সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর: পাঁচ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের সামনে কর্মবিরতিতে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকেরা।আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণ না করা হবে, অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চলতে থাকবে। এহেন পরিস্থিতিতে শনিবার জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে অর্থাৎ স্বাস্থ্য ভবনে আচমকাই উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ধর্নাস্থল ছেড়ে যাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের পরেই তাঁরা তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন। ইতিমধ্যেই জুনিয়র ডাক্তারেরা জানিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা করা যাবে না। রাজি থাকলে তাঁরা আলোচনায় বসতে চান। এ প্রসঙ্গে জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসেছেন, সাধুবাদ জানাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা অচলাবস্থা কাটানোর দাবি জানাচ্ছি। তবে, আমাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মেনে নিন। এক জন অভিভাবক হিসাবে তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা অবশ্যই থাকা উচিত। কিন্তু ৩৪ দিন পর কেন এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখালেন তিনি?’
আরও পড়ুন আরজিকর-সহ রাজ্যের সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা মমতার
প্রসঙ্গত, এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান মঞ্চে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি পাঁচ মিনিট সময় নেব। আমাকে বলতে দিন। আমি আপনাদের আন্দোলনকে সমর্থন করি। কুর্ণিশ জানাই। আমি নিজেও ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা লোক। আমার পোস্টটা বড় কথা নয়। মানুষের পোস্টটাই বড় কথা। আমি আপনাদের দিদি হিসেবে বলতে এসেছি‘ এরপরই মমতার সংযোজন, আপনারা যেভাবে বসে আছেন, তাতে আমার মানসিকভাবে কষ্ট হচ্ছে। কাল সারারাত ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের জন্য কাল সারারাত ঘুমোতে পারিনি। আমার কষ্ট হয়েছে। ৩৩-৩৪ দিন, আমিও রাতের পর রাত ঘুমোইনি। আপনারা যখন রাস্তায় থাকেন আমাকেও পাহারাদার হিসেবে জেগে থাকতে হয়।’

এরপরই জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আপনারা কাজে যোগ দিন। আমি আপনাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করবো। কিন্তু, মনে রাখা দরকার আমি একা সরকার চালাই না। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি সকলের সঙ্গে আমি আপনাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করব। সিবিআইকে অনুরোধ করব, দ্রুত তদন্ত শেষ করুন। যদি কেউ দোষী হন, শাস্তি পাবেন। দোষীদের ফাঁসি হোক। আপনাদের প্রতি আমি কোনও অবিচার করব না। কাজে ফিরুন। আজ থেকে আমি আরজিকর সহ সব কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম। শীঘ্রই আমি সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে অধ্যক্ষদের চেয়ারম্যান করব। যেখানে জুনিয়র ডাক্তার, সিনিয়র ডাক্তার, নার্স ও পুলিশ থাকবে।’
#CMMamataBanerjee #SwasthaBhavan #RGkarHospital #SandeepGhosh #RGKARDoctorDeath #Latestbengalinews #SupremeCourt


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !