সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্রথমবার দিঘায় গড়াল রথের চাকা। সমুদ্রের জোয়ারের গর্জন, রঙিন আলোকসজ্জা, কীর্তনের ছন্দ আর চন্দনের সুগন্ধ মিলে শুক্রবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দিঘা। সমুদ্রের পাড়ে এই প্রথম আয়োজিত হল জগন্নাথদেবের মহারথযাত্রা। রথযাত্রা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম দিঘায়। সৈকত শহরের প্রথম রথযাত্রার সাক্ষী হতে সেখানে সামিল হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছরের পর বছর ধরে পুরীতে যে রথযাত্রা দেখতে ছুটে যান ভক্তরা, এবার সেই অভিজ্ঞতা মিলল পশ্চিমবঙ্গের এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে। উৎসবের জোয়ারে নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হল দিঘা, যার প্রতিটি অলিগলি হয়ে ওঠে কীর্তনের ছন্দে মুখর।
সমুদ্র শহরের বুকে এই প্রথমবার গড়াল দেবত্রয়ীর রথ। কাঠের তৈরি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ যথাক্রমে নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলন রথে চড়ে ‘পাহান্ডি বিজয়’-এর মধ্য দিয়ে রওনা দেন মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। উৎসব দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় উপচে পড়ে দিঘার রাস্তায়। শুক্রবার সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড়ে জমজমাট সৈকত। ছোট থেকে বড়, দেশ থেকে বিদেশ—সবাই মেতে ওঠেন একসঙ্গে রথযাত্রার আনন্দে। এই বছরের শুরুতেই দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর এটাই প্রথম রথ উৎসব। তাই স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটক, সবাই অপেক্ষায় ছিলেন এক বিশেষ দিনের। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয় পুজো। তিনটি রথ পরপর সাজানো ছিল মন্দির চত্বরে।
প্রথমে বলরামকে বসানো হয় রথে, এরপর সুভদ্রা এবং সবশেষে প্রভু জগন্নাথ। প্রত্যেক দেবতাকে নির্দিষ্ট রীতি মেনে পুজো করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত ছিলেন এই মহোৎসবে। পুজোর পর প্রথা মেনে পুরোহিতরা জগন্নাথদেবকে কাঁধে করে নাচতে নাচতে মন্দির থেকে বের করে রথে বসান। সেসময় তাঁর রথটি ঢাকা ছিল শাড়ি দিয়ে, যা আরতির পর খুলে দেওয়া হয়। দুপুর ২ টোর সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে জগন্নাথের আরতি করেন। আর ঠিক ২:৩০ নাগাদ রথ রওনা দেয় মন্দির থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ‘মাসির বাড়ি’-র উদ্দেশে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি