সময় কলকাতা ডেস্ক:- তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান নাকি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ই নন! বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মঙ্গলবার রাতে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল। সরকারি অধ্যাদেশ জারি করে বলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীনের মতো স্বাধীনতা যুদ্ধের সেনানিরা আর বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন না। তাঁদের বলা হবে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী শক্তি। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই অধ্যাদেশ জারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশের ইউনুস সরকার। সেই সমালোচনার পরেই শেখ মুজিবুর রহমান-সহ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথমসারির সংঘঠকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে মানতে বাধ্য হল মহম্মদ ইউনুসের সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বুধবার দুপুরে বলেন, মুজিবনগর সরকারের যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তবে মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই ভাগাভাগিতে অবশ্য মর্যাদাহানী এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন হবে না।
মঙ্গলবার রাতে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের নামে জারি অধ্যাদেশে অবশ্য বলা হয়, যারা রণাঙ্গনে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা। বাকিরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। এই ঘোষণার পর দেশ-বিদেশ থেকে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। বহু মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনানি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মনসুর আলির অবমাননায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ ক্ষোভ উগরে দেন। বিদেশ থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই ব্যাপারে অসন্তোষ জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুকি সংবাদমাধ্যমের উপর দোষ চাপান।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের