ভয়াবহ, মর্মান্তিক বললেও কম বলা হয়। তামিলনাড়ুর কারুরে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক মিছিলে মৃতের সংখ্যা ৩৫ ছাড়িয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এবার সাহায্যের আশ্বাস দিলেন তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগামের প্রধান বিজয় থলপতি। তিনি ঘোষণা করেন, এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে সহায়তা করা হবে এবং আহতদের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রবিবার বিজয় এককালীন অর্থ সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তামিলনাড়ুর কারুর এলাকায় এক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুমিছিল দেখেছে দেশ। পায়ের তলায় চাপা পড়ে আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
রবিবার বিজয় এক্সবার্তায় লিখেছেন, এই ক্ষতি অপূরণীয়। হৃদয় ভারাক্রান্ত। ভালবাসার লোককে হারানোর যন্ত্রণা তাঁর কাছে সবথেকে বড় বেদনা। বিজয় ছাড়াও তামিলনাড়ু সরকার মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বলেন, রাজ্যের ইতিহাসে কোনও রাজনৈতিক দলের সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। ভবিষ্যতেও এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে তামিল সরকার হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন বসিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের চেন্নাইয়ের বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হল। সূত্রে খবর, জনরোষের শিকার হতে পারেন বিজয় ও তাঁর পরিবার। জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে টিভিকে-র প্রত্যেক জেলা সম্পাদকদের নিরাপত্তাও বাড়ানো হোক।
তবে এসবের মাঝেই পদপিষ্টের ঘটনার হাত থেকে পিঠ বাঁচাতে রাতারাতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রভাবশালী অভিনেতা তথা নেতা বিজয়। বিজয়ের প্রাইভেট লিমিটেড রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম রবিবারই মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি আর্জি দাখিল করেছে। তাতে দল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, হাইকোর্ট জরুরি আবেদনকে মান্যতা দিয়েছে। পদপিষ্টের ঘটনায় হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের আবেদন করেছে বিজয়ের দল। টিভিকে-র অভিযোগ, পদপিষ্টের ঘটনায় চক্রান্ত রয়েছে। তাই তারা মনে করে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
আসলে কেঁচো খুড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়েছে। গত আগস্টে বিজয়ের দল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল একটি জনসমাবেশ আয়োজনের যেন অনুমতি দেয় আদালত। তারপর হাইকোর্টই বিজয়ের মতো জনপ্রিয় নেতার মুক্ত মঞ্চে সমাবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালত এরকমই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল দলকে। মৌখিকভাবে আদালত বিজয়কে বলে, তিনি যেন ওই সমাবেশে প্রসূতি ও দিব্যাঙ্গদের না আসার অনুরোধ জানিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। এছাড়াও বিজয়কে বলা হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবে ও আইনানুগ পদ্ধতিতে সমাবেশের আয়োজন করতে হবে। যাতে তা অন্যদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। এসবের মাঝেই ঘটে গেল পদপিষ্টের ঘটনা। আর সেখানে মৃত্যুমিছিল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী