শঙ্কু কর্মকার ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা,১৭ এপ্রিল : মনে পড়ে টম হুইটেকারকে? আজ যাদের বয়স ৪০ ছাড়িয়েছে -তাঁরা মনে রাখতে পারেন। একপায়ে বিশ্বজয় করেছিলেন বছর পঞ্চাশের হুইটেকার । কৃত্রিম পা নিয়ে ১৯৯৮ সালে উঠেছিলেন মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা যমুনা রায় তেমনই একজন। তিনি মাউন্ট এভারেস্টে ওঠেননি কিন্তু যা করলেন, তাই বা কম কী? বহুদূর থেকে হাতে ভর দিয়ে হেঁটে হাজির হলেন বালুরঘাটে প্রধানমন্ত্রীর সভায়।
বয়স পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে বহুদিন আগে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ (special need person ) যমুনা রায় ।পায়ে হাঁটতে পারেন না, হাঁটেন হাতে ভর দিয়ে। শুধুমাত্র ভালোবাসার টানে গঙ্গারামপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে বালুরঘাটে পৌঁছে গেলেন যমুনা রায়। তাঁর একইরকম বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দীর্ঘ পথ।অশক্ত হাতে ভর করে হেঁটে চলা তাঁর অপর সতীর্থ ও তিনি বিজেপি দলকে ভালোবাসেন নিষ্ঠাভরে । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় তাঁরা এলেন।দুজনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এলেন কিছুটা টোটোতে, কিছুটা হাতে ভর দিয়ে হেঁটে। জোর করে শারীরিক বাধার পাহাড়কে ছাড়িয়ে তাঁদের এতদূর আসা স্রেফ মনের জোরে।

আরও পড়ুন ফ্যাক্টর : রাজবংশী ভোট, কোচবিহারে জিতবে কে?
শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদিকে একবার নিজের চোখে দেখা- এই আশা নিয়েই সুদূর গঙ্গারামপুর ব্লকের জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দুই বন্ধু চলে এলেন বালুরঘাটে । টোটো বেশ কিছুটা রাস্তার শ্রম কমালেও বাকি পথ হাতে ভর দিয়ে চলাই ভরসা ছিল। তাঁদের বক্তব্য, এই দলটাকে ভালোবাসি আর সেই ভালোবাসার টানেই এসেছি প্রধানমন্ত্রীর সভায়। ভালোবাসা কী না পারে?
আরও পড়ুন Lok Sabha Elections: জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে জনগণের রায় জয়ন্ত নাকি নির্মল?
রাজনৈতিক পটভূমিতে জীবনের এই আশ্চর্য জয়গানকে কী কী বিশেষণ দেওয়া যায়, কী সংজ্ঞা পেতে পারে এই দৃষ্টান্ত? অসম্ভবের স্বপ্নপূরণ নাকি বাধার পাহাড় দূরে সরানোর রূপকথা ? যাইহোক, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দুজন যেভাবে বিশেষ দাগ কেটে গেলেন তাঁদের সীমিত পরিসরে, তার নজির খুব একটা মেলে না ।।
আরও পড়ুন বাঁশির ডাকে ছুটে চলা, বাঁশি হাতে বাড়ি ফেরার পালা


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ