সময় কলকাতা ডেস্ক:- অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ ধস নেমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জম্মু-কাশ্মীর। মঙ্গলবার গভীর রাতে বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথে ধস নামার ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ। আশঙ্কা, ধসের কবলে এখনও কিছু মানুষ আটকে রয়েছেন। বুধবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।
তবে শুধু বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথ নয়, ভারীবৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত গোটা জম্মু ও কাশ্মীর। মঙ্গলবার দুপুর অর্ধকুয়ারিতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে বড়সড় ধস নামে। আচমকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাথর, বোল্ডার নেমে আসায় পুণ্যার্থীদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ধসের নিচে চাপা পড়ে যান অসংখ্য পুণ্যার্থী।
এর জেরে মঙ্গলবারই জানা গিয়েছিল ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৪ জন। বুধবার সকালে সেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০ জনের বেশি।
এখনও ধসের নীচে বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক্স হ্যান্ডেলে ধসের বিষয়ে জানিয়েছে বৈষ্ণোদেবী তীর্থ কর্তৃপক্ষও। এই ঘটনার জেরে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে আতঙ্কের মেঘ জমেছে। কাঠুয়া, ডোডা, জম্মু, সাম্বা, রামবান এবং কিস্তওয়ার জেলাগুলিতে মঙ্গলবারই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
এর পর মঙ্গলবার মেঘভাঙা বৃষ্টি নামে ডোডায়। ভয়ংকর বৃষ্টির জেরে আসে হড়পা বান। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে, অনেক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, নষ্ট হয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জম্মু ও রিয়াসি জেলায়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে। অস্থায়ী ক্যাম্পে তাঁদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যাঁরা গুরুতর জখম, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু-তিনদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কাটরা, জম্মু, সাম্বা, রিয়াসি, উধমপুর, ডোডা এবং কিস্তওয়ার জেলায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে।
নদীর জল বিপজ্জনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। পরিস্থতি এতটাই গুরুতর আকার নিয়েছে যে ভূমিধসের ভয়ে বন্ধ রাখা হয় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
নদীর জলস্তর বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। রাতভর বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে। ধসপ্রবণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


More Stories
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
প্রাকৃতিক বিপর্যয় : লাইফলাইন এনএইচ ৭১৭