সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ আগস্টঃ বর্ষার তাণ্ডবলীলায় । টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখনও অবধি বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। ভাদর নদীড় জল ফুঁসছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে ১৪০টি জলাধার-বাঁধ ও ২৪টি নদী। ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। তারই মধ্যে এবার কুমির আতঙ্কে কাঁপছে মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাট। গুজরাটের বরোদা অঞ্চলের এখন নতুন আতঙ্ক কুমির। গুজরাটের নদী মূলত নর্মদা,তাপি,সবরমতি,মাহি,মাচ্চু সরস্বতী,বিশ্বামিত্র,ভাদর,দা ওজি, রূপেন ও হিরান। এই নদী গুলির অধিকাংশ নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। মূলত বিপর্যস্ত বরোদা শহর। বরোদা শহরের পার্শ্ববর্তী নদী বিশ্বামিত্র বিপদ সীমার ৯ ফুট উপর দিয়ে বইছে ফলে বরোদা শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুধুমাত্র নদীর জল ঢুকে পড়েনি। সেই সঙ্গে ঢুকে পড়েছে একাধিক কুমির।
শহরের অলিগলিতে দেখা মিলছে কুমিরের। কখনও দেখা যাচ্ছে বাড়ির উঠানে, আবার কখনও দেখা যাচ্ছে ডুবে যাওয়া বাড়ির ছাদের উপর। বাড়ির এত কাছে কুমিরের দাপাদাপি দেখে আতঙ্কিত সেখানকার বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই বরোদা মহারাজা, সায়াজি রাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার হয়েছে কুমির। আবার কখনো কুমিরকে দেখা যাচ্ছে পার্কের মাঠে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াতে। ফলে বরোদা শহরের এখন অন্যতম আতঙ্ক কুমিরের হানা। সম্প্রতি কুমিরের এই ছবিই ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা ইতিমধ্যেই ভাইরালও হয়ে গিয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।বন্যা মোকাবিলার পাশাপাশি এখন কুমির মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন গুজরাটের স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে, বিপর্যস্ত গুজরাটে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও উপকূল রক্ষী বাহিনী। জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একাধিক রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে গুজরাটের ১১টি জেলায়। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই মত প্রশাসনের। সেক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে আগাম সর্তকতা। ইতিমধ্যেই গুজরাটের ওই ১১টি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্র অঞ্চলেও লাল সতর্কতা জারি করেছে। হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে ২২ জেলায়। গুজরাট সরকার জানিয়েছে মোরবি, ভাদোদরা, ভারুচ, জামনগর, আরাবল্লি, পঞ্চমহল, দ্বারকা এবং ডাং জেলায় কমপক্ষে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আনন্দে ৬ জন, আমেদাবাদে ৪ জন, গান্ধীনগর, খেদা, মহিসাগর, দাহোদ এবং সুরেন্দ্রনগরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
#Vishwamitririver
#CrocodilesenterVadodara
#Latestbengalinews


More Stories
সাধের পেঁয়াজ সাধ্যের বাইরে! কবে দাম কমবে?
বিজেপির বড় ধাক্কা, প্রশান্ত কিশোরের বাজিমাত
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক