সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মার্চ: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রচারে ঝড় তুলেছে শাসক বিরোধী উভয় পক্ষ। ইতিমধ্যে দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক দলগুলি। সবার নজরে গোটা দেশে যে কেন্দ্রগুলি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বারাণসী। উত্তরপ্রদেশের এই কেন্দ্র থেকেই গত দু’বার নির্বাচিত হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রত্যাশামতই আসন্ন নির্বাচনেও এই আসন থেকেই লড়ছেন তিনি। বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় তা স্পষ্ট করা হয়েছিল। তারপর সবার নজরে ছিল বিরোধী শিবির থেকে কে দাঁড়াচ্ছে সেদিকে। এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢড়ার নাম প্রস্তাব দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কেন্দ্রে এ বার নিজেদের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করল কংগ্রেস। তারা এই আসনে প্রার্থী করল অজয় রাইকে।

গত দুটি লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করেছিলেন অজয় রাই। যিনি বর্তমানে সেই রাজ্যের কংগ্রেস পার্টির প্রধান। তখনও তাঁকে লড়াই করতে হয়েছিল দেশের প্রধানমন্ত্রীত্বের পদপ্রার্থীর। সেই দুই লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে বারাণসী থেকে মোট প্রাপ্ত ভোটের ৫৬.৩৭ শতাংশ পেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি পেয়েছিলেন ৫,৮১,০২২ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি পেয়েছিলেন ২,০৯,২৩৮ ভোট। তৃতীয় স্থানে ছিলেন অজয় রাই। তার প্রাপ্ত ভোট ৭৫,৬১৪। উল্লেখ্য এই আসনে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি আলাদা লড়াই করেছিল। ২০১৯ সালে এই কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য লোকসভায় পৌঁছন নরেন্দ্র মোদি। গতবারের থেকেও প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে তিনি পান ৬,৭৪,৬৬৪ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সপার শালিনি যাদব। তিনি পেয়েছিলেন ১,৯৫,১৫৯ ভোট। এবারেও তিন নম্বরে থেকেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল অজয় রাইকে। তিনি পেয়েছিলেন ১,৫২,৫৪৮ ভোট। যা মোট প্রাপ্ত ভোটের মাত্র ১৪.৩৮ শতাংশ। যদিও গতবারের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ ভোট বেড়েছিল অজয় রাইয়ের।

আরও পড়ুন: INDIA Alliance: কেজরিওয়ালে গ্রেফতারিতে এক ছাতার তলায় বিরোধী জোট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক
সেই অজয়ের উপর তৃতীয়বারের জন্য আস্থা রাখল কংগ্রেস। তবে বারাণসীর কংগ্রেস প্রার্থীর উত্থান আরএসএস থেকেই। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের কার্যকর্তা ছিলেন তিনি। তার পর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বও সামলিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। সেই বছরই উত্তরপ্রদেশের কোলাসলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১২ ও ২০১৭ সালে পিন্দরা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে যোগ দেন সপাতে। সেই বছর সমাজবাদী পার্টির টিকিটে বারাণসী থেকে নির্বাচন লড়েন। কিন্তু বিজেপির মুরলী মনোহর যোশীর কাছে পরাস্ত হন। তৃতীয় স্থানে শেষ করতে হয় তাকে। ২০১২ সালে যোগ দেন কংগ্রেসে। হাত শিবিরের টিকিটে পিন্দরা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন অজয়। এই নিয়ে চতুর্থবারের জন্য রারাণসী থেকে প্রার্থী হয়েছেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ। এবার কী ‘লোকতন্ত্রের দেবতা’ অজয়ের প্রতি তুষ্ট হবে?


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের