সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বরঃ আর কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। কিন্তু মন ভাল নেই রাজ্যবাসীর। কারণ আজ থেকে ঠিক একমাস আগে শহরের অন্যতম ঐতিহ্যশালী আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। সহনাগরিকের প্রতি হওয়া এই বর্বরতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে নাগরিক সমাজ। প্রত্যেকের দাবি একটাই, বিচার চাই। রবিবার আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামলেন কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরা। ‘কুমোরটুলি দিচ্ছে ডাক, আমার দুর্গা বিচার পাক’ স্লোগান দিয়ে রাজপথের দখল নিয়েছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পীদের প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন সদ্য রাজ্য সরকারের পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া শিল্পী সনাতন দিন্দাও।

আরও পড়ুনঃ ১৩ মাসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় :মাটিগাড়ায় ধর্ষণ-খুনের সাজা ফাঁসি, নির্দেশ দিল শিলিগুড়ি আদালত
সাধারণত পুজোর আগে সপ্তাহান্তে ফুরসৎ ফেলার সময় পান না মৃৎশিল্পীরা। কারণ তাঁদের তৈরি প্রতিমা রাজ্য তো বটেই দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তেও পৌঁছে যায়। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও ঘরের মেয়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসুরে গর্জে উঠলেন কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরাও। তাঁদের অনেকেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের আসছে পুজো নিয়ে উৎসাহে ভাটা পড়েছে। রবিবার দুপুর থেকেই কুমারটুলিতে জমায়েত করেন তাঁরা। অনেক মৃৎশিল্পীর হাতে হাতে রং-তুলিও দেখা গিয়েছে। প্রতিমার চক্ষুদানও করা হয় এদিনের আন্দোলনে। সনাতন দিন্দাকেও দেখা যায় হাতে রং তুলি নিয়ে প্রতিমার চোখ অঙ্কন করতে।

অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন রিক্সাচালকেরাও। রবিবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় হেদুয়া থেকে ট্রামলাইন ধরে মিছিল করেন তাঁরা। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের গলায় ছিল প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার। মার্কিন গায়ক বব ডিলনের ভাষায় পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আর কতটা পথ হাঁটলে পরে ধর্ষকদের বিচার পাওয়া যায়।’ কোনও পোস্টারে লেখা, ‘যত করবে কন্ঠরোধ, তত বাড়বে প্রতিরোধ।’ মুক্ত কন্ঠে দোষীদের বিচারের দাবি তোলেন তাঁরা। উল্লেখ্য, আগামী সোমবার অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর দেশের আরজি কর-কাণ্ডের শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। দেশবাসী এখন সে দিকেই তাকিয়ে।


More Stories
অস্বাভাবিক মৃত্যু মমতার ভাইঝির, নেপথ্যে কী কারণ?
লজে পরকীয়া-ব্যাভিচার, হাতেনাতে পাকড়াও সন্তানের জননী ও প্রেমিকপুরুষ
এয়ারপোর্টের কাছে সার্ভিস সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড