Home » ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল’ জয়! মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ব’ আরও স্পষ্ট

ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল’ জয়! মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ব’ আরও স্পষ্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু চর্চিত বিগ বিউটিফুল বিল টায়ে টায়ে পাশ হয়ে গেল। ক্ষমতা বাড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের। এই বিলের মাধ্যমে কর হ্রাস, সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ কমানো, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ানো ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে খরচ বাড়ানো-র কথা বলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিলকে বিগ বিউটিফুল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে মার্কিন সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি টায়ে টায়ে পাশ করেছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির পর দেখা যায় পক্ষে ২১৮ এবং বিপক্ষে ২১৪টি ভোট পড়ে। বিলটি আগেই মার্কিন সিনেটে পাশে হয়। সেখানে জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি হয় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টে জেডি ভান্সের কাস্টিং ভোটে।

তার আগে পক্ষে-বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়েছিল। সিনেটে তিন রিপাবলিকান এমপিও বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে মাত্র ৪ ভোটের ব্যবধানে মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হয় ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল। বিলটি পাশ হওয়ার পর মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসন সেটিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ট্রাম্প সই করলেই সেটি আইনে পরিণত। নয়া আইনের সুবাদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন। বড়সড় জয় পেয়ে সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, এই প্রথমবার এমন বিরাট মাপের বিল পাশ হল। নতুন আইনের ফলে রকেট শিপের মতো উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে আমেরিকা।

বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। অনেকেই মনে করছেন, প্রচার পর্বে আমেরিকাকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির পূরণের পথ সুগম হল এ বার।

২০১৭ সালের ট্যাক্স কাট থেকে অভিবাসন দমন তহবিলের বাস্তবায়নে আর বাধা রইল না।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই বিল ঘিরেই এলন মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সরকারি ব্যয় সংকোচের যে বিল নিয়ে এত সংঘাত, ক্ষমতায় এসেই সেই দফতরের প্রধান করা হয়েছিল এলন মাস্ককে। যদিও সংঘাতের জেরে সেই দফতর থেকে বহু আগেই ইস্তফা দিয়েছেন টেসলা কর্তা।

তিনি বলেছিলেন, ওই বিল আইনে পরিণত হলে তা হবে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। বিলটি আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান ধ্বংস করে দেবে। এটা উন্মাদ এবং ধ্বংসাত্মক। যদিও নতুন অর্থবিলটিকে বরাবর বড় এবং সুন্দর বিল বলেই ব্যাখ্যা করে এসেছেন ট্রাম্প।

তবে, আইনটি মার্কিন নাগরিকদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, মনে করছেন অনেকেই। প্রেসিডেন্ট ইচ্ছে মতো বরাদ্দ কাটছাঁট করতে পারবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের আশঙ্কা মার্কিন সামাজিক প্রকল্প, বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দে বড় ধরনের থাবা পড়তে চলেছে। আগেই ইউএসএআইডি-সহ আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলির বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তারফলে বিশ্বব্যাপী কয়েক কোটি মানুষ রোজগার হারিয়েছেন।

শুধু বাংলাদেশেই প্রায় পনেরো লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। নয়া আইনে মার্কিন নাগরিকেরাও সুবিধা বঞ্চিত হবেন। সেই অর্থ ট্রাম্প সেনাবাহিনীর জন্য খরচ করবেন। তিনি বিশ্বের বহু দেশে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে চলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি মৃদু যুদ্ধ শুরু করেছেন।

About Post Author