সানী রায়, সময় কলকাতা , ১৫ অগাস্ট : “ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম। ” সূর্যের দেশে অগণিত মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন। ছুরি আছে অজস্র স্মৃতিচিহ্ন যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা চরমপন্থী বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত। স্বাধীনতার ৭৮ তম বর্ষে এসেও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিচিহ্নগুলি অম্লান। এরকমই একটি স্মৃতিচিহ্ন ধূপগুড়ি বিদ্যাশ্রম।
ধূপগুড়ি বিদ্যাশ্রম এমনই এক স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্ন যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মৃত্যুহীন প্রাণের ইতিহাস। স্বাধীনতার আগে বিপ্লবীরা গা ঢাকা দিতেন এখানে এসে। তাদের হাতেই তৈরি হয় এই বিদ্যাশ্রম।এখানেও রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আস্তানা! ছোট্ট জেলা হলেও এই জেলার বুকেই রয়েছে নানা অজানা ইতিহাস। দেশ স্বাধীনের বহু স্মৃতি চিহ্ন আজও নিঃশব্দে বয়ে নিয়ে যায় জেলা জলপাইগুড়ি। কোথায় সেই আস্তানার ডেরা জানেন? কারা থাকত? কী হত? সবটাই হয়তো জলপাইগুড়িবাসীর একাংশের কাছেই এখনও অজানা।
উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পূর্ববঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আস্তানা জলপাইগুড়ি ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদ্যাশ্রম পড়ে রয়েছে অবহেলায় অনাদরে। এই আশ্রম ছিল পূর্ব বঙ্গে। দেশ স্বাধীনের আগে পরবর্তীতে আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে স্বদেশী আন্দোলনকারীদের আস্তানা হিসেবে ধূপগুড়ির প্রত্যন্ত নিরিবিলি গ্রামে এই আখড়া গড়ে তুলেছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত। স্বাধীনতার আগে বিপ্লবীরা গা ঢাকা দিতেন এখানে এসে। তাদের হাতেই তৈরি হয় এই বিদ্যাশ্রম। এই বিদ্যাশ্রমে সেসময় আশ্রয় নিয়ে আন্দোলন চালিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। এই আস্তানায় ছিলেন, শান্তি রঞ্জন চক্রবর্তী, রাখাল চন্দ্র দে, কুমারেশ ঘোষ, যাত্রামোহন দাসের মতো বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী। সে সময় এখানে থেকে তাঁত বোনা হত সেই তাঁতের কাপড় তারা পরতেন। পাশাপাশি এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে গ্রাম স্বরাজ করার জন্য তাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যবস্থা ছিল। এখনও এই বিদ্যাশ্রমে রয়ে গেছে অতীতের সেই নিদর্শনগুলি। রয়েছে চরকা, তাঁতঘর সহ অনেক কিছু।

তবে, বর্তমানে কার্যত অবহেলায় পড়ে রয়েছে এই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আখড়া। দেয়ালে ধরেছে ফাটল, ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঐতিহাসিক এই আস্তানা। কিন্তু, এখনও এই আশ্রম আগলে রয়েছে গৌরি ঘোষ। পিছিয়ে পড়া মানুষদের শিক্ষিত করতে আশ্রমে খোলা হয় হরিজন স্কুল। ১৯৮৫ সালে গৌরী দেবী শিক্ষিকার কাজের জন্য মধ্যমগ্রাম থেকে এখানে আসেন। আশ্রমকে ভালবেসে তিনি আর ফিরে যাননি।

২০২২ সালের ৬ জুন ধুপগুড়ি প্রাক্তন বিধায়িকা মিতালী রায়ের হাত ধরেই এই গোটা বিদ্যাশ্রমের মধ্যে মাত্র একটি ছোট্ট ঘরকে সরকারি অনুদানের আওতায় এনে তৎকালীন তাঁত বোনার যন্ত্র থেকে শুরু করে, বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ তাম্রপত্র এমন কি বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক কোনোভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে।।
কিছু অভিযোগ আছে। অভিযোগ, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সবাই ভুলে যাচ্ছে ঐতিহ্যশালী এই আশ্রমের প্রতি সরকার উদাসীন। কিছু বছর আগে সরকারের তরফে বিদাহক তহবিল থেকে ছোট একটি প্রার্থনা ঘর নির্মাণ করা হয়।গৌরী দেবী সহ এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আশ্রম।
ধূপগুড়ি বিদ্যাশ্রম ঘিরে স্বপ্নও রয়েছে। সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারের তরফে যদি সঠিকভাবে এই আশ্রমটি রক্ষণাবেক্ষণ করে তাহলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি এটিও একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সর্বোপরি, সাধের সাধন স্বাধীনতাকে অন্তরে প্রতিদিন উদযাপন করার স্বপ্ন। স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রটি আরও মর্যাদা পাক, স্বপ্ন ধূপগুড়ির।


More Stories
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ
বাজেট ও ক্ষুদ্র চা-চাষীদের স্বপ্ন
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন