সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ আগস্টঃ আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। প্রতিবাদে পথে নেমেছে চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ। তিলোত্তমার বিচার ও নারীর স্বাধীনতার দাবিতে ১৪ আগস্ট, স্বাধীনতার প্রাক-রাতে আন্দোলনে পথে নামেন মেয়েরা। এদিন রাতেই মেয়েদের ‘রাত দখলের’ কর্মসূচিকে ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে। এদিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎই গোটা হাসপাতাল জুড়ে কার্যত তাণ্ডব চালায় বহিরাগতরা। আরজিকর হাসপাতালে পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙে কয়েক হাজার দুষ্কৃতী। তারপর চলে অবাধে ভাঙচুর। উন্ড ফ্লোর থেকে শুরু করে দ্বিতীয় তল পর্যন্ত ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। এমার্জেন্সি ওয়ার্ড, নার্সিং স্টেশন ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, সেমিনার হল, যেখানে তিলোত্তমার উপরে নারকীয় অত্যাচার হয়েছিল, সেখানেও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তবে ওই জায়গায় পৌঁছতে পারেনি হামলাকারীরা। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। আহত হন একাধিক পুলিশ কর্মী। দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছে ডিসি নর্থ। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নামানো হয় ব়্যাফও। তবে জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের দাবি, পুলিশ নিজেদের বাঁচাতেই হাসপাতালের ভিতরে কোথাও কোথাও লুকিয়ে পড়ে। সেসময় দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকে গিয়ে রোগীর পরিবারদের, মহিলা কর্মীদেরও মারধর করে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ আরজিকরের জুনিয়র চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন দুর্গারা রাস্তায়, অন্যদিকে চটুলগানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
বৃহস্পতিবার রাতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছে তারা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিন কলকাতা পুলিশের তরফে লেখা হয়, ‘ বুধবার রাতে আরজিকর হাসপাতালে হানা দিয়ে আন্দোলনরত ডাক্তার ও ডাক্তারি ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালায় পাঁচ থেকে সাত হাজার জনের একটি বাহিনী। হাসপাতালের একাংশে ভাঙচুর করে তারা। আমরা গর্বিত ডিসি নর্থ সহ ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত আমাদের সহকর্মীদের জন্য। কেননা তাঁরা সংখ্যায় তুলনামূলক ভাবে কম থাকা সত্ত্বেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সীমিত ক্ষমতায় হামলাকারীদের মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যান। যতক্ষণ না অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় আহত হয়েছেন আমাদের বহু সহকর্মী।’ একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশ এও জানিয়েছে, “এই হামলার নেতৃত্বে থাকা দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করেছি আমরা। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
গোটা ঘটনায় সরব তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে তাণ্ডব দেখে তাঁর তোপ, এই গুণ্ডামি এবার সহ্যের সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের পাকড়াও করে তাদের আইনিভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ যোগাযোগ করেছেন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে। তৃণমূল সাংসদের কথায়, চিকিৎসকরা বৈধ দাবিতে আন্দোলন করছেন। সরকারের থেকে ন্যূনতম সুরক্ষাটুকু তাঁরা আশা করতেই পারেন।
#RGKarHospitalVandalized
#RGkarHospital
#RGkarPrincipalSandeepGhoshresigned
#RGkarPrincipalSandeepGhosh
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews


More Stories
নেপাল সীমান্তে ঠিক কোথায় ধরা পড়েন জাহাঙ্গীর?
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
প্রয়াত সাংসদ ঘনিষ্ঠ মাফিয়া তৃণমূল নেতা গ্রেফতার