Home » গ্রেফতার হতেই সন্দীপ ঘোষের সাধারণ সদস্যপদ খারিজ করল ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন

গ্রেফতার হতেই সন্দীপ ঘোষের সাধারণ সদস্যপদ খারিজ করল ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সোমবারই গ্রেফতার হয়েছেন আরজিকরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। গ্রেফতারির পরেই এবার সন্দীপ ঘোষের সাধারণ সদস্যপদ খারিজ করল ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে সন্দীপ ঘোষের নাম FIR-এ থাকায় রাজ্য অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার ব্যবহার করতে পারবেন না সন্দীপবাবু।

আরও পড়ুন  সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার : উচ্ছ্বাস তবুও প্রশ্ন

ইতিমধ্যেই সন্দীপ ঘোষের IMA-র সদস্যপদও খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্যের শাখা সংগঠনের তরফে। আরজিকরে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর থেকে নানা চাপে ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আন্দোলনকারী ডাক্তারি পড়ুয়া এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে আগেই অধ্যক্ষর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল চিকিৎসক সন্দীপ ঘোষকে। এরপর থেকে যেকটি সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত, তারাও একে একে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। এর আগে অস্থিশল্য বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন অর্থোপেডিক সার্জেন সন্দীপ ঘোষকে শোকজ করেছিল। এবার তিনি সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হতেই ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দীপ ঘোষের সাধারণ সদস্যপদ খারিজ করা হল।

উল্লেখ্য, একটানা ১৫ দিন ধরে জেরার পরে সোমবার রাতে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন আরজিকর হাসপাতালের ‘বিতর্কিত’ প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আরজিকর হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ২৪ দিন পরে দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হলেন সন্দীপ ঘোষ। ২১ সালের টেন্ডার দুর্নীতিতে সিবিআই গ্রেফতার করল সন্দীপ ঘোষকে। এদিন কার্যত ঘাড় ধরে সিবিআই আধিকারিকরা গ্রেফতার করে সন্দীপ ঘোষকে।

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

করোনার সময়ে কোভিডের জন্য আসা রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে আরামদায়ক চেয়ার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, ফ্রিজ ও আরও অনেক কিছু কেনা হয়। সরকারি টাকায় কেনা বহু জিনিসও এমন নার্সিংহোমে যেত, যার আসল মালিক স্বাস্থ্যকর্তা। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত ও তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। এখানেই শেষ নয়, একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। তাঁর আমলে হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ লোপাটের অভিযোগ উঠেছিল। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সেই সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে একটানা ১৫ দিন জেরার পর সোমবার রাতে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন সন্দীপ ঘোষ।

#GeneralmembershipofSandeep Ghosh  

#WestBengalOrthopedicAssociation 

#RGkarHospital 

#RGkarPrincipalSandeepGhoshresigned   

#RGkarPrincipalSandeepGhosh    

#RGKARDoctorDeath    

#Latestbengalinews

About Post Author