সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মার্চ: গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে এবার রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। এদিন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। গার্ডেনরিচের ঘটনায় আক্রান্তদের পুনর্বাসনের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই বা কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? সেসব রিপোর্ট আকারে জানাতে নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে উপযুক্ত ব্যবস্থা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিপজ্জনকভাবে আবাসনগুলি গায়ে গায়ে তৈরি হচ্ছে এই এলাকায়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে তা জানার পর এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কী করবে? এদের অবস্থা অনেকটা সৈনিকদের সামান্য রাইফেল নিয়ে বর্ডারে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মতো।” আগামী ৪ এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
আরও পড়ুন Arvind Kejriwal: গ্রেফতার অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিক্ষোভ আপের
এদিকে, গার্ডেনরিচে বহুতলের বিপর্যয়ের ঘটনায় আরও তৎপর হল পুরসভা। ইতিমধ্যেই নয়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের জন্য। কলকতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়াররা এবার থেকে কাজের শুরুতে নিজেরা নিজেদের ওয়ার্ডে ঘুরবেন। কোথায়-কোথায় বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবেন। এরপর সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করে বোরোতে জমা দেওয়ার নির্দেশ পুরসভার। এরপর পুরসভায় ফিরে আসবেন ইঞ্জিনিয়ররা। তারপর নথি সংক্রান্ত কাজ করবেন। প্রতিদিন ওয়ার্ডে যাচ্ছেন কি না নজরদারি করবেন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ররা। এমনটাই নির্দেশ কলকাতা পুরসভার। গার্ডেনরিচের বাড়ি ভেঙে পড়ার পর বারবার প্রশ্ন উঠছিল ওই বাড়ি তৈরির জন্য আদৌ কি অনুমতি ছিল? সব নিয়ম মেনে কি তৈরি হচ্ছিল ৫ তলা বাড়ি? নির্মাণটি বেআইনি কি না, সেই প্রশ্ন উঠছিল। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদন ছিল না।
উল্লেখ্য, গত রবিবার গার্ডেনরিচে হাজারি মোল্লা বাগান এলাকায় ৫১৩/৩ ব্যানার্জি পাড়া লেনে ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১২ টার খানিকক্ষণ আগে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে বিপত্তি। বাড়িটি নির্মীয়মাণ হওয়ায় সেখানে কেউ ছিলেন না। রবিবার রাতে বহুতলটি যখন ভেঙে পড়ে তখন এলাকাবাসীরা বিকট শব্দ শুনতে পান, ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। নিমেষের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলের একাংশ। বালি-সিমেন্টের ধুলোর ঝড় বইতে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পাশের যে ঝুপড়িতে বহুতলটি ভেঙে পড়ে সেখানেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন। রবিবার রাত থেকে এখনো পর্যন্ত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও অনেকের ভেঙে পড়া অংশে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ভগ্নস্তূপের মধ্যে থেকেই উদ্ধারকাজ চালায় এনডিআরএফ। আহতদেরকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে মেটিয়াবুরুজের একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। পৌঁছন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। রাত ৩ টে নাগাদ পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরপর উদ্ধারকাজে আরও গতি আসে। রাতের অন্ধকারে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর রাস্তা বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় বিপর্যয় রাতের অন্ধকারে মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকলের পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা