সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিপাকে পড়লেন মার্কিন মুলুকে পড়তে যেতে আগ্রহী হাজার হাজার পড়ুয়া। আপাতত বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত ইন্টারভিউ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এব্যাপারে মঙ্গলবারই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দূতাবাসে বার্তা পাঠিয়েছেন বিদেশ দপ্তরের সচিব মার্কো রুবিও। জানা গিয়েছে, এবার থেকে ভিনদেশি পড়ুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখতে কড়া আইন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনিতেই মার্কিন মুলুকের ভিসা পেতে কালঘাম ছুটে যায়। তার উপর সরকারের নয়া সিদ্ধান্তে পড়ুয়াদের মধ্যে চিন্তার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।
বার্তায় রুবিও জানিয়েছেন, ভিসার জন্য নতুন করে কোনও ইন্টারভিউর সময় দেওয়া যাবে না। তবে ইতিমধ্যেই যেসব পড়ুয়া সাক্ষাৎকারের সময় পেয়ে গিয়েছেন, সূচি অনুযায়ীই তাঁদের ইন্টারভিউ চলবে।
তবে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। তবে কতদিন কার্যকর থাকবে জানানো হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে শুধু যে বিশ্বব্যাপী ছাত্র সমাজ বিপাকে পড়েছে তাই-ই নয়, সঙ্কটের মুখোমুখি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও। আনুমানিক হিসাব হল, শুধু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেই প্রতি বছর দশ লাখের বেশি বিদেশি ছেলেমেয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে। আগামী মাস থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ চালু হওয়ার কথা। এই সময় ভিসা জটিলতায় ভর্তি আটকে থাকবে বহু পড়ুয়ার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেক পড়ুয়ার আমেরিকায় যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
তবে ভিসা নিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন?
আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভাল করে চেক করা হবে, তারা কোন জাতীয় বিষয় বেশি পোস্ট, লাইক, শেয়ার করেন তা খতিয়ে দেখা হবে, সামাজিক মাধ্যমের কোনও গোষ্ঠীতে তারা যুক্ত কিনা, সেই গোষ্ঠীগুলির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক আদর্শ কী খতিয়ে দেখা হবে তাও।
বলে রাখা ভালো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিশানা করেন। তিনি বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অতি বাম মানসিকতার ছাত্রদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেটস মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বহু পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি আমেরিকায় প্যালেস্তান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। দেখা যায়, সেগুলির জন্য সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আন্দোলনের সংশ্লিষ্টরা আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিবাদী মঞ্চ, সংগঠনের সমাজমাধ্যমের গোষ্ঠীর সদস্য। প্যালেস্টাইনে হামলার প্রতিবাদে আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইজরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যা সহ্য হয়নি ইজরায়েল-বান্ধব ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপরেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত।
ভারতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে এব্যাপারে এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, পড়ুয়াদের সমস্ত ভিসা শর্ত মেনে চলতে হবে। ২০২৩ সালে ভারতে মার্কিন দূতাবাস প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করেছিল। যা সারা বিশ্বে রেকর্ড। দ্বিতীয়বার ট্রাম্প মসনদে বসার পর থেকেই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। উদ্বেগে রয়েছেন বহু বিদেশি পড়ুয়া। গত মাসে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভিসা বাতিলের জন্য আমেরিকায় বহু ভারতীয় ছাত্র সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের পাশে রয়েছে দেশ।


More Stories
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
ভিড় সীমান্তে, ভিড় হোল্ডিং সেন্টারে
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা