সানী রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী ,সময় কলকাতা, ৮ এপ্রিল : “বাঁশি, তোমায় দিয়ে যাব কাহার হাতে “
ভোটের বাঁশি বেজেছে। বলা হয় ভোট নাকি বড় বালাই। ভোট এলেই ভোটের জন্য দৌড় ঝাঁপ বেড়ে যায় রাজনৈতিক কর্মীদের। ভোট প্রার্থনা করতে যেতে হয় দুয়ারে দুয়ারে, যেতে হয় মিছিলে মিটিংয়ে, যেতে হয় জনসভায়। পাঁচ বছরে খান তিনেক ভোট লেগেই থাকে। পাঁচ বছরে বেশ কয়েক মাস প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিতে হয়।সে সময় খাটুনির অন্ত নেই রাজনীতি-অন্ত-প্রাণ মানুষের। কিন্তু তাঁদের প্রচার, প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার কথা যারা তুলে ধরেন তাঁদের নজর খালি রাজনীতিতে পড়ে থাকে না। সময়ের সাথে সাথে দেশ ও সমাজের নিখুঁত ছবি তোলার কাজে কেটে যায় দীর্ঘ সময়। পাঁচ বছরের কয়েকটি দিন শুধু নয়, বছরের প্রতিটি দিন কেটে যায় । ছুটি নেই তাঁদের।
তাঁরা গণতন্ত্রের উৎসবের ছবির কোলাজ সম্পূর্ণ করেন,খুন খারাপি বা শোক-দুঃখ- আনন্দ – উৎসবের ছবি তুলে আনেন। তাঁদের পুজো-পরবের ছুটির আনন্দ নেই, দোল -উৎসব নেই, নেই সমাজবদ্ধ হয়ে পরিবারের সঙ্গে দুটো দিন কাটানো তাদের নসিবে নেই। জীবনে তাঁদের ছুটির বাঁশি বাজে না। তবুও বাঁশি বাজলে তাঁরা ছুটে যান সংবাদ সংগ্রহের তাগিদে।
তাঁদের অবস্থা দূরপাল্লার বা ম্যারাথনের ধাবকের মত। প্রস্তুত থাকতে হয়। বাঁশি বাজলেই ছুটতে শুরু করা কাজ। তাঁরা সারা বছর খবর আর খবরের মধ্যে ডুবে থাকেন , মানুষ তাঁদের সংবাদ এর প্রয়োজন নিবৃত্তি করেন তাঁদের প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি থেকে।রোদ -ঝড়-বৃষ্টি কোন কিছুকেই তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন কেবলই মানুষের প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তি,যন্ত্রণা, আন্দোলন, মৃত্যু মিছিল এসব নইলে কে তুলে ধরবে?
আরও পড়ুন রাজীব গান্ধীকে আক্রমণের ছবি তোলা সাংবাদিকের প্রয়াণ
সাংবাদিকতার পেশায় পরিবারের কথাও ভুলে থাকতে হয় বহুদিন বা রাতে। অবশেষে সময় পেলে তাঁরা প্রিয়জনের জন্য কিনে নেন সামান্য উপহার। অবকাশ বড্ড কম তবুও পরিবারের মুখে হাসি তারাও দেখতে চান। স্বামী- স্ত্রী দুজনেই যখন সংবাদ মাধ্যমের যুক্ত থাকেন তখন তাঁদের ওপরে নির্ভর করে থাকা মানুষরা তাঁদের পথ চেয়ে বসে থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ তাঁদের অপেক্ষায় প্রহর গোনে।
হয়তো জানা যায় না, বহু প্রতিকূলতার মধ্যে এরকম এক সাংবাদিক দম্পতিকে ছুটে যেতে হয় উত্তরবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর আনতে, বাড়িতে রয়েছে আড়াই বছরের ছেলে, যার নাম ঋতভাস, অশক্ত শরীর দিদিমার কাছে সে বাবা মার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করে। প্রধানমন্ত্রীর সভা কভার করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরার পথে দম্পতিকে তাঁদের ছোট্ট ঋতভাসের জন্য কিছু নিয়ে যেতে হয় । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী সভার সম্প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে জাতীয় সড়কের পাশ থেকে তাই সাংবাদিক দম্পতির হতে উঠে আসে বাঁশি। ছেলের জন্য।

বাঁশি এক আশ্চর্য মায়াবী প্রতীক। যে বাঁশি দেখা যায়, সেই বাঁশি দিয়ে যেমন তাদের পরিবারে কনিষ্ঠতম সদস্যের মুখে হাসি ফুটে উঠবে , তেমনই অদৃশ্য বাঁশির টানে তাঁদের আবার ছুটতে হবে খবরের ময়দানে। খবর যে বাসী হয়ে যায়, তাই খবর আনতে হয় নিত্যদিনের। বাঁশি বেজে চলে। রবীন্দ্রনাথের কবিতার কিনু গোয়ালার গলির মত বাঁশির ডাক সবাই শুনতে পায় না, শোনে শুধু সাংবাদিককুল যাদের ব্রতকথায় একটি মাত্র শব্দ লেখা – সংবাদ । ।
আরও পড়ুন জীবে-প্রেম : জীবনের পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ করল কচিকাঁচা পড়ুয়ারা


More Stories
প্রকৃতির প্রতিশোধ, বালি-মাফিয়াদের ট্রাক্টরকে গিলে ফেলল নদী
গোহত্যা আইন ভেঙে জলপাইগুড়িতে আটক ১
লিভ ইন সম্পর্কে থাকা মহিলার দেহ উদ্ধার মধ্যমগ্রামের হোটেল থেকে