সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ এপ্রিলঃ গার্ডেনরিচে নির্মীয়মান বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনার ২১ দিন পর ৩ ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শনিবারই জমা পড়ে গার্ডেনরিচকাণ্ডে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, মেয়রের নির্দেশে কলকাতা পুরসভার কমিশনার ১৫ নম্বর বরোর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার -তিন জনকে সাসপেন্ড করলেন। কলকাতা পুরসভার সূত্রের খবর, ওই তিনজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই অস্বস্তিতে ছিল পুর প্রশাসন। এরপরই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে আসার পর এ ব্যাপারে অর্ডার জারি হয়। যে রিপোর্ট জমা পড়েছে তাতে জানা গিয়েছে, রেইনফোর্সমেন্ট সিমেন্ট কংক্রিট ঠিক ছিল না। সঙ্গে রাফট ফুটিং অর্থাৎ বিন্দুমাত্র কংক্রিটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বাড়িটির ভিত। এছাড়াও নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে। কোনওরকম স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ছাড়াই ওই বহুতলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২১দিন পর পৌরসভার তরফে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের রিপোর্টেও ধরা পড়ল ইঞ্জিনিয়রদেরই গাফিলতি।
আরও পড়ুন নববর্ষের সন্ধ্যায় শহরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই চিনার পার্কের ৫টি রেস্তোরাঁ
উল্লেখ্য, গত মাসেই গার্ডেনরিচে হাজারি মোল্লা বাগান এলাকায় ৫১৩/৩ ব্যানার্জি পাড়া লেনে ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। ২৪ মার্চ রাত ১২ টার খানিকক্ষণ আগে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে বিপত্তি। বাড়িটি নির্মীয়মাণ হওয়ায় সেখানে কেউ ছিলেন না। ওইদিন রাতে বহুতলটি যখন ভেঙে পড়ে তখন এলাকাবাসীরা বিকট শব্দ শুনতে পান, ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। নিমেষের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলের একাংশ। বালি-সিমেন্টের ধুলোর ঝড় বইতে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পাশের যে ঝুপড়িতে বহুতলটি ভেঙে পড়ে সেখানেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন। চারদিন ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। ভগ্নস্তূপের মধ্যে থেকেই উদ্ধারকাজ চালায় এনডিআরএফ। আহতদেরকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনকে মেটিয়াবুরুজের একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। পৌঁছন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। রাত ৩ টে নাগাদ পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরপর উদ্ধারকাজে আরও গতি আসে। রাতের অন্ধকারে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর রাস্তা বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় বিপর্যয় রাতের অন্ধকারে মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকলের পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়।
#Calcuttamunicipality
# GardenReachBuildingCollapse


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস