Home » ‘CAA ক্যাম্পের ফাঁদে পা দেবেন না’ ‘কানে না শুনে চোখে দেখুন’: অভিষেক

‘CAA ক্যাম্পের ফাঁদে পা দেবেন না’ ‘কানে না শুনে চোখে দেখুন’: অভিষেক

বাংলাজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার থেকেই বাড়ি বাড়ি যাবেন কর্মীরা। এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় সিএএ ক্যাম্প চালু করেছে বিজেপি-সহ শাখা সংগঠনগুলি। যা নিয়ে বাংলার মানুষকে সতর্ক করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অসমের হিন্দুদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, এরা যে সিএএ ক্যাম্প করছে, এদের ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। যদি কেউ সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন জানান, তাহলে অসমের ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালির মতো অবস্থা হবে। সবাইকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে ফেলবে।

অভিষেক বলেন, রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যাঁরা দেশে জন্মায়নি তাঁরা ভোটাধিকারের সুযোগ পাবে না অর্থাৎ যাঁরা ওপার বাংলায় জন্মগ্রহণের পর এপারে এসেছেন তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। অভিষেক বিজেপির অন্দরেই বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে বিজেপির ঘরেই বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে। যে কারণে বিজেপির মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাই তো প্রশ্ন তুলছে, শান্তনু ঠাকুর-সুব্রত ঠাকুরকে কনভিন্স করতে পারছে না, বিজেপি সাধারণ মানুষকে কি করে সন্তুষ্ট করবে?

এ প্রসঙ্গে সোনালি খাতুনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন অভিষেক, যাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে ওপার বাংলায় পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এ ব্যাপারে অভিষেক বলেন, এখনও এসআইআর শুরু হল না, আতঙ্কে ৫ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। বিজেপির বন্ধু কমিশনের কাছে অভিষেকের প্রশ্ন, এরা যোগ্য না অযোগ্য। সোনালি খাতুনের মা-বাবার নাম রয়েছে ২০০২ সালের ভোটর তালিকায়, অথচ তাকে বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। এমনকী আদালতের নির্দেশের পরও তাঁদের ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি।

এসআইআরে যাদের নাম থাকবে না, তাদের সিএএ-র মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে বিজেপির তরফে প্রচার করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সকলকে সতর্ক করে অভিষেক বলেন, এই ক্যাম্প তো আসামে হয়েছিল, যাঁরা নাম লিখেয়েছে, তাঁদের নাগরিকত্ব গিয়েছে। তাই সকলকে বলেন, কানে না শুনে চোখে দেখুন, CAA এবং SIR নিয়ে বড় চক্রান্তের চেষ্টা হচ্ছে।

ফের কমিশন ও কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, একজনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লির বুকে আন্দোলন নিয়ে যাবে তৃণমূল। শুধু বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? যেভাবে বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেকারণেই এদের বাংলাবিরোধী বলা হয়। তাছাড়া অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কেন সীমান্তের নজরদারি শক্তপোক্ত করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

About Post Author