সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ মেঃ ভাঙড়ের ভোগালিতে তৃণমূল-আইএসএফের সংঘর্ষ চলাকালীন বোমাবাজির ঘটনায় ২জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম শেখ মোয়াজ্জেম ও শেখ নাসিরুদ্দিন। তাঁরা দুই জনই এলাকায় আইএসএফ কর্মী বলেই পরিচিত। তাঁদের শুক্রবার কাশীপুর থানা থেকে আদালতে পেশ করা হয়। বোমাবাজির ঘটনায় ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিক দফতরের প্রাথমিক রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনে। রিপোর্টে দুজনের গ্রেফতারির বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। গ্রামের মহিলারা বিক্ষোভ দেখান। গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। ভাঙড় কলকাতা পুলিশের অধীনে রয়েছে। কলকাতা পুলিশের অধীনে ভাঙড় আসার পর প্রথম লোকসভা নির্বাচন। তাই ভাঙড়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানো রাজ্য প্রশাসনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়।
আরও পড়ুন Donald Trump ঃ পর্নস্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রসঙ্গত, রাত পোহালেই রাজ্যে সপ্তম দফার নির্বাচন। বাংলার নয়টি কেন্দ্রে ভোট রয়েছে এই দফায়। ভোট রয়েছে স্পর্শকাতর এলাকা ভাঙড়েও। আর শেষ দফার ভোটের আগেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের উত্তপ্ত ভাঙড়। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙড়ের ভোগালিতে তৃণমূল-আইএসএফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সময় যত পেরোতে থাকে, ততই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। এরপর সংঘর্ষ চলাকালীনই ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়। বোমাবাজিতে জখম হয় এক শিশু-সহ ৭ জন। তৃণমূলের অভিযোগ, রাতে তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে বোমা মেরেছে আইএসএফ।
যদিও সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে পাল্টা বোমাবাজির অভিযোগ তুলেছে আইএসএফ। এদিকে, বোমাবাজির এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকাজুড়ে। আহতদের উদ্ধার করে জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে স্থানান্তরিত করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। অন্যান্যরা জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিন রাতেই আহতদের দেখতে স্থানীয় হাসপাতালে যান সায়নী ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস। অন্যদিকে,এদিন রাতেই আহতদের দেখতে SSKM হাসপাতালে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের তৃণমূল পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা। ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের থেকে অ্যাকশন টোকেন রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আইএসএফ-কে তোপ দেগে সায়নী ঘোষ বলেন, ‘ওদের পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বুঝেই এই হামলা। অবিলম্বে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির গ্রেফতারির দাবি জানান তিনি।’ গোটা ঘটনায় ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন তিনি।


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?