Home » Mohun Bagan: নববর্ষে সমর্থকদের ‘লিগ শিল্ড’ উপহার দিল মোহনবাগান

Mohun Bagan: নববর্ষে সমর্থকদের ‘লিগ শিল্ড’ উপহার দিল মোহনবাগান

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৬ এপ্রিল: বাংলা  নববর্ষ উদযাপনের রেশ এখনও কাটেনি। এর মাঝেই সমর্থকদের বড় উপহার দিলেন পেত্রাতোস, কামিংসরা। যুবভারতীতে মুম্বই সিটি এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে আইএসএল লিগ শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান। সবুজ মেরুন ব্রিগেডের হয়ে গোল দুটি করেন লিস্টন কোলাসো ও জেসন কামিংস। মুম্বইয়ের দলের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের পা থেকে। গত দশ বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে শীর্ষে থাকা দল শিল্ডের খেতাব পায়। কিন্তু মোহনবাগান কোনওদিন এই প্রতিযোগিতায় জয়ের স্বাদ পায়নি। সেই স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে সঙ্গে আগামী মরশুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রুপ পর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গেল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিগত কয়েকটি ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যায়নি মোহনবাগানের হেডস্যারকে। মঙ্গলবার যুবভারতীতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি ডাগআউটে ফিরলেন। শুধু ফিরলেন না এদিন যেন সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে দলকে খেলালেন ৬৬ বছরের স্প্যানিশ কোচ। অভিভাবকের মত দলের ফুটবলারদের নিজেদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। আবার রেফারির সঙ্গে বাকযুদ্ধেও জড়াতে দেখা গেল তাকে। সব মিলিয়ে তার মগজাস্ত্রর কাছেই শেষ হয়ে গেল আইল্যান্ডারদের লিগ শিল্ড জয়ের স্বপ্ন।

আরও পড়ুন: Premier League: প্রিমিয়ার লিগে হার লিভারপুল ও আর্সেনালের, খেতাবী লড়াইয়ে সুবিধা ম্যানচেস্টার সিটির

গত ম্যাচের দলে একটি পরিবর্তন করেন মোহন কোচ। অমনদীপের পরিবর্তে প্রথম একাদশে রাখেন লিস্টন কোলাসোকে। আর তাতেই কেল্লাফতে। ম্যাচের ২৮ মিনিটের গোয়ার এই ফুটবলারের পা থেকেই আসে মোহনবাগানের প্রথম গোল। বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্তে থাকা লিস্টনকে পাস বাড়ান পেত্রাতোস। তার সামনে তখন মুম্বইয়ের তিন ডিফেন্ডার। সবাইকে নাচিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন লিস্টন। মুম্বইয়ের গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। তবে অনেক আগেই গোলের খাতা খুলতে পারতেন জাতীয় দলের এই তারকা উইঙ্গার। ২০ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার অনবদ্য ক্রসে উড়ে গিয়ে হেড করেন লিস্টন। সেই বল অল্পের জন্য পোস্টে প্রতিহত হয়। বিরতির আগেই খেলায় সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই। ডান প্রান্ত ধরে বল নিয়ে ঢুকে ছাংতে পাস বাড়ান জর্জ পেরেরা ডিয়াজকে। সেই বল ধরে বাগান বক্সের ভেতর পাস বাড়ান মেসির দেশের এই ফুটবলার। কিন্তু ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি দেশের এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা উইঙ্গার।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফেরে মুম্বই। মাঝমাঠের লড়াইয়ে স্বাগতিক মোহনবাগানকে জোর টেক্কা দেন পিটার ক্রাতকির ছেলেরা। আবার মাস্টার্সস্ট্রোক দেন বাগান কোচ। তরুণ অভিষেক রঘুবংশীকে তুলে নামিয়ে দেন অভিজ্ঞ দীপক টাংরিকে। ক্লান্ত সাদিকু ও কাউকোকেও তুলে নেন মোহন হেডস্যার। তাদের পরিবর্তে নামিয়ে দেন কামিংস ও ব্র্যান্ডন হ্যামিলকে। ৮০ মিনিটে পরিবর্তে হিসেবে নেমে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপার। এক্ষেত্রেও বল বাড়িয়েছিলেন সেই পেত্রাতোস। তবে খেলার নাটকের তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে একটি গোল শোধ করে মুম্বই। গোল করেন ছাংতে। আর একটা গোল হলেই এবারের মত শিল্ড চলে যেত আরব সাগরের তীরে। খেলায় বাড়ে উত্তেজনা। বিপক্ষের এক ফুটবলারকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হ্যামিল। আরও চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। ৮ মিনিট সংযুক্ত সময় স্বাগতিকদের উপর চাপ বাড়ায় মুম্বই। কিন্তু নিজেদের দূর্গ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয় মোহনবাগান।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর বাঁধন হারা উচ্ছ্বাসে মাতেন মোহনবাগান ফুটবলার ও সমর্থকরা। দলকে সমর্থন করতে এদিন মাঠে উপস্থিত হয়েছিল প্রায় ৬৫ হাজার মোহন জনতা। গোটা ম্যাচে দলকে উৎসাহিত করতে গলা ফাটিয়ে গেলেন তারা। মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে সেখানেই অর্ধেক ম্যাচ জিতে নেয় মোহনবাগান।

About Post Author