সময় কলকাতা ডেস্ক:- গোষ্ঠী সংঘর্ষে ২০২৩ সাল থেকে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর। সেই আগুন এখনও নেভেনি। এবার কী মণিপুরের মতোই সেই আগুন জ্বলতে চলেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও একটি রাজ্যে ? অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। উপলক্ষ্য, ৪৬ বছরের পুরনো ধর্মান্তর বিরোধী আইন।
মণিপুরের প্রেক্ষাপটের মুখোমুখি এ বার উত্তর-পূর্বের আরও এক রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ। আদালতের রায়ের বিরোধিতায় পথে নেমেছে একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। উল্টো দিকে, অবিলম্বে আদালতের রায় মেনে পদক্ষেপ করার দাবি তুলে রাস্তায় নামছে আরএসএসের শাখা বনবাসী কল্যাণ আশ্রম।
সম্মুখসমরে খ্রিস্টান এবং হিন্দু জনজাতি সংগঠন
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, প্রায় এক দশক ধরে অরুণাচলে বিজেপির সরকার চলছে। কিন্তু আরএসএসের জনজাতি সংগঠন সেই বিজেপি সরকারের উপরেই চাপ তৈরি করতে পথে নামতে চলেছে। একপ্রকার সম্মুখসমরে খ্রিস্টান এবং হিন্দু জনজাতি সংগঠন। অরুণাচলে ধর্মান্তর প্রতিরোধ আইন পাশ হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। কিন্তু তার পর থেকে কোনও সরকারই সেই আইনের বিধি তৈরি করেনি। আরএসএসের জনজাতি সংগঠন বনবাসী কল্যাণ আশ্রম দীর্ঘদিন ধরে এই আইন কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছে। সংঘের ওই সংগঠনের দাবি, ধর্মান্তরণ প্রতিরোধ আইন কার্যকর হয়ে গেলে আদিবাসীদের ধর্মান্তর রুখে দেওয়া যাবে। গত প্রায় সাড়ে ৯ বছর অরুণাচল প্রদেশে বিজেপির সরকার। কিন্তু সংঘের অনুকুলের সরকার থাকা সত্ত্বেও ধর্মান্তর প্রতিরোধ আইন এখনও উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে কার্যকর হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে সেখানে লাগাতার পেমা খান্ডুর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করা সত্ত্বেও বাস্তবে এই আইনের বিধি তৈরি হয়নি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েও সেখানে গেগং আপাঙের নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ছিল। কিন্তু কোনও আমলেই ধর্মান্তর রোধ আইনের বিধি তৈরি করা যায়নি।
জনস্বার্থ মামলা
জনজাতি সম্প্রদায়ের এক আইনজীবীর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় সম্প্রতি গুয়াহাটি হাই কোর্টের ইটানগর বেঞ্চ ওই আইনের বিধি প্রণয়ন করে তা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের সেই রায়ে হাই কোর্টের নির্দেশ, ছয় মাসের মধ্যে অরুণাচল সরকারকে ১৯৭৮ সালে পাশ হওয়া আইনটির বিধি প্রণয়ন করতে হবে। হাইকোর্টের রায়ের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। আদালতের রায়ের পর অরুণাচলের খ্রিস্টানদের সংগঠন অরুণাচল খ্রিস্টান ফোরাম ইটানগরে একদফায় বিক্ষোভ দেখায়। ওই সংগঠনের, দুলক্ষের বেশি সংখ্যালঘু এই আইন কার্যকর করার বিরোধিতায় পথে নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি, এই আইন কার্যকর হয়ে গেলে খ্রিস্টানদের ক্ষতি হবে। পাল্টা পথে নামছে সংঘের সংগঠন বনবাসী কল্যাণ আশ্রম-ও। পাল্টা ওই আইন কার্যকর করার দাবিতে সরব তারা। সংঘের সংগঠন কার্যত বিজেপি সরকারের উপরই চাপ সৃষ্টি করছে যাতে দ্রুত ওই আইনের বিধি প্রণয়ন করা হয়। ফলে সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। যদিও সরকার অশান্তির ভয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি। পেমা খাণ্ডু যদিও আশ্বস্ত করছেন, ওই আইন কার্যকর হবেই।
মণিপুরের পথেই হাঁটতে চলেছে অরুণাচল প্রদেশ
মণিপুরে যেমন আদালতের রায়ের বিরোধিতা করে কুকি জনগোষ্ঠী পথে নেমেছিল, অরুণাচলেও প্রায় সেই ধাঁচেই বিরোধিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আরএসএসের সহযোগী সংগঠন পথে নামছে, এমন দৃষ্টান্ত বিরল। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে সঙ্ঘের জবাব খুব স্পষ্ট নয়। তবে, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে সামাল দিতে না পারলে মণিপুরের পথেই হাঁটতে চলেছে অরুণাচল প্রদেশ।


More Stories
আতস কাচের তলায় :গেলেন ধর্মেন্দ্র, এলেন প্রহ্লাদ
ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দুটি দাবি মেনে নিল কেন্দ্রীয় সরকার