সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ মার্চঃ দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই পুলিশ এবং প্রশাসনে একাধিক ক্ষেত্রে বদলি করা হচ্ছে। এবার অশান্তির আবহেই রাতারাতি সন্দেশখালি থানার ওসি বদল। শনিবার সকালে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হাসান মেহেদী রহমান। জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি থানার ওসি বিশ্বজিৎ সাঁপুইকে সন্দেশখালি থেকে পাঠানো হচ্ছে বসিরহাটে। মাত্র তিন মাস আগে দায়িত্ব পেয়ে হাড়োয়া থানা থেকে সন্দেশখালিতে এসেছিলেন বিশ্বজিৎ। আর বসিরহাট পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের ওসি গোপাল সরকারকে পাঠানো হচ্ছে সন্দেশখালিতে। অন্যদিকে, হেমনগর কোস্টাল থানার ওসি মৃণাল রায়কে বাদুরিয়া থানায় বদলি করা হচ্ছে। আর বাদুরিয়া থানার দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে হেমনগর কোস্টাল পুলিশ স্টেশনের ওসি হিসেবে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন হাবড়ায় প্রাক্তন প্রধানের বাড়িতে ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণ, উড়ে গেল ছেলের হাতের আঙুল
এদিকে, বসিরহাট পুলিশ জেলার SOG শোভন ঘোষকে বসিরহাট পুলিশ জেলার OC, SOG করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই বদলি করা হয়েছিল বসিরহাট থানার আইসি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সিআইডি ইনস্পেক্টর হিসাবে বদলি করা হয়েছিল তাঁকে। তাঁর জায়গায় বসিরহাট থানার আইসি হন রক্তিম চট্টোপাধ্যায়। গত ৫ জানুয়ারি থেকেই রাজ্য রাজনীতির খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে সন্দেশখালি। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তের সূত্রে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বাধা পায় ইডির আধিকারিকরা। বিশ্বজিৎ সাঁপুই সন্দেশখালি থানার ওসি থাকাকালীন শাহজাহানের অনুগামীদের হাতে মারও খেতে হয়েছিল ইডি আধিকারিকদের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার পর থেকেই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে সন্দেশখালি থানার ভূমিকা। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধীরা। সন্দেশখালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা গিয়েছে এলাকার মহিলাদের। সেই ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হল সন্দেশখালি থানা থেকে। আপাতত তিনি বসিরহাট থানার দায়িত্ব সামলাবেন।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালিকাণ্ডে বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হতেই জেরায় ইডি আধিকারিকদের ওপর হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছিল সে। রাজ্য পুলিশ আদালতে সেই নথিও জমা দিয়েছিল। আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ ছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশের কাছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালিকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১১টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা, তেমনই রয়েছে মানবপাচার ও দেহব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ।
#latestbengalinews
#Sandeshkhali
#loksabhapolls
#ED
#CBI


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?