পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ১৯ ডিসেম্বর : ইরানে নারীমুক্তি : ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতুল্লা খামেইনি বলছেন একরকম, হচ্ছে আরেকরকম।
একজন নারী একটি কোমল ফুলের মত এবং তারা গৃহপরিচারিকা নয় – বুধবার এমনটাই টুইট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনি যখন কিনা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে নারীরা তাদের অধিকার পাওয়ার জন্য মরিয়া লড়াই করে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই খামেইনির মন্তব্য ঘিরে রীতিমত শোরগোল পড়েছে কারণ এখনও ইরানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং ইরানে আইনও নারীদের অনুকূল নয়। ঠিক কি বলেছেন খোমেইনি আর ইরানের নারীদের বর্তমান অবস্থাই বা কেমন?
আয়াতুল্লা খামেইনি বলেছেন,”একজন মহিলা একটি কোমল ফুল এবং গৃহপরিচারিকা নয়। নারীকে ঘরে ফুলের মত দেখাতে হবে। একটি ফুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এর সতেজতা এবং মিষ্টি ঘ্রাণ থেকে উপকৃত হওয়া উচিত এবং বাতাসকে সৌরভ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিত।” খামেইনি এমনটা বললেও খোমেইনির শাসনকালে বাস্তবে নারীদের সঙ্গে হচ্ছেটা কী? ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে খামেইনির ইরানে কঠোর হিজাব আইনকে শিথিল করার বিষয়ে নারী আন্দোলন জোরদার হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় নি। হালের দুটি ঘটনা ইরানে নারীমুক্তি যে কতটা অন্ধকারে প্রমাণ দেবে।
সম্প্রতি, ইরানি কর্তৃপক্ষ প্যারাস্তু আহমাদি নামে একজন ২৭ বছর বয়সী গায়িকাকে গ্রেফতার করেছে, যখন সে ইউটিউবে (YouTube) একটি ভার্চুয়াল কনসার্ট পোস্ট করেছে যেখানে সে হিজাব না পরে পারফর্ম করেছে।
শুধু তাই নয়, ‘ড্রাইভিং করার সময় জনসমক্ষে চুল খোলা রেখে দেখানোর’ কারণে ৩১ বছর বয়সী আরেজু বদ্রীকেও গুলি করে ইরানের পুলিশ যার ফলে তিনি পক্ষাঘাতে (প্যারালাইসিস)আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশের দাবি অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে নারীদের যা অবস্থা,সেখানে দাঁড়িয়ে আয়াতুল্লা খামেইনির উপরোক্ত বক্তব্যকে অসার মনে হতেই পারে । কারণ নারীরা ইরানে এখনও প্রবলভাবে দমন ও পীড়নের শিকার। এখনও জারি কঠোর হিজাব আইন যেখানে নারীদের একচুলও খোলা আকাশের তলায় স্বস্তিতে নিশ্বাস ফেলার জো নেই।
খামেইনির শাসনকালে নারীর অধিকারের অবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে, খোমেইনি আজ আরেকটি টুইট করেছেন, পুরুষ এবং মহিলাদের ভূমিকা স্থির করেছেন এবং বলছেন এই সংজ্ঞা কোনওভাবে পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে না।”পরিবারে নারী ও পুরুষের আলাদা ভূমিকা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষ পরিবারের ব্যয়-খরচের জন্য দায়িত্ব নেয় , যখন মহিলা সন্তান জন্মদানের দায় নিয়ে থাকে । এর দ্বারা কারও শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায় না। প্রত্যেকের যোগ্যতা আলাদা , এবং পুরুষদের অধিকারের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের মাপা হয় না ,” তিনি একটি টুইটে বলেছেন।
খামেনির শাসন নির্দয়ভাবে নারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশে একাধিক বার ইরানে নারীমুক্তি নিয়ে জোর চৰ্চা হয়েছে, ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নারীমুক্তি আন্দোলনকারীরা তেহরানকে তথাকথিত ‘কোমল ফুল’ প্রসঙ্গে এবার নারীদের ওপরে নিষেধাজ্ঞার কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ যে , খামেইনি এই মন্তব্য যেদিন করেছেন সেদিন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ 1979 সালে নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণের কনভেনশন (CEDAW) গৃহীত হয় । CEDAW হল একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রয়াস যার লক্ষ্য নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা অর্জন করা। একে প্রায়ই ‘ওমেনস বিল অফ রাইটস’ বলা হয়।।
#ইরানে_নারীমুক্তি # ইরানে নারীমুক্তি


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক