সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ এপ্রিলঃ ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে শেষমেশ রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর নির্দেশ ওই আধিকারিকদের এখনই গ্রেফতার করা যাবে না বলে বুধবার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। এদিন হাই কোর্টে এনআইএ-র আইনজীবী জানান, সন্দেশখালি এবং ভূপতিনগরে একই ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ মেনে ভূপতিনগরে গিয়ে আক্রান্ত হন আধিকারিকরা। অথচ এনআইএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।
এফআইআরের ভিত্তিতে যাতে কোনও পদক্ষেপ না নেয় পুলিশ, সেই আর্জি জানায় আদালতে। রাজ্যের দাবি, পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগই করেনি এনআইএ। এরপরই আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য পুলিশ। এদিকে, ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-এর সমন খারিজের আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ ৮ তৃণমূল নেতা। তাঁদের মধ্যে একজন রয়েছে মানব পাড়ুয়া। তাঁর বিরুদ্ধে ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মামলাকারীদের আইনজীবীর তরফ থেকে রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। এনআইএ-এর কাছে কেস ডায়েরি তলব করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ এপ্রিল।
আরও পড়ুন বারাসাত কেন্দ্রে বামপ্রার্থী বদল,সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে শিরোনামে উঠে আসে ভূপতিনগর। পূর্ব মেদিনীপুর ভগবানপুর ২ ব্লকের ভূপতিনগর থানা এলাকায় নাড়ুয়াবিড়লা গ্রামে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। মৃত্যু হয় ৩ জনের। নিহতদের একজনের স্ত্রী থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন, বাজি তৈরি করার সময় এই বিস্ফোরণ হতে পারে। যেখানে বিস্ফোরণ হয়, তা এক তৃণমূল নেতার বাড়ি বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। বিজেপির তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি লেখা হয়। তার পরেই এনআইএ তদন্ত শুরু হয়। গত শনিবার এনআইএ আধিকারিকরা তদন্ত করতে ভূপতিনগরে গিয়েছিলেন। সেখানে মূলত দুই অভিযুক্ত বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন আধিকারিকরা। তাঁদের গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আক্রান্ত হওয়ার পরেও এনআইএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে। তা নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পাল্টা আবার মনোব্রত জানার স্ত্রী এনআইএ-এর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এই বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানাতে চার বার নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছিল এনআইএ। কিন্তু তাঁরা হাজিরা না দেওয়াতেই গ্রেফতার। এই উত্তেজনার মধ্যেই আবার সুবীর মাইতি, মানবকুমার পাড়ুয়া ও নবকুমার পান্ডা-সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে নোটিস পাঠিয়েছে। এবার তারই রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতৃত্ব।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা