সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ অক্টোবর: সকালে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পোড়া মুখ দেখে মৃতাকে শনাক্ত করা না গেলেও বেলা গড়াতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘটনা নিয়ে। মৃতার পরিচয় ইতিমধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে হত্যার সন্দেহে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে নির্যাতিতার প্রেমিককে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ থেকে রেহাই পায়নি অভিযুক্তের বাবা-মাও। তবে কৃষ্ণনগর কাণ্ডে মৃতার দেহে ‘বার্নিং স্পট’ পেলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে ধর্ষণ ও খুন বলতে রাজি পুলিশ। কারণ ইতিমধ্যেই মৃত্যুর আগে সমাজ মাধ্যমে মেয়েটির করা একটি পোস্টকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই পোস্টে মেয়েটি লিখেছিল, ‘‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমি নিজেই দায়ী। তোমরা ভাল থেকো।’’ কার্যত এই মুহূর্তে জেলার সুপার কে অমরনাথ জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: RG Kar Medical College: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ, ৫ জনের বেশি জমায়েতে ‘না’ লালবাজারের
বুধবার সকালে কৃষ্ণনগরে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের অদূরেই ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়েরাই দেহটি অর্ধনগ্ন ও অর্ধদগ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরিবারের অভিযোগ, দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। আঙুল ওঠে তরুণীর প্রেমিকের দিকে। প্রাথমিক তদন্তে নেমে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে পুলিশ সুপার কে অমরনাথ বলেন, ‘‘তরুণীর মৃত্যুর নেপথ্যে ধর্ষণ না কি আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে আমরা একজনকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছি। বেশকিছু সাক্ষাপ্রমানও হাতে এসেছে আমাদের। তদন্তসূত্রে এর চেয়ে বেশি কিছু এখনই বলা যাবে না।’’ 
ছবি: সমাজ মাধ্যমে করা নির্যাতিতার পোস্ট
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে জয়শঙ্কর, মোদির মাস্টারস্ট্রোক! বলছে রাজনৈতিক মহল
আরজি কর কাণ্ডে রাজ্য জুড়ে আগুন এখনও নেভেনি। গতকাল দ্রোহের কার্নিভালে সাধারণ মানুষের কাতারে কাতারে যোগদান তার প্রমান। এরই মধ্যে কৃষ্ণনগরের ঘটনা ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকারকে। নারি নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে কৃষ্ণ নগরের মানুষ। কার্যত কৃষ্ণনগর কাণ্ডে তৎপর জেলা পুলিশ। শহরের বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা অপরাধটি একা কেউ করেছে না কি অনেকে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ ঘিরে রাখা হয়েছে। যেখানে যা সম্ভাব্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে সব ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। যাতে আরজি করে মত সাক্ষাপ্রমান লোপাটের অভিযোগ ওঠার কোনও সূত্র না থাকে।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর