সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জুলাই : আমরা কে না জানি পাশা খেলাকে ঘিরে মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। পাশায় দ্রৌপদীকে বাজি রাখা নিয়েও কত হইচই আর শুম্ভ – নিশুম্ভ যুদ্ধ। সেই পাশা আর আজকের লুডো! প্রচুর ফারাক থাকলেই লুডোর উৎস লুকিয়ে আছে পাশাতেই। যুদ্ধ না হলেও আজও আমাদের মধ্যে ঘরোয়া লুডোখেলা নিয়েও ঝগড়াঝাটি বেঁধে যায় মাঝেমাঝে। লুডোর গোড়ার কথা দিয়ে শুরু করা যাক।
মধ্যযুগীয় লুডু বা লুডো খেলা এসেছে ভারতীয় পঁচিশি বা পাশা খেলা থেকে। চৌজার বা চৌপদ নামে এই খেলা থেকে পাণ্ডব ও কৌরবের যুদ্ধের শুরু। আজও শকুনির ডাইস বা ছক্কা নিয়েও গবেষণা চলে। পাশা খেলার আধুনিক রূপ লুডো। এখন বাড়িতে বাড়িতে লুডো খেলা হয়। মোবাইলে লুডো খেলাও জনপ্রিয় এবং পেশাদারী রূপ পেয়েছে।
আদিতে সাপ লুডোর প্রচলন ছিল ভারতে। এই খেলাকে প্রাচীন সময়ে মোক্ষর প্রতীক ভাবা হত এবং নামও ছিল মোক্ষ পট। সাপ ছিল পাপের প্রতীক। ডাইস বা ছক্কা ছিল মোক্ষ। পাপের মুখে পড়লে মোক্ষলাভ চুলোয় যেত। আধুনিক লুডোখেলার ইতিহাস সুপ্রাচীন। লুডোর নাম এসেছে ল্যাতিন লদো থেকে যার অর্থ আই প্লে বা আমি খেলি। মোগল আমলেও লুডোখেলার প্রচলন ছিল। আকবরের পছন্দের খেলা ছিল লুডো। তবে তারও বহু আগে লুডো খেলা শুরু হয়েছে। প্রাচীন গুহার দেওয়ালে এর প্রমাণ মেলে। তবে ইলোরার দেওয়ালে আঁকা লুডোর ছক আর আজকের লুডোর মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। আবার ডাইস বা ছক্কার বর্তমান রূপের উৎস খুঁজতে গবেষকরা রোমান সভ্যতার যোগসূত্র খুঁজে বার করেন। ইংরেজরা ভারতে এসে লুডোখেলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

আজ এরকম বাঙালি খুঁজে পাওয়া যাবে না যে লুডু/লুডো খেলে নি। বিজ্ঞাপনী মোড়কে রয়েছেন লুডু ও বুলা দি। আজও প্রযুক্তির যুগে এই খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। পাশাপাশি বসে ঘরোয়া আড্ডায় লুডো ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের গণ্ডিতে ভালোবাসা আর মৈত্রীর প্রতীক।
আরও পড়ুন বাগদায় রেকর্ড গড়তে পারবেন মধুপর্ণা ?


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার