Home » হরিয়ানায় সুটকেস থেকে উদ্ধার হওয়া কংগ্রেস নেত্রীর দেহ ঘিরে চলছে রাজনৈতিক তরজা

হরিয়ানায় সুটকেস থেকে উদ্ধার হওয়া কংগ্রেস নেত্রীর দেহ ঘিরে চলছে রাজনৈতিক তরজা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কংগ্রেস নেত্রী হিমানি নারওয়ালের রহস্যমৃত্যুতে উত্তপ্ত হরিয়ানা। রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার মেয়ের মৃত্যুতে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন হিমানির মা। তাঁর দাবি, হত্যাকারী কংগ্রেস দলেরই কেউ। শুধু তাই নয় পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর দলের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করেননি।

উল্লেখ্য

হিমানির বাবা আগেই আত্মঘাতী হয়েছিলেন। খুন হয়েছিলেন দাদাও। এবার তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু। বছর বাইশের কংগ্রেস নেত্রীকে দেখা গিয়েছিল ভারত জোড়ো যাত্রায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। শুক্রবার রোহতকের একটি বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি পরিত্যক্ত নীল স্যুটকেস থেকে উদ্ধার হয় কংগ্রেস নেত্রী হিমানির দেহ। কংগ্রেসের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই খুন করা হয়েছে দলীয় কর্মীকে। এদিকে মৃত তরুণী নেত্রীর মায়ের দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

ভারত জোড়ো যাত্রার সময় খোদ রাহুল গান্ধীর হাত ধরে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল হিমানিকে। হরিয়ানার এহেন কংগ্রেস নেত্রীর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। ঘটনায় শাসকদল বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে কংগ্রেস। যদিও সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিমানির মা সবিতা নারওয়াল দাবি করেছেন, “আমার মেয়ের রাজনৈতিক উত্থানে দলের অনেকেই ঈর্ষান্বিত ছিলেন। দলেরই কেউ যুক্ত রয়েছেন এই খুনের ঘটনায়।”

মৃতার মায়ের দাবি

“আমার মেয়ে দলের জন্য অনেক আত্মত্যাগ করেছে। কংগ্রেসের বহু শীর্ষ নেতা আমাদের বাড়িতে আসতেন। হিমানির এই রাজনৈতিক উত্থানের জেরে দলের অনেকে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। যার জেরেই এই খুন হয়ে থাকতে পারে।” সবিতা আরও বলেন, “গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষবার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। একদিন পর কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর সিং হুদার সঙ্গে একটি সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে বারবার হিমানিকে ফোন করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। গত ১০ বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হিমানি। ভারত জোড়ো যাত্রার সময় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে শ্রীনগরেও গিয়েছিল হিমানি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হিমানির হাতে ছিল মেহেন্দি, গলায় স্কার্ফ। তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, তরুণীকে শারীরিক ভাবে খুনের আগে নিগ্রহ করা হয়েছে। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণও করা হয়ে থাকতে পারে। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশেই দেহটি সুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে হরিয়ানা পুলিশ।

এ হেন কংগ্রেস নেত্রীর মৃত্যুতে রোহতক শহরজুড়ে রীতিমতো থমথমে পরিবেশ। স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক ভারত ভূষণ বাত্রার দাবি, “বিজেপির শাসনকালে হরিয়ানায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। অপরাধীরা পুলিশকে ভয় পাচ্ছে না।” হিমানির খুনের নেপথ্যে কোনও পারিবারিক শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক কারণ, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

About Post Author