাক! ফের যাত্রী দুর্ভোগের আশঙ্কা

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলিতে খুন করা হয় অশোকনগর বিধানসভার গুমা ১নম্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বিজন দাসকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দলীয় এক কর্মীর বাড়িতে নিমন্ত্রণ ছিল বিজন দাসের। খাওয়া-দাওয়ার পর গৌতম দাস নামে স্থানীয় এক জমি ব্যবসায়ী সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বচসা বাধে। এরপরই আচমকা বিজন বাবুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক দুষ্কৃতী। তাঁর মাথা ও কানে পরপর গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে বারাসাত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তৃণমূল নেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অশোকনগর থানার পুলিশ।

উপপ্রধানের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান অশোকনগরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিজনবাবুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অশান্তির সময় গৌতম দাস নামে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। উপপ্রধান খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পলাশ শর্মাকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও পযর্ন্ত প্রধান অভিযুক্ত গৌতম দাসকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। মৃতের পরিবারের দাবি, উপপ্রধান হওয়ার পর থেকেই পঞ্চায়েতের নানা বিষয়ে গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিজন বাবু। পরিকল্পনামাফিক তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই দাবি পরিবারের। এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ রয়েছে নাকি অন্য কোন কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

About Post Author